তুরস্কে বিশাল সোনা ও রুপার খনি আবিষ্কার !

অনলাইন ডেস্ক।।

5

তুরস্কে বিশাল এক সোনা ও রুপার খনি আবিষ্কৃত হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ আগ্রিতে অবস্থিত এই খনিতে ২০ টন সোনা ও ৩.৫ টন রুপা মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা বারন্ক এ তথ্য জানান। আবিষ্কৃত সোনার মূল্য ১.২ বিলিয়ন ডলার ও রুপার মূল্য ২.৮ মিলিয়ন ডলার। এই খনি আবিষ্কার প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের দেশের অর্থনীতি ব্যাপক অবদান রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পে সরাসরি ৫০০ লোক নিয়োগ পাবে ও পরোক্ষভাবে দুই হাজার চাকরি সৃষ্টি করবে। ২০২২ সালের শেষ দিকে এই খনি থেকে সোনা তোলা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তুরস্কের খনি খাতে ১৩ হাজার লোক কাজ করছে। এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছয় বিলিয়ন ডলার। মন্ত্রী বলেন, ২০০০ সালের প্রথম দিকে তুরস্ক এক গ্রাম সোনাও উৎপাদন করত না।

কিন্তু গত বছর ১৮টি সক্রিয় খনি থেকে ৪২ টন সোনা উত্তোলিত হয়েছে। ২০০১ সালের আগে পর্যন্ত তুরস্ক তার চাহিদার পুরো স্বর্ণ আমদানি করত। এখন খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় বার্ষিক ২.৪ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে। গত ডিসেম্বরে আরেকটি বড় আবিষ্কার ঘটে তুরস্কে। দেশটির মারমারা অঞ্চলে ৩.৫ মিলিয়ন আউন্স স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া যায়। এর মূল্য ছয় বিলিয়ন ডলার।

আরো পড়ুন: রেডিওতে শুনে শুনে কোরাআনের হাফেজ হলেন ফিলিস্তিনের মরু রাখাল সালামাহ আলি ! সালামাহ আলি ফিলিস্তিনের মরুভূমিতে বাস করেন। তিন একজন মরু রাখাল। মরুর বুকে ছাগল চড়িয়ে বেড়ান। আর এই ছাগল চড়াতে চড়াতে রেডিওতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত শুনতেন।

এদিকে কয়েক বছর যাবৎ এভাবে রেডিও শুনে শুনে পবিত্র কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করেছেন সালামাহ। বয়স ৬০ পেরোলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে পবিত্র কোরআন আত্মস্থ করেছেন তিনি।

সে ঘটনা জানুন তার নিজের বর্ণনায়। এ ব্যাপারে আলহাজ সালামাহ বলেন, ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় পবিত্র কোরআন হেফজ শুরু করার চার বছর পর তা সমাপ্ত হয়। কারণ আমাদের এলাকায় কোনো হাফেজ কিংবা হেফজখানা নেই। হেফজের সময় পেছনের পাঠ পুনরায় পড়া খুবই জরুরি।

নতুবা পঠিত সবকিছু ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক্ষেত্রে রেডিওতে কোরআন শোনার ব্যবস্থা আমাকে অনেক বেশি সহায়তা করে। রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াতের সময় সম্পর্কে আমি জানতাম। তখন আমিও তাদের সঙ্গে শুনে শুনে কোরআন পাঠ করতাম। এভাবে তা শুনতে শুনতে আমার বিশুদ্ধ কোরআন তেলাওয়াত শেখা হয়ে যায়।

তার ভাষায়, আমি মূলত নিজের ছাগল চড়ানোর সময় রেডিওতে কোরআন তেলাওয়াত শুনতাম। এভাবে আমি তাজবিদের সব রীতি-নীতি আয়ত্ত করি। ফলে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও সুন্দরভাবে কোরআন পড়া শিখে ফেলি। তিনি আরও বলেন, অধ্যয়নের প্রতি নিজের প্রবল আগ্রহ কোরআন হেফজের ক্ষেত্রে আমাকে সহায়তা করেছে।

ছাগল চরানোর সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ভিন্ন এক জগতে চলে যাই আমি। আমার এখন ষাট বছর। কিন্তু আমি এখনও পবিত্র কোরআন বার বার পড়তে থাকি। সালামাহ বলেন, আমি মরুভূমিতে বাস করি, যেখানে কোনো হেফজখানা বা হাফেজ বলতে কিছুই নেই।

তদুপরি কোরআন হেফজের ক্ষেত্রে ‘নিঃসঙ্গতা ও অফুরন্ত অবসর সময়’ আমাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করে। সর্বোপরি মহান আল্লাহর সার্বিক সহায়তা তো আছেই। আরো পড়ুন: ভারতের মুসলিম প্রধান অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে চাইছে বিজেপি !

মুসলিম বিশ্ব কাশ্মীর ছাড়া ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে একমাত্র মুসলিম-প্রধান এলাকা হল লাক্ষাদ্বীপ – আর অপূর্ব নৈসর্গিক সৌন্দর্যে মোড়া এই শান্ত দ্বীপপুঞ্জ হঠাৎ করেই কিছুদিন ধরে ভারতে খবরের শিরোনামে হিসেবে সামনে চলে আসে।

জানা যায়, লাক্ষাদ্বীপের জনসংখ্যার প্রায় ৯৮ শতাংশই মুসলিম।আরব সাগরের বুকে গোলাকৃতি ৩৬টি কোরাল দ্বীপ (অ্যাটল) নিয়ে গঠিত এই লাক্ষাদ্বীপ, আর কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত একজন প্রশাসকই এখানে সরকারের দৈনন্দিন কাজকর্মের তদারকি করে থাকেন।

সাধারণত খুব সিনিয়র আমলা বা আইপিএস অফিসাররাই এই দায়িত্ব পেয়ে থাকেন, তবে সেই ধারায় ব্যতিক্রম ঘটিয়ে গুজরাটের একজন সাবেক বিজেপি নেতাকে এই পদটি দেয়া হয়েছে। গত ছ’মাস ধরে লাক্ষাদ্বীপে সেই প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন প্রফুল খোডা প্যাটেল, যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।

আর সেজন্য সেখানকার অধিবাসীরা ক্রমশ বিদ্রোহী হয়ে ওঠছে। দু’হাজার বারো সালে সোহরাবউদ্দিন শেখ এনকাউন্টার কেসে যখন অমিত শাহ-কে জেলে যেতে হয়েছিল, তখন গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছিলেন এই প্রফুল খোডা প্যাটেল।

আরব সাগরের বুকে লাক্ষাদ্বীপের দায়িত্ব হাতে নিয়েই তিনি এমন কয়েকটি বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার বিরুদ্ধে ওই দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দারা এখন ক্ষোভে ফুঁসছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াতে তারা ‘সেইভ লাক্ষাদ্বীপ’ ক্যাম্পেনও শুরু করেছেন, যাতে পার্শ্ববর্তী কেরালার বহু তারকা ও রাজনীতিবিদরাও সমর্থন জানাচ্ছেন।

ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ার প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে লাক্ষাদ্বীপের প্রশাসককে সরিয়ে দেয়ার আর্জি জানিয়েছেন। দেশের রাষ্ট্রপতির কাছেও একই দাবি জানিয়েছেন কেরালার বিভিন্ন দলের এমপি-রা। কিন্তু প্রফুল খোডা প্যাটেল মাত্র ছ’মাসের মধ্যে কী এমন করেছেন যাতে লাক্ষাদ্বীপ তার বিরুদ্ধে এভাবে বিদ্রোহ করে বসেছে?

তার নানা বিতর্কিত পদক্ষেপের এই তালিকা আসলেই বেশ দীর্ঘ। এখানে তার কিছু উল্লেখ করা হলো: ১. নতুন প্রশাসক প্রস্তাব করেছেন, লাক্ষাদ্বীপে গরুর মাংস বা বিফ খাওয়া নিষিদ্ধ করতে হবে।

২. জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশ যেখানে মুসলিম, সেই লাক্ষাদ্বীপে এখন মদ্যপান নিষিদ্ধ। কিন্তু নতুন প্রশাসক চান লাক্ষাদ্বীপের বিলাসবহুল হোটেল ও রিসর্টগুলো অ্যালকোহল পানীয় পরিবেশনের অনুমতি পাক।

৩. যাদের দুটির বেশি সন্তান আছে, তাদের পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়ার অধিকার থাকবে না। ৪.স্কুলে মিড-ডে মিলে এখন ডিম-মাছ-মাংসর মতো আমিষ খাবার দেওয়া হলেও তার জায়গায় শুধু নিরামিষ খাবার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

৫. গত বছর লাক্ষাদ্বীপে যারা ভারতের নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি-র বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের বেশ কয়েকজনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬. লাক্ষাদ্বীপে ‘ক্রাইম রেট’ বা অপরাধের ইতিহাস প্রায় শূন্যের কাছাকাছি – অথচ সেখানে এমন একটি আইন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে যাতে দ্বীপের প্রশাসক যে কাউকে এক বছর পর্যন্ত বিনা বিচারে আটকে রাখার ক্ষমতা পাবেন। সাধারণভাবে এই আইনটি ভারতে ‘গুন্ডা আইন’ নামেই পরিচিত।

৭. উন্নয়নের নামে লাক্ষাদ্বীপ প্রশাসন ব্যক্তি মালিকানার যে কোনও জমি অধিগ্রহণ করে নিতে পারবে। এতেই শেষ নয়, গত বছর লাক্ষাদ্বীপ বাইরে থেকে আসা প্রত্যেকের জন্য যে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা চালু করেছিল নতুন প্রশাসক আসার পর সেটাও তুলে দিয়েছেন।

ফল হয়েছে এই, গোটা ২০২০ সালে যেখানে পুরো লাক্ষাদ্বীপে একজনওও পজিটিভ কোভিড রোগী ছিল না, এখন সেখানে প্রশাসন প্রায় ৭,০০০ অ্যাক্টিভ কেস নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। লাক্ষাদ্বীপের এমপি মহম্মদ ফয়সল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “আমাদের দ্বীপপুঞ্জের মানুষের যে আচার, সংস্কৃতি বা খাদ্যাভাস – সেখানে কেন প্রশাসন হস্তক্ষেপ করতে চাইছে?” “লাক্ষাদ্বীপ যেখানে মদ খাওয়া পছন্দ করে না, সেখানে কেন অ্যালকোহলের অনুমতি দেয়া হচ্ছে?”

“আমাদের দ্বীপে গুন্ডা আইন আনার কোনও প্রয়োজনই নেই, অথচ তারপরও স্রেফ মানুষকে ভয়

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!