নাটোরের দুলুর মনোনয়ন বানিজ্য না থাকলে সিংড়াতে জুইস বিএনপি’র হয়ে লড়বেন

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)

54

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নাটোর জেলার সদর, নলডাঙা, গোপালপুর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে। এবার বাগাতিপাড়া ছাড়া নাটোরের সবকটা পৌর নির্বাচনে প্রধান দুটি দলের হেবী ওয়েট প্রার্থীরা আটঘাট বেধে নির্বাচনে অংশ নেবেন। সরকার দলীয় প্রার্থীদের মাঝে রয়েছে তীব্র কোন্দল। কেউ কাউকে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি কার হাতে নৌকার টিকেট প্রদান করবে সেটা সময়ের ব্যাপার। একই ভাবে বিএনপি থেকে দল থেকে একজনকে নমিনেটেড করা হবে। তবে সিংড়ার সাধারণ মানুষ আর তৃণমূলের নেতাকর্মীদেও চাওয়া পাওয়া একটাই- তা হলো নিবেদিত কর্মীকে যেন দলীয় টিকেট দেওয়া হয়। বিএনপির ক্ষেত্রে এটা বেশী প্রয়োজন। যদি তৃণমূলের নেতাকর্মীদেও পছন্দেও তালিকায় যিনি থাকবেন, তাকে দলীয় টিকেট দিলে বিএনপি সিংড়াতে ঘুওে দাঁড়াতে বাধ্য।

এদিকে রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কবীর দুলু নাটোরের মানুষ হওয়াতে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। চলন বিলের মাছ, কাছের লাউ কোমড়া খেয়ে তিনি সঠিক প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিয়ে বানিজ্য নীতিতে নমিনেশন দিতে কাজ করে থাকেন বরাবর, এমনটাই তিনি করেন। ফলে তৃণমূলের কোড় খাওয়া নেতা কর্মীরা দিনে দিনে দুলুর উপর নাখোশ। কেন্দ্রীয় ভাবে এসব তথ্য যাচাই না করে দুলুর সুপারিশকে প্রাধান্য দেওয়া আর মনোনয়ন বানিজ্য বহাল থাকলে বিএনপির অস্তিত্ত খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা। ১৯৯৯ সালের ১০ই জানুয়ারী পৌর সভা গ্যাজেট হয়। ঐ বছর ২৮ শে অক্টোবর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে তৎকালীন টি.এন.ও জীবন কুমার বাবু প্রশাসক ছিলেন। আর প্রথম মেয়র শামীম আল রাজী। টানা কয়েক বছর মেয়র ছিলেন। ২০১৮ ডিসেম্বরের ০৭ তারিখ তিনি মারা যান। তার আগে ২০১৫ তে নির্বাচনে একক প্রার্থী মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস মেয়র হিসাবে জয়লাভ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমার ২৮ দফা ইস্তেহার ঘোষনার মধ্য দিয়ে আমি সিংড়াকে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষের প্রত্যাশ্যা থাকে অনেক। তাদের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। আমার বরাদ্দ আর বাজেটের সীমাদ্ধতা বিষয়টি মাথায় রেখে আমি জনগনের কাছাকাছি এখনো আছি।

বর্তমান মেয়র ছাড়াও আওয়ামী লীগের টিকেট চান- প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা, চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ গোলাম মহিউদ্দিন টিপু, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক রকি, পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান(রঞ্জু মাস্টার), যুবলীগের কামরুল হাসান, আওয়ামী লীগের আরেক তরুণ নেতা আদনান মাহমুদ। আর মীর শরিফুল ইসলাম জুইস সহ বিএনপির শাখাওয়াত হোসেন শাকা, তাইজুল ইসলাম ও মাহিদুল ইসলাম। সবাই বলছেন, জনগনের সাথে সম্পৃক্ত আছি। দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর গতবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যতামূলক নয়। মেয়রের ক্ষেত্রে এইচ,এস.সি. পাশ, কাউন্সিলর এস.এস.সি পাশ হতে হবে। এমন তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কথাটি ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ ধরণের কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেনি। এদিকে বিএনপির হেভী ওয়েট প্রার্থী [মীর শরিফুল ইসলাম জুইস এবার একটু নড়ে চড়ে বসবেন। পড়াশুনাটা সিংড়াতেই শুরু। এখানেই শেষ। ছাত্র অবস্থায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্ভুদ্ধ ছিলেন। যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্যদিয়ে সিংড়াতে তার উত্থান। টানা ১০ বছর যুবদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এরপর সেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন। বিএনপির যুগ্ম আহবায়কও ছিলেন এক সময়।

পরবর্তীতে উপজেলা বিএপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে এডহক কমিটির অন্যতম সদস্য। এদিকে দুলুর একক সিদ্ধান্তের কারণে নাটোরের সবকটি উপজেলা ও পৌর কমিটিগুলো তার পছন্দের লোক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ফুসে উঠছেন দিনে দিনে। এ প্রসঙ্গে মেয়র প্রার্থী মীর শফিকুল ইসলাম জুইস বলেন, তৃণমূলে যারা এতদিন দুঃসময়ে বিএনপিকে আগলে রেখেছেন তাদেরকে এবার মূল্যায়ন করা হোক। তিনি বলেন, দলের হাই কমান্ড তথা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক জিয়া’র প্রতি আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে- মনোনয়ন বানিজ্য পাশ কাটিয়ে যদি তৃণমূল থেকে যাচাই বাছাই করে প্রার্থীকে নমিনেটেড করা যায়, তাহলে বিএনপি সিংড়াতে ঘুরে দাঁড়াতে বাধ্য। মাত্র ২২.০৫ বর্গকিলোমিটারের সিংড়া পৌরসভাতে ১২ টি ওয়ার্ড। বর্তমানে ৩৬ হাজার ৫ জন ভোটার। এর মাঝে নবীন ও তরুন ১৮% ভোটার আগামীতে মীর শরিফুল ইসলাম জুইস কে মেয়র নির্বাচিত করতে তার পিছনে একাট্টা।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!