ঢাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু; নিজের করা ভবিষ্যতবাণীই সত্যি হল !

অনলাইন ডেস্ক।।

52
সুমন চাকমা। পরতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষে। ছিলেন মেধাবীও। কিন্তু নিষ্ঠুর এই পৃথিবী তাকে বাঁচার সুযোগ করে দেয়নি। বিনা চিকিৎসায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে। ফুসফুসে টিউমারের অসুখে ভুগে গতকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ২৬ মার্চ তারিখে সুমন তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়। ফেসবুকে সেটি তার শেষ স্ট্যাটাস। সে লিখে, ‘আমার করোনা হয়নি অথচ পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে করোনার জন্যই আমাকে মারা যেতে হবে।’
সুমনের বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই রিব্যাঙ দেওয়ান বলেন, ‘সুমন দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছিল। এর আগে ভারতে তার চিকিৎসা হয়। পরে সুস্থ হয়ে দেশে আসে। গত মাসে আবার সে অসুস্থ হয়। তখন দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। এসময় সে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যায় কিন্তু কোথাও তাকে ভর্তি নেওয়া হয় না। পরে সে নিজ বাড়িতে চলে যায়।’
সুমন মারা যাওয়ার পর সুনয়ন চাকমা নামে একজন তার স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘দুঃখিত সুমন, এই রাষ্ট্রের দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তোকে বাঁচতে দিলো না। ঢাকায় কতো হাসপাতাল ঘুরেছো বাঁচার জন্য, করোনা রোগী সন্দেহে কোন হাসপাতাল ভর্তি করেনি তোকে। তুমি যে দীর্ঘ সময় ধরে ফুসফুসে সমস্যায় ভূগছিলে, সেটা বলার পরেও কোন হাসপাতাল, ডাক্তার বিশ্বাসও করেনি। বাধ্য হয়ে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আর চিকিৎসার অভাবে হারিয়ে গেলে।’
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলায় বাড়ি সুমন চাকমার। তাঁর বাবা সুপেন চাকমা একজন কৃষক। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে তাঁর সংসার। সুমনই বড় সন্তান।
আরো পড়ুনঃ