ঢাকাসহ ৪ স্থানে হাট না বসানোর সুপারিশে ‘বিব্রত’ অধিদফতর

54

অনলাইন ডেস্ক।। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসানোর পরামর্শ দিয়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় পরামর্শক কমিটি। শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ আকারে এ পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।

তবে কমিটির এমন পরামর্শে বিব্রত স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাবিত সুপারিশ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়াটাও ‘বাঞ্ছনীয়’ নয় বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একাধিক শীর্ষ দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘জাতীয় পরার্মশক কমিটি গতমাসের শেষ সপ্তাহের একটি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়েছেন। কিন্তু তাদের পরে স্থানীয় সরকারের মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশুর হাট বসানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়। ওই সভায় জাতীয় পরামর্শক কমিটির কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। ফলে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির সুপারিশ সাংঘর্ষিক হয়ে যাচ্ছে।’

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল রাখতে এবং গবাদিপশুর খামার মালিক ও ব্যক্তিপর্যায়ে কোরবানির পশুর হাটকে সামনে রেখে যারা সারাবছর গবাদিপশু পালন করেছেন, তাদের কথা ভেবে হাট বসানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট বসার সম্ভাবনাই বেশি। তবে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে হাটগুলোতে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হতে পারে।

করোনার ব্যাপক বিস্তার রোধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পশুর হাট না বসানোর পাশাপাশি এসব অঞ্চল থেকে অন্যান্য স্থানে যাতায়াত না করার জন্যও পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় পরামর্শক কমিটি।

কোরবানির পশুর হাট স্থাপন ও পশু জবাইয়ের ক্ষেত্রে পরামর্শক কমিটি আরও যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলো হলো- শহরের অভ্যন্তরে কোরবানির পশুর হাট না বসানো; খোলা ময়দানে পশুর হাট বসাতে হবে; পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি এবং অসুস্থ ব্যক্তির পশুর হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকা; পশুর হাটে প্রবেশ ও বাইরে পৃথক রাস্তা রাখা; পশুর হাটে আগমনকারী সকল ব্যক্তির মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা; কোরবানির পশু বাড়িতে জবাই না করে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে করা এবং অনলাইনে অর্ডারের মাধ্যমে বাড়ির বাইরে কোরবানি দেয়া সম্ভব হলে তা করার জন্য উৎসাহিত করা।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!