তিন ফসলী জমি লায়েক পতিত দেখিয়ে অধিগ্রহনের পাঁয়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধন

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি।।

52

সোনাগাজীতে তিন ফসলী জমি লায়েক পতিত দেখিয়ে অধিগ্রহনের পাঁয়তারার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।বুধবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে মুহুরী সেচ প্রকল্প এলাকার থাক খোয়াজ লামছি মৌজার ১ ও ২ নম্বর সিটের ফসলি ভূমি রক্ষা কমিটি আয়োজিত কৃষকদের মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ফেনী-৩ (সোনাগাজী- দাগনভূঞা) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লে. জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.) বলেছেন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প করা ঠিক হবে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না।দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে ফসলি জমির বিকল্প নেই। যে জমিতে বছরে তিন ফসল হয় এমন জমি অধিগ্রহণ করে বেসরকারিভাবে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প করা হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে অমান্য করা হবে।এসময় তিনি বলেন, আমি শুনেছি এখানে একটি বেসরকারি কোম্পানি কৃষকদের তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প করার চেষ্টা করছে।

খবর পেয়ে সরেজমিনে দেখতে এসেছি- ‘আমি দেখতে পাচ্ছি এ জমিগুলো খুব উর্বর এবং তিন ফসলি জমি। এখানকার কৃষি সম্ভাবনার কথা ভেবে সরকারও কৃষি সংশ্লিষ্ট নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।যেখানে কৃষি সম্ভাবনা আছে সেখানে আমরা কেন এ সম্ভাবনাকে নষ্ট করবো। আমাদের বিদ্যুতের প্রয়োজন আছে। তবে তা ফসলি জমি নষ্ট করে নয়। সৌর বিদ্যুতের জন্য এমন যায়গা খুঁজে বের করতে হবে- যেখানে ফসল হয় না।

এমপি বলেন, আমার যেখানে বলার দরকার, লেখার দরকার তা আমি করবো। দরকার হলে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবো তবু ফসলি জমি ধ্বংস করে বিদ্যুৎ প্রকল্প করতে দেওয়া যাবে না। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সাইফ উদ্দিন আহমেদ হারুন সোনাগাজী উপজেলা থাকখোয়াজ লামছি মৌজার ১ ও ২ নম্বর সিটের ফসলি ভূমি রক্ষা কমিটির আহবায়ক জসিম উদ্দিন, সদস্য সচিব মো. মোশাররফ হোসেন আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।

ওই এলাকায় বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী সোলার পাওয়ার লিমিটেড আবাদী ভূমি অধিগ্রহণ করার প্রতিবাদে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, ভূমি মালিকরা অংশ গ্রহণ করে ৬৯ নম্বর থাকখোয়াজের লামছি মৌজার ভূমি অধিগ্রহনের প্রতিবাদ করেন। একই মৌজার দক্ষিণাংশের সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ৪হাজার একর জমি জবর দখল করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছে। ওই এলাকায়ও উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে। কিন্তু ভূমি গুলো উদ্ধার করতে পারেনি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!