দাম ও ফলন ভালো হওয়ায় হিলিতে দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষাবাদ

সালাহউদ্দিন বকুল, হিলি প্রতিনিধি।।

52

উৎপাদন খরচ কম হওয়ায়, ও ভালো দাম পাওয়ার কারনে লাভজনক হওয়ায় শষ্যভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরের হিলিতে দিন দিন বাড়ছে সরিষার চাষাবাদ। একইসাথে পরিবারের তেলের চাহীদা মেটাতে ও তেলজাতীয় পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে সরিষা আবাদের দিকে ঝুকছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া সরিষা চাষাবাদের অনুকুলে থাকায় ভালো ফলনের পাশাপাশি ভালো দাম পেলে লাভবানের আশাবাদ কৃষকদের।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮২০ হেক্টর জমিতে থাকলেও আবাদ হয়েছে ৮২৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। উপজেলার ইসমাইলপুর, ডাঙ্গাপাড়া, জালালপুর, ছাতনি, বোয়ালদাড়সহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তিন্ন এলাকা জুড়ে সরিষার চাষাবাদ হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় বারি-১৪, বারি-১৭. বারি-১৮ জাতের সরিষার চাষাবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে সরিষার ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো ফসলের মাঠ, বর্তমানে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সরিষা বেশ ভালো রয়েছে। এমন অবস্থা থাকলে চলতি মৌসুমে ১১৯৬টন সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করছি।

হিলির চন্ডিপুর গ্রামের কৃষক পলাশ বসাক ও অনুপ বসাক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমন ধান কাটার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত প্রায় আড়াইমাস জমি পতিত থাকে। আর সরিষা চাষাবাদ করলে ঠিক সময়ের মধ্যে ফসল তুলে নিয়ে তাতে ধান চাষ করা যায় তাতে কোনরকম সমস্যা হয়না। দুফসলি জমিতে বাড়তি আর একটি ফসল চাষাবাদ করে কিছু অর্থনৈতিক সুবিধার জন্য আমরা সরিষা চাষাবাদ করে আসছি। আমি এবারে প্রায় ৯বিঘা জমিতে সরিষা রোপন করেছি। বর্তমানে যে ধরনের আবহাওয়া রয়েছে তাতে করে সরিষা বেশ ভালো রয়েছে। এমন আবহাওয়া থাকলে তাতে করে এবারে আশা করছি সরিষার বেশ ভালো ফলন হবে। বেশ কয়েকবছর ধরেই সরিষা আবাদ করি কিন্তু এবারে আবহাওয়া ভালো থাকায় রোগ পোকা মাকড়ের তেমন কোন সমস্যা না হওয়ায় ফলন ভালো হবে।

হিলির ইসমাইলপুরের কৃষক মহসিন আলী ও ইদ্রিস আলী বলেন, সরিষা চাষাবাদ থেকে শুরু করে সরিষা ক্ষেত থেকে উত্তোলন পর্যন্ত তেমন কোন খরচ নেই। লাগানোর সময় সেচ ও সার দিয়ে রোপন করার পর সরিষা চাষে আর তেমন কোন খরচ নেই। বাড়তি ফসল হিসেবে আমরা সরিষা পাই, প্রতি বিঘাতে সবমিলিয়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হলেও যে পরিমান সরিষা পাওয়া যায় তাতে করে ৮/১০ হাজার টাকা পান কৃষকরা। এতে করে বিঘাতে ৫/৭ টাকা লাভ হয় কৃষকদের। সরিষা আবাদের ফলে পরিবারের যে তেলের চাহীদা সেটাও মিটছে, এছাড়া বাড়তি সরিষা বাজারে বিক্রি করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। অপরদিকে বাড়তি হিসেবে পাওয়া সরিষার গাছগুলো পরিবারের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গতবছর ১হাজার ৭শ থেকে ৮শ টাকা বিক্রি করলেও এবারে সবধরনের তেলের দাম বেশি হওয়ায় সরিষার দাম ২ হাজারের বেশী হবে বলে আশা করছি।

মনতাজ হোসেন নামের অপর কৃষক বলেন, সরিষা হলো একেবারে ফ্রি আবাদ, সরিষা চাষে তেমন কোন খরচা নেই কিছুই নেই যা পাই সেটাই লক্ষি। বিঘাতে ৫/৭মন করে সরিষা পাই, সেটি হলে নিজের পরিবারের তেলের চাহীধা মেটানোসহ কৃষকের অনেক উপকার হয়। এর উপর সরিষা তুলে সেই জমিতে ধানও বেশ ভালো হয় তেমন কোন সার দিতে হয়না।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড.মমতাজ সুলতানা বলেন, কৃষকরা সরিষা চাষ করে আশানুরুপ দাম পাওয়ায় ও লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। যার কারনে দিন দিন এই উপজেলায় সরিষার চাষাবাদ বাড়ছে। এছাড়াও সরকারী ভাবে ৩৮০জন কৃষককে ১ কেজি করে সরিষা বীজ ও ১০ কেজি করে এমওপি ও ১০ কেজি করে ডিএপি সার বিতরন করা হয়েছে। এতে করে কৃষকরা সরিষা চাষাবাদের দিকে উৎসাহিত হচ্ছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে যাতে করে কৃষকরা আরো আশানুরুপ ফল পেতে পারে। এবারের আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য বেশ ভালো রয়েছে, রোগ পোকা মাকড়ের আক্রমন না থাকায় ফসল ভালো রয়েছে, তাতে করে ভালো ফলনের আশা করছি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!