দূর্ভোগের অপরনাম মরণফাঁদ খ্যাত ‘কুমিল্লার-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক’

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।।

78
দূর্ভোগের অপর নাম-‘মরণফাঁদ খ্যাত ‘কুমিল্লা- সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক।’ দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের সাথে যোগাযোগর একমাত্র মাধ্যম এ সড়কের সংস্কার কাজ চলছে কচ্ছপ গতিতে। যানজটের স্থবিরতায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগী বহনকারী এ্যাম্ব্যুল্যান্স, অফিস, স্কুল- কলেজ ও জরুরী কাজে গমনকারী নারী-শিশু-বৃদ্ধ যাত্রী সহ মালবাহী পরিবহনগুলো।
গন্তব্যে পৌঁছার অনিশ্চয়তার শংকা নিয়ে রাত- দিন যাত্রী ও মাল পরিবহনগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কেই কাটাতে হচ্ছে। সড়কের চরবাকর থেকে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৮কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দু’পাশে কখনো কখনো ৭/৮ঘন্টা স্থায়ী জ্যামে শত শত পরিবহন আটকে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
গত বছরের জুন মাসে ২০১৯-২০২০ইং অর্থবছরে ‘কুমিল্লা- সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক’র কুমিল্লা ময়নামতি ক্যান্টনম্যানট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার অংশ পর্যন্ত ৪০কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। উক্ত দরপত্রে ‘হাসান টেকনো বিল্ডার্স’ ও ‘মেসার্স সোহাগ এন্টার প্রাইজ’ ২৩কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যায় হিসেবে কাজটি পান। দরপত্রে কাজটি সম্পন্ন করায় ২০১৯ সালের ৯ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯মাস সময় সীমা বেঁধে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময় সীমা’র মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কবে নাগাদ তা শেষ হবে তার সঠিক কোন দিনক্ষণ জানতে পারছেন না ভোক্তভূগীরা। সড়ক নির্মাণকালে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নাম, পকল্পের কাজের ধরন, প্রাক্কলন ব্যায় কত, কার্যাদেশ কবে পেয়েছে, কবে নাগাদ শেষ হবে ? তার বিস্তারিত তথ্যসমআলিত একটি সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রাখার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এ ব্যাপারে সেল ফোনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধীকাদের সাথে যোগাযেগ করার চেষ্টা করেও তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লা’র নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ জানান, জনদূর্ভোগ বিবেচনা মাথায় রেখেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বলেছি ৩ মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সহ আমরা বৈঠকে বসেছিলাম। ওই বৈঠকে সর্বোচ্চ দ্রুততার সাথে কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে বিশেষ করে দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকার ১হাজার ১শত মিটার সড়ক ঢালাইয়ের কাজটি ৩মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছি। বিকল্প সড়ক থাকলে এক মাসের মধ্যেই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। বিকল্প সড়ক না থাকায় বর্তমানে এক পাশের ১২ফুট সড়ক সম্পন্ন করা হবে, অপর পাশের কাজ শুরু করার সময় ওই পাশের সড়কের অংশ উন্মোক্ত করে দেয়া হবে। এ সাময়িক সময়ের দূর্ভোগটা মেনে নিতে হবে। আগামী দু’বছরের মধ্যেই সড়কটি ফোরলেইন থেকে সিক্স লেইনে উন্নিত করা হবে। দেবীদ্বার অংশের নিউমার্কেট এলাকার প্রায় ৫০মিটার সড়কের প্রসস্থ মাত্র ২০-২৪ফুট, তার উপর জেলা পরিষদের জায়গায় সড়ক ঘেষে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে, ফোরলেই করা হবে কি ভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জেলা পরিষদের মার্কেটই নয়, বহুতল ভবনও ভাঙ্গা হবে। তিনি বলেন, সড়কের দেবীদ্বার অংশের নিউমার্কেট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে সাবরেজিষ্টার অফিস পর্যন্ত সড়কটি সরু হলেও দু’পাশের জায়গা অধিগ্রহনপূর্বক সড়কটি সংস্কার করা হবে। এর আগে সড়কের দু’পাশের বেদখলকৃত জায়গা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
সড়ক ও জনপদ বিভাগ কুমিল্লা’র বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মস্থলে যোগদানের পূর্বে, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলীর সময় সড়কটি ফোর লেইনে জরিপ করাকালে সড়কের দেবীদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সমবায় বিভাগ, কৃষিবিভাগ, ডাক বিভাগ, জেলা পরিষদ হয়ে আরপি উচ্চ বিদ্যালয় ও থানার মধ্যবর্তী স্থান এবং সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে মাত্র ২০-২৪ফুট সড়কে জায়গা থাকয় ফোর লেইন করা সম্ভব হচ্ছিলনা।
এ অংশে দু’পাশের ব্যাক্তিগত জায়গা ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সমবায় বিভাগ, কৃষি বিভাগ, জেলা পরিষদ, ডাক বিভাগ, আরপি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, থানা ও সাবরেজিষ্ট্রি অফিস (স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, সমবায় মন্ত্রনালয়, কৃষি মন্ত্রনালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়, ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রনালয়, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, ভূমি মন্ত্রনালয়) সহ ৮টি মন্ত্রনালয়ের জমি অধিগ্রহন ছাড়া ফোর লেইন বা সিক্স লেইন সড়ক নির্মান করা সম্ভব না হওয়ায়,- সড়কের পূর্বাংশে দেবীদ্বার আজগর আলী মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছ থেকে গোমতী নদীর মৃত অংশের উপর দিয়ে জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজ’র পাশ দিয়ে টু’লেইনের আরো একটি সংযোগ সড়ক নির্মানের পরিকল্পনা ও নক্সা তৈরীর কাজ হাতে নেয়া হয়েছিল।
ওই লক্ষ্যে আবাসিক এলাকা সহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ, ভূমি অধিগ্রহনের পরিমাপ সম্পন্ন করা হয়। দেবীদ্বার সদরের নিউমার্কেট এলাকার দৈনিক বাজার, স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স, সমবায় সমিতি’র বহুতল ভবন, কৃষিবিভাগ, ডাক বিভাগ, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, আরপি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও মাঠ, দেবীদ্বার থানা, সাবরেজিষ্ট্রি অফিস সহ প্রায় ৫০মিটার এলাকার সড়কের প্রসস্ত রয়েছে মাত্র ২০-২৪ফুট। এদিক দিয়ে ফোরলেইন বা সিক্স লেইন সড়ক করতে হলে নিউমার্কেট এলাকার দু’পাশে থানা গেইট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণের বিকল্প নেই।
বড়আলমপুর গ্রামের বিশিষ্ট ঠিকাদার হাজী নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, কুমিল্লা ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল পর্যন্ত সড়কের বেহালদশা নতুন নয়, এ দূরাবস্থা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ্ উঠা, দেবে যাওয়া, খানাখন্দ, ভাঙ্গাচুড়া, গর্তের কারনে শুধু যানজটই নয়, প্রায়ই সড়ক দূর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে ‘কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক’র বুড়িচং উপজেলার ‘কংশনগর বাজার’, দেবীদ্বার সদর এলাকার বানিয়াপাড়া মাটিয়া মসজিদ থেকে নিউমার্কেট দৈনিক কাঁচা বাজার, হাসপাতাল গেইট ও থানা গেইট হয়ে জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজ’ পর্যন্ত এবং মুরাদনগর উপজেলার ‘কোম্পানীগঞ্জ বাজার’ এলাকায় নিত্যদিনের যানজট রুটিনে পরিনত হয়ে আছে। এসব এলাকায় সড়ক ও জনপদের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা, দৈনিক বাজার, হকার এবং পৌরসভার ইজারায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ষ্ট্যাশন, ব্যটারী চালিত অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, ট্রাক্টর’র দখলে থাকায় যানজট থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি দেবীদ্বার উপজেলা সভাপতি আব্দুল ওয়াদুধ বলেন, মাঝে মাঝে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন সহ ভোক্তভূগী জনগন সড়ক সংস্কার ও যানজট নিরসন, সড়কের উপর থেকে সিএনজি ষ্ট্যাশন, কাঁচা বাজার, অবৈধ স্থাপনা, হকার উচ্ছেদ, পয়নিষ্কাশনে এবং যানজট এরিয়ে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলে ‘আজগর আলী মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ থেকে ‘জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজ’ পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে আরসিসি ড্রেন নির্মান ও ড্রেনের উপর দিয়ে ফুটপাত নির্মান, নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্তর’র নিকট একটি ফুট ওভার ব্রীজ নির্মান সহ নানা দাবীতে সড়ক অরোধ, মানবন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ এবং প্রশাসনের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে আসলেও সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সংস্কার এবং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উদ্যোগে মোবাইল টিম কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। যার স্থায়ীত্ব সাময়িক সময়ের জন্য, কিছুদিন না যেতেই অবৈধ স্থাপনাগুলো যেমন পূর্বের অবস্থানে দাড়িয়ে যায় তেমনি নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা সড়ক পূর্বের চেহারায় চলে আসে।
পৌর এলাকার সাইলচর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মোঃ আলমগীর সরকার বলেন, বিগত এক যুগ ধরে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উদ্যোগে সড়কটি কখনো সিক্স লেইন, কখনো ফোরলেইন কখনো টু’লেইনে করার পরিকল্পনা একনের সভায় উত্থাপিত হলেও বাস্তবায়নের আশ^াস ফাইলবন্দী হয়ে আছে। গত কয়েক বছরে একাধিক সার্ভেয়ার টিম, এলও অফিসের কর্মকর্তারা সড়ক ও জনপদ বিভাগ জরিপ, লেভেলিং মেসিন, দূরবিন দিয়ে সার্ভে করা, জমি অধিগ্রহণের সাইড নির্ধারন ও পরিকল্পনা, মাপঝোপ সমপন্ন করতে দেখা গেলেও সবই এখন ফাইলবন্দী। বর্তমানে আপদকালনি সময়ে ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল পর্যন্ত ৪০কিলোমিটার এলাকায় ২৪ফুট প্রসস্থে সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে।
একই সূরে ক্ষোভের সাথে হুরবানু আক্তার পলি নামে একজন নারী নেত্রী জানালেন, ইতিপূর্বে শোনেছি,- গোমতী নদীর ভেরী বাঁধের উপর দিয়ে কোম্পানীগঞ্জ ব্রীজ থেকে লক্ষীপুর গোমতী নদীর ব্রীজ হয়ে বিকল্প সড়ক তৈরী করে মহা সড়কের সাথে সংযোগ করার কথাও ছিল। বিকল্প সড়ক তৈরী না করে এবং মূল সড়কটির দেবীদ্বার নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং জেলা পরিষদের জায়গা থেকে অবৈধ স্থাপনা, হকার, কাঁচাবাজার, সিএনজি ও রিক্সা ষ্ট্যান্ড উচ্ছেদ না করে (মাটিয়া মসজিদ থেকে মহিলা কলেজ পর্যন্ত) সড়কের একপাশ অর্থাৎ –১হাজার ১শত মিটার দৈর্ঘ্যে ও ২৪ফুট প্রসস্তের মধ্যে ১২ফুট অংশ রড, সিমেন্ট, বালু দিয়ে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। তাও সপ্তাহে একদিন খোড়াখুড়ি, অন্যদিন এ্যরিয়া নির্ধারনে সাটারিং, রড বিছানো, পরে কোন এক সময় ঢালাইর কাজ চলছে। টানা কাজটি সম্পন্ন করায় ঠিকাদারদের কোন আগ্রহই দেখা যাচ্ছেনা। জানা যায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বড় বড় কাজ পরিচালনা করায় উক্ত কাজের গতি ঢিলে ঢালাভাবে পরিচালনা করছে।
তিনি আরো বলেন, অপর অংশের সরু সড়কে দু’টি গাড়ি পারাপারেই যানজট থেকেই যায়। উপরন্ত সড়কের উপর চলার কারনে এবং উপজেলা সদরে বিকল্প সড়ক না থাকায় পথচারীরা সড়ক পারাপারে দির্ঘ সময় অপেক্ষা কিংবা দির্ঘপথ ঘুরে সড়ক পারাপার হতে হয়। এছাড়া সড়কের উপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক পিলারগুলোও মারাত্মক ঝুকিতে আছে। যানবাহনের ধাক্কায় দেবীদ্বার নিউমার্কেট অংশের বৈদ্যুতিক পিলারগুলি যেকোন সময় ভেঙ্গে মারাত্মক দূর্ঘটনার আশংকা বিরাজমান।
ন্যাশনাল সার্ভে এন্ড ডিজাইন কনসালটেন্ট’র পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব মোরশেদ ভূঁইয়া বলেন, বিকল্প সড়ক তৈরী, সড়কের দু’পাশের জায়গা উদ্ধার এবং সড়কের উপর থেকে বৈদ্যুতিক খুটিগুলো না সরিয়ে সড়ক সংস্কারের কাজ ধরা ঠিক হয়নি। এদিকে জোবেদা খাতুন মহিলা কলেজ থেকে আজগর আলী মূন্সী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলো মিটার সড়কে যানজট সীমাহীন দূর্ভোগের, যা সময়ে চরবাকর থেকে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৭/৮ কিলো মিটার যানজটের কবলে থাকে। এটা সওজ কর্মকর্তা স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের অদক্ষতারই প্রমান। অপরিকল্পিতভাবে কাজের জন্য দায়সারা কাজকরাটাই তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য মনে হচ্ছে।
পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া থেকে বারেরা, ছোট আলুমপুর হয়ে মহিলা কলেজ রোডটি মহাসড়কে সংযোগের ব্যবস্থায় একটু সংস্কার করে সিএনজি, অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, ট্রাক্টর এবং রিক্সা চলাচলে উন্মুক্ত করেদিলে এবং কোম্পানীগঞ্জ গোমতী নদীর ব্রীজ থেকে গোতীনদীর ভেরী বাঁধের উপর পাকা সড়কটির দু’পাশ সংস্কার করে লক্ষিপুর গোমতী ব্রীজ হয়ে মূল সড়কে সংযোগ করে দিলে যাত্রীবাহী বাসগুলো যাতায়তের সুযোগ হতো। আর মূল সড়কে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাখরাবাদ, গোপালনগর, বাঙ্গরা, তিতাস, হবিগঞ্জ প্রভৃতি গ্যাস ফিল্ডের সঙ্গে এবং আখাউড়া বন্দরের সাথে যোগাযোগে বড় বড় ট্রলি, রড ও মেসিনারিজ মালামাল বহনকারী পরিবহনগুলো নির্ভিগ্নে যাতায়তের সুযোগ হত। কাজটি সম্পন্ন করার সময় সীমা যেহেতু চলতি বছরের ৮ সেম্টম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে, সেহেতু এসময়ে বর্ষাকাল থাকবে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দেবীদ্বার সকল ড্রেনগুলো ভরাট করে ফেলেছে। ফলে পুরো বর্ষাকাল দেবীদ্বার সদর এলাকা পানিতে তলিয়ে থাকবে।
চট্রগ্রামের ট্রলি চালক আলী হোসেন বলেন, এ সড়কটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের মানুদের একমাত যোগাযোগ মাধ্যম। চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাখরাবাদ, গোপালনগর, বাঙ্গরা, তিতাস, হবিগঞ্জ প্রভৃতি গ্যাস ফিল্ডের সঙ্গে এবং আখাউড়া বন্দরের সাথে যোগাযোগে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ক্রমবর্ধমান ভারী যানবাহনের চাপে সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি, দেবে যাওয়ার যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী ও বিপদসঙ্কুল হয়ে ওঠেছে। আমাদেরতো দূর্ভোগের অন্ত নেই, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা সড়ক দূর্ঘটনায় আহত এক রোগীর স্বজন আহম্মেদ হোসাইন জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে সিএনজি ষ্ট্যাশন থাকায় হাসপাতালের গেইট পার হয়ে ইমার্জেন্সী রোমে যেতেই প্রায় ১৫মিনিট পার হয়েগেছে, রোগীর রক্তঝরা দেখেও কোন সিএনজি চালক গেই থেকে সরে আমাদের ভেতরে যাওয়ার মানবিক চিন্তাটাও করলনা। প্রাথমিক চিকিৎসায় রক্তক্ষরণ বন্ধ করে এ্যাম্বুলেন্স যোগে কুমেক হাসপাতলে যেতে নিউমার্কেট এলাকার পার হতেই প্রায় ১ঘন্টা ৫৫মিনিট লেগেছে। রোগীকে দেখেছি তখন খুবই মূমূর্ষ অবস্থায়।

মুরাদনগর উপজেলার সুমন আহমেদ নামে এক যাত্রী জানালেন, কুমিল্লায় একটি প্রাইভেট স্কুলে ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য ভোরেই বাড়ি থেকে রওয়ানা দেন। কোম্পানীগঞ্জ বাসে উঠে একঘন্টা বসে থেকে বাস থেকে নেমে ৩কিলো মিঃ সড়ক পায়ে হেটে দেবীদ্বার আসেন। ইন্টারভিউ ১০টায় হলেও এখনই বাজে সাড়ে নয়টা।
গত ২০জানুয়ারী আকসেল খুদ নামে একজন অষ্টেলিয়ান নাগরিক দেবীদ্বার এলাকায় পায়ে হেটে যাওয়ার পথে সাংবাদিক দেখে তিনি তার পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি অষ্ট্রেলিয়া থেকে কয়েক সপ্তাহ আগে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সেবামূলক কাজ করতে বাংলাদেশে এসেছি। এদেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, দরিদ্র মানুষের জীবনচক্র নিয়ে গবেষনা এবং অগ্রগতির পথ খুঁজতে এসেছি। গত কয়েক সপ্তাহে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকা ঘূরে ট্রাফিক জ্যাম, ঘন পপুলেশন, বেকারত্ব, অনিয়ম- দূর্নীতি, দূষণ পরিবেশ দেখে আমি হতাশ হয়েছি। এসব অবস্থার উন্নয়ন করতে না পারলে এদেশ এগুতে পারবেনা। এদেশের কর্মজীবী মানুষ ট্রাফিক জ্যামের কারনে সময়ের সদব্যবহার করতে পারছেনা। শিক্ষিত লোকদের মানসম্পন্ন এবং মানবিক শিক্ষার অভাবও রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি (১৯জানুয়ারী) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর একটি অনুষ্ঠান শেষে কুমিল্লা যাওয়ার পথে এ জায়গায় (দেবীদ্বার) সাড়ে ৩ঘন্টা জ্যামে আটকা ছিলাম। রাতে অপেক্ষমান কুমিল্লার ‘এ্যলিগেন স্কুল’র শিক্ষার্থীদের কাশ করিয়ে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি। আজ সকালে কুমিল্লা থেকে বেড়িয়ে আবারো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে যাচ্ছি। দেবীদ্বারে এসে আবারো জ্যামে আটকে গেলাম। সময় বাঁচাতে পায়ে হেটে গন্তব্যে রওয়ানা হলাম। জানিনা কোথায় যেয়ে যানজট মুক্ত পরিবেশে গাড়ি পাব। সময় মতো গন্তব্যে পৌঁছতে না পারলে সমস্যা হবে। ওখানে লোকজন অপেক্ষা করছেন। আপনারা এসব সমস্যা নিয়ে লিখুন, বেশী বেশী করে লিখুন। সমাধান হবেই। তিনি নবীনগরের প্রোগ্রাম শেষে কোথায় যাবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আর ফিরবনা। আজই নবীনগরের প্রোগ্রাম শেষে আখাউড়া হয়ে ভারতে চলে যাব। আবার আসব আগামী ১০ বছর পর।
এব্যপারে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান ক্ষোভের সাথে বলেন, যদিও সড়কটি ‘সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিয়ন্ত্রন করেন। জনদূর্ভোগের বিষয় বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে সংস্কার কাজটি দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানাই, কিন্ত আমার এ অনুরোধ যেন তাদের কর্ণগোচরই হচ্ছেনা। মনে হল কাজটি দ্রুত সম্পাদনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের কোন আগ্রহই নেই।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!