তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি

61

সুভাষ বিশ্বাস, নীলফামারী প্রতিনিধি।। উজান থেকে ধেয়ে আসা পাড়াহী ঢল ও অবিরাম ভারি বর্ষনে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারী ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত, জারী করা হয়েছে রেড এলাট। যে কোন মুহুর্তে কেটে দেওয়া হতে পারে প্লাড বাইপাস। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সকলকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে। প্রবল পানির চাপে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার গ্রামগুলো ডুবে গেছে, গৃহহীন ও পানি বন্দী হয়ে পড়েছে ঐ এলাকার ৫০ হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজে ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ডুবে গেছে নি¤œ অঞ্চল। নীলফামারী ডিমলা উপজেলার টেপাখরিড়বাড়ী, পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশাচাঁপানী ও ঝুনাগাছাচাঁপানীতে তিস্তা ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। কিছামত ছাতনাই, ঝাড়শিঙ্গেশ্বর, চরখড়িবাড়ী, পূর্ব খড়িবাড়ী, পশ্চিখড়িবাড়ী, তিস্তা বাজার, তেলিরবাজার, বাইশপুকুর, ছাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ি এলাকার পরিস্থিতি একেবারে খারাপ হওয়ায় সেখানকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় প্রসাশন।

একদিকে ভয়াবহ মহামারী করোনার তান্ডব অপর দিকে পানি বন্দী অবস্থায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের প্রতিটি মানুষ। খাদ্য সংকটের আশংকায় পরিবার ও গবাদী পশু নিয়ে অনিশ্চিয়তায় দিন কাটছে প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা এসব মানুষের। তবে স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, সম্ভাব্য বন্যা মোকবেলায় সকল প্রকার প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। মানুষের খাদ্য সহায়তার পাশাপশি শিশু ও গবাদি পশুর জন্য খাদ্য সহায়তা দিতে পর্যান্ত প্রস্তুতি রয়েছে সরকারের। নীলফামারী ডিমলা উপজেলায় সরকারী ভাবে ৬০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১ লাখ টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!