ত্যাগী আ’লীগ নেতা মোসলেম মিয়ার সেক্রিফাইজ

হালিম সৈকত, কুমিল্লা।।

79

উপমহাদেশের একটি সুপ্রাচীন দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। এই দলটির রয়েছে একটি ঐতিহ্য। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দলটি নেতৃত্ব দিয়েছে। সেই দলের আমি একজন গর্বিত কর্মী হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তিতাস উপজেলা শাখার ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। বৃহত্তর দাউদকান্দি থেকেই আমি দলটির সাথে ওতপ্রোতভাবে সক্রিয়। সেই সুবাদে আমি বিগত ২০ বৎসর যাবত আমার নির্বাচনী এলাকা মজিদপুর ইউনিয়নের প্রত্যেকটা গ্রামের মানুষের পাশে থাকার জন্য চেষ্টা করেছি। জীবনে যতদিন বেঁচে থাকব মজিদপুর ইউনিয়নের সকলের দোয়া, ভালোবাসা এবং সমর্থন নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আমার নির্বাচনী এলাকা বলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ এই মজিদপুর থেকেই আমি বৃহত্তর দাউদকান্দি উপজেলা থাকা অবস্থায় নির্বাচন করেছিলাম। মোসলেম মিয়া আরও বলেন, ২০০৩ সালে তখনকার বৃহত্তর দাউদকান্দি থেকে মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি নির্বাচন করি ,সে নির্বাচনে আমি প্রথমত জয় লাভ করি।

কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় তখন আমাদের ইউনিয়নের সাহাপুর কেন্দ্র আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থী ষড়যন্ত্র করে সাহাপুর কেন্দ্রে গন্ডগোল পাকায়। তখন প্রশাসন সাহাপুর কেন্দ্র স্থগিত করে দেয়। সে সময় বিএনপির প্রভাবশালী মন্ত্রী ছিলেন, ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাহার প্রভাবে ঐ কেন্দ্রে পুনঃনির্বাচন দিয়ে কুটকৌশলে আমার প্রতিপক্ষকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে।

এর মাঝে ২০০৪ সালে বৃহত্তর দাউদকান্দি থেকে তিতাস নামে নতুন উপজেলা গঠিত হয়। পরবর্তী ২০১১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পুনরায় মজিদপুর ইউনিয়ন থেকে নির্বাচন করি। সে নির্বাচনে আমাদের হোমনা-তিতাসের অভিভাবক (এমপি) না থাকার কারণে বিএনপির প্রভাবশালী মন্ত্রী প্রয়াত এমকে আনোয়ার সাহেব আমাকে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে। বিএনপির প্রার্থী জসীমউদ্দীন জয় লাভ করে।২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচনে তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে আমাকে একক সমর্থন দিয়ে আমার নাম আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এককভাবে পাঠান।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, মহিলা কোঠায় মহিলা প্রার্থী দেওয়া হয়। যার ফলে তিতাস উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮ টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকে চেরম্যান নির্বাচিত হন। কিন্তু মজিদপুর ইউনিয়ন থেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ফারুক মিয়া সরকার। এখানে নৌকা পরাজিত হয়। ২০১৬ সালে আমি নৌকা প্রতীক না পেলেও দলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে
নির্বাচন করিনি। আমি সব সময় দলের প্রতি ও আমার নেত্রীর প্রতি অনুগত এবং শ্রদ্ধাশীল।

আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২১ সালে হলে আমি তৃণমূল আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে আশা করি আমার প্রিয় অভিভাবক কুমিল্লা-২ আসনের মাননীয় এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী মহোদয় এবং আ’লীগ নেতৃবৃন্দ সর্বোপুরি জনগণের শেষ ভরসা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে দল থেকে মনোনয়ন এবং নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ করে দেন, অবশ্যই আমি ইনশাআল্লাহ শতভাগ আশাবাদী মজিদপুর ইউনিয়নের সকলের দোয়া, সমর্থন ও ভোটের মাধ্যমে আমি জয়যুক্ত হব।

আমি শিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে ঢাকাস্থ তিতাস সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেছি। এছাড়াও মৌটুপী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। বিভিন্ন সময় আমি গরিব-দুঃখী মানুষের মাঝে সহায়তা করেছি। ত্রাণ সামগ্রী ও বস্ত্র দিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছি।করোনা মহামারীর সময় ত্রাণ সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করেছি। ভবিষ্যতেও সকলের সেবায় নিয়োজিত থাকবো ইনশাআল্লাহ।

আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন নগন্য কর্মী। আমি দলকে ভালবাসি, দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। আমি তা শ্রদ্ধার সাথে মেনে নেব। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। মোসলেম মিয়া সরকার ,ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক, তিতাস উপজেলা আ’লীগ।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!