ট্রেনে স্ত্রীকে বসতে দেয়ার অনুরোধ করায় স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেক্স।।

145
দু’বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে ভিড়ের মধ্যে ট্রেনে দাঁড়িয়ে আছে স্ত্রী। চোখের সামনে স্ত্রীর এমন অসুবিধা দেখে সিটে বসে থাকা নারীদের খানিকটা সরে বসার অনুরোধ জানিয়েছিলেন স্বামী। যাতে মেয়েকে নিয়ে সিটে বসতে পারেন স্ত্রী। কিন্তু সেই অনুরোধের পরিণতি হলো মর্মান্তিক। শুধুমাত্র সরে বসার অনুরোধ করায় যাত্রীদের পিটুনিতে প্রাণ হারালেন স্বামী। স্ত্রীর সামনে ট্রেনের যাত্রী পিটিয়ে মারল তার স্বামীকে।
ভারতের কলকাতা থেকে মুম্বাই লোকাল ট্রেনে এমন কাণ্ড ঘটেছে। নিহতের নাম সাগর। বয়স ২৭। ভিড় ট্রেনে চেপেই এক আত্মীয়ের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যেতে সপরিবারে রওনা দিয়েছিলেন সাগর।
ভারতের গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে কল্যাণ থেকে মুম্বাই-লাতুর-বিদর এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন সাগর। স্ত্রী জ্যোতির কোলেই ছিল দু’বছরের কন্যা শিশু। জেনারেল কামরায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। কোনোক্রমে এক কোণে দাঁড়িয়েছিলেন তিনজন। স্ত্রী যাতে সন্তানকে নিয়ে বসতে পারেন, তার জন্য সামনের আসনে থাকা মহিলাদের তিনি খানিকটা সরে বসতে বলেন। অনুরোধের সুরেই একটু অ্যাডজাস্ট করে বসতে বলেছিলেন। কিন্তু যাত্রীরা সে কথা কানে তোলেননি। উল্টো সাগরকে কটূক্তি করতে থাকেন মহিলারা। তারপরই শুরু হয় বচসা।
রেলওয়ের এসপি দীপক সাতোরি জানান, প্রথমে কথা কাটাকাটি আর তারপরই হাতাহাতি শুরু হয়। ১২ জন যাত্রী তার ওপর চড়াও হয়। যার মধ্যে ছয় জন মহিলাও ছিলেন। সাগরকে মাটিতে ফেলে কিল-চড়-ঘুষি-লাথি মারতে থাকেন যাত্রীরা। উত্তেজিত যাত্রীদের কাছে স্বামীর প্রাণভিক্ষা চান জ্যোতি। এক হাতে মেয়েকে সামলান আর অন্য হাতে মার থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। অপ্রীতিকর অবস্থা দেখে চিৎকার করে কেঁদে ওঠেন জ্যোতি।
প্রায় এক ঘণ্টা এমন মারের পর দাউন্দ স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ালে ছুটে আসে পুলিশ। সাগরকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় ছয় মহিলা ও তিন পুরুষ যাত্রীকে আটক করে পুলিশ।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!