‘ডিসিজ এক্স’ কঙ্গোয় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে

অনলাইন ডেস্ক।।

86

সার্স, ইবোলা ও নিপার মতো ভাইরাসে বেশ কয়েক বছর ধরে বিপর্যস্ত মানুষ। এর মধ্যে থাবা বসিয়েছে করোনাভাইরাস। তবে এখানেই শেষ নয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখনো অনেক কিছু বাকি আছে। সম্প্রতি কঙ্গোর একটি জঙ্গলে ‘ডিসিজ এক্স’ নামে নতুন এক রোগের খোঁজ মিলেছে, যা করোনাভাইরাসের চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ। এর উপসর্গ অনেকটাই ইবোলার মতো।

সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঙ্গোর একটি জায়গার কিনশাসা। সেখানে এক নারীর বেশকিছু দিন ধরে প্রচন্ড জ্বর। চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তবে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। তার রোগের লক্ষণগুলো অনেকটা ইবোলার মতো। ওই নারীকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখা হয়েছে। নিজের পরিবারের সঙ্গেও তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। ব্রিটেনের সেলের মতো একটি ঘরে তাকে আইসোলেট করে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসকরা তার ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন। ওই নারীর পরিচয়ও আপাতত গোপন রাখা হয়েছে। তবে ভালো খবর হলো, এ রোগের চিকিৎসায় ইবোলার ভ্যাকসিনকেই প্রধান চিকিৎসার ওষুধ হিসেবে প্রয়োগ করা হয়েছে এবং তাতে আপাতত এই রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে।

ডা. দাদিন বোঙ্কোলে জানিয়েছেন, ‘যেকোনো সংক্রমণ আমাদের কাছে প্রথমে নতুন থাকে। সেটি করোনাভাইরাস হোক বা ইবোলা। এই অজানা রোগটিও আমাদের কাছে এখন নতুন। এ নিয়ে আমরা আতঙ্কিত’

১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা রোগের ভাইরাসকে চিনিয়ে দিয়েছিলেন অধ্যাপক জীন জ্যাকস মুয়েম্বে তামফুম। তিনি সিএনএনকে বলেন, মানুষ নতুন এক মরণ ভাইরাসের সম্মুখীন হতে চলেছে। আগামী দিনে অতিমারি করোনাভাইরাসের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হতে পারে।এদিকে কিনশাসার কঙ্গো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ থেকে ওই রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে জানা গেছে, তার ইবোলার কোনো উপসর্গ নেই।

অধ্যাপক মুয়েম্বে বলছেন, পশুবাহিত অনেক অজানা ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল রোগ মানবদেহে প্রবেশ করতে চলেছে। ইয়েলো ফিভার, নিত্য নতুন ইনফ্লুয়েঞ্জা, রেবিস, ব্রুসেলোসিস এবং লাইম ডিসিজ পশুপাখি থেকে মানবদেহে প্রবেশ করে থাকে, যা ইতিহাসে অতিমারির কারণ ছিল। এইচআইভি হলো শিম্পাঞ্জিবাহিত একটি রোগ, যা পরে মিউটেট করে আধুনিক মারক প্লেগ হয়ে যায়।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!