ঝড়ের এমন তাণ্ডব আগে দেখিনি

177

অনলাইন ডেস্ক।। সুপার সাইক্লোন আম্ফান তছনছ করে দিয়ে গেছে উপকূলীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এই মহাপ্রলয় লীলায়। আম্ফানের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়েছে সাতক্ষীরা উপকূল। এই জেলার সদর উপজেলায় বাড়ী জাতীয় নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের।

সকালে ঝড়ের দুর্বিসহ সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে সাবিনার কণ্ঠ যেন জানান দিচ্ছিল, পুরো রাতের ভয়টা এখনও কাটেনি তার। সদর উপজেলার পলাশপলের সবুজবাগে একটি পাকা ঘরসহ বাড়ি কিনেছেন সাবিনারা, সেখানেই থাকেন।

‘আমাদের ঘরের কোন ক্ষতি হয়নি। তবে রাত ১১-১২টার দিকে মনে হয়েছিল সবকিছু উড়ে যাবে। আমাদের বাড়ির কয়েকটি গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়েছে। পাশের বাড়ির মানুষের ঘর উড়ে যাওয়ায় তারা ছুটে এসে আমাদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে সকালে ফিরে গেছেন’- সাইক্লোন আম্ফানের বর্ণনা দিচ্ছিলেন সাবিনা খাতুন।

২৪ ঘন্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই সাবিনাদের এলাকায়। মোবাইল চার্জ শেষ হওয়ায় কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছিলেন না, ‘গতকাল (বুধবার) সকাল থেকে বিদ্যুৎ নেই আমাদের এখানে। এখনও আসেনি, ইন্টারনেটও নেই। ল্যাপটপ ওপেন করে কিছু সময় মোবাইল চার্জ দিয়ে আবার বন্ধ করে রাখি। এভাবে জরুরি কিছু যোগাযোগ করতে হচ্ছে। এখন আমার মোবাইলে মাত্র ৪ পার্সেন্ট চার্জ আছে। বন্ধ হওয়ার সংকেত দিচ্ছে।’

উপকূলে নিম্নচাপ হলে যেসব জেলায় ঝড়-বৃষ্টি হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাতক্ষীরা। তাই ছোট সময় থেকেই এই ধরনের দুর্যোগ অভ্যস্থ সাবিনারা। কিন্তু এবারের এই সাইক্লোন তার কাছে অন্যরকমই মনে হয়েছে।

সাবিনার ভাষ্যে, ‘ঝড় হলে সাধারণত একদিক থেকে বাতাস আসে। কিন্তু এই আম্ফানের কোন দিক ছিল না। গাছ ভাঙার শব্দ, টিনের চাল উড়ে যাওয়ার শব্দ। একটা বিভীষিকাময় অবস্থা। বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে ঝড় দেখে আসছি। কিন্তু এমন কখনও দেখিনি, এমন ভয়ও পাইনি। এ মুহূর্তে এখানে কোন বাতাস নেই, তবে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি আছে।’

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!