নলডাঙা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পুত্র- মেয়র হতে চাইছেন

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)

44

নলডাঙা পৌরসভাটি ২০০৩ সালে গ্যাজেট হয়। কিছুদিন প্রশাসক থাকার পর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১ তে। আর তখন আব্বাস আলী নান্নু ছিলেন বিএনপি ঘরানার চেয়ারম্যান। এরপর ২০১৫ তে আওয়ামি লীগের দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত মেয়র হন শফির উদ্দিন মন্ডল। প্রচন্ড অসু¯থ থাকার কারণে তিনি এবার নির্বাচন থেকে সরে দাড়াবেন। তার পুত্র পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেনÑ মেয়র নির্বাচন করবেন।

নলডাঙা নিবার্চন এবার একটু ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। ছোট পরিসরে মাত্র ৪টি ভোট কেন্দ্রে ভোট দেবেন ৯হাজার ভোটাররা। এদিকে মেয়র নির্বাচন সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রাথমিক দৃষ্টিতে তিনজন প্রার্থীরন নাম শোনা যাচ্ছে। তবে দলের নীতি নির্ধারকরা সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে দলীয় ভাবে নমিনেটেড করা হবে। তবে এই মূহুর্তে আইয়ুব আলী মন্ডল সাহেব, সাহেব আলীসহ মেয়র পুত্র মনিরের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এলাকাতে। বয়সে নবীন ওর তারুণ্যের প্রতীক নিয়ে পারিবারিক সুত্রে আওয়ামী ঘরানার নাগরিক। নলডাঙা পৌরসভার কোনো ভবন নেই। ২০১১ থেকে কেউ চেষ্টাও করেনি। তবে বর্তমান মেয়র ৩য় থেকে ২য় গ্রেটে তুলে আনেন। নাগরিক জীবনে অনেক সুবিধা বঞ্চিত এখানকার ৯হাজার ভোটার। মনির বলেন, দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বানিজ্য করিনাই। টেন্ডার বাজিও করিনাই। সারাজীবন সচ্ছ রাজনীতি করেছি। নিবেদিত এবং নির্যাতিত কর্মীকে প্রাধান্য দিলে আমি কোনো অংশেই ঝড়ে পড়বো না। যদি কামিয়াব হতে পারি নলডাঙা পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো।

মনির এবার প্রত্যাশা করছেন, নেত্রী তার হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেবেন। চলন বিলের মাঝখানে এই নলডাঙা পৌরসভাটি অনেক সমস্যা নিয়ে তিলে তিলে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এতে যোগান দিচ্ছেন স্তানীয় এমপি শফিকুল ইসলাম শিমূল। তাঁর দিক নির্দেশনায় আর পৃষ্ঠপোষকতায় নলডাঙা আগামী দিনের আরো উন্নয়নের রোল মডেলে পৌছে দেবে এই প্রত্যাশা সকলের।

এইদিকে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নাটোর জেলার সদর, নলডাঙা, গোপালপুর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর গতবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যতামূলক নয়। মেয়রের ক্ষেত্রে এইচ,এস.সি. পাশ, কাউন্সিলর এস.এস.সি পাশ হতে হবে। এমন তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কথাটি ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ ধরণের কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেনি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!