নাটোরের বেনু আপা-তৃণমূলের কথা আর উন্নয়নের রাজনীতি করতে চান আগামী পৌর নির্বাচনে

শান্তনু হাসান খানের বিশেষ সাক্ষাৎকার।।

248

রানী ভবানীর নাটোর। বনলতার নাটোর। আর সুগার মিলের নাটোর-এখন অনেকটাই বদলে গেছে। এই বদলে যাওয়ার মধ্যে মানুষও বদলে যাচ্ছে। আর বদলে যাচ্ছে সামাজিকতা। এই সমাজকে নিয়ে যারা একটু ভাবেন-তাদের মধ্যে একজন বেনু আপা অন্যরকম মানুষ। নাটোরের লালপুর উপজেলা গোপালপুরের মেয়ে। পড়াশোনাটা করেছেন গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল স্কুলে। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছেন, আশপাশের লোক গুলো সবাই রাজনীতি আর সমাজনীতি করছেন। নিকট আত্মীয় স্বজনকে দেখেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে তারা এলাকায় রাজনীতি করছেন।

পুরো নাম কাজী আসিয়া জয়নুল বেগম বেনু। গোপালপুরের পৌর এলাকার ভোটার। ১৯৮০ সাল থেকে আওয়ামী ঘরনার সাথে সম্পৃক্ত। ১৯৮২ সালে লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার উত্থান। এর আগে বেনু লালপুর উপজেলার ছাত্রলীগের সদস্য ছিলেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত। এর পর আর বেনু আপাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয় নি। ১৯৯৬ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত নাটোর জেলার মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন এর আগে আমি ৪ বার সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি’র জন্য নমিনেশন চেয়ে ছিলাম। আর ১ বার সাধারণ নির্বাচনের জন্য। এই ৫ বার আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশায় মুখোমূখী হয়েছিলাম। আশ^াসের উপর ভর করে বসে আছি এতদিন। তৃণমূলের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতাটাই আলাদা। আমার দৃঢ় বিশ^াস-স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি তথা আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাকে বিমূখ করবেন না। আর দলীয় ভাবে নমিনেটেড হলে ইনশাআল্লাহ যে কোন প্রার্থীকে ডিঙ্গিয়ে গোপালপুর পৌরসভা নির্বাচনে আমি জয়ী হতে পারবো।

কাজী আসিয়া জয়নুল বেগম বেনু জীবনের অনেকটা সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে জামাত-বিএনপির জোটের হামলা মামলা কোনঠাসা ছিলেন। বিএনপির আমলে তাকে ঘড় থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। তারপরেও নির্যাতন সহ্য করে গোপালপুর থেকে ছুটে গিয়ে নাটোরে আন্দোলনে শরিক হয়েছিলেন। সৈরাচার পতন আন্দোলনে একমাত্র মহিলা কর্মী-আজকের বেনু আপা সেদিন রাজ পথে ছিলেন। এসব কথা আজ তারাই বলতে পারবেন, যাঁরা আজ অনেকেই বেঁচে নেই। শহীদ মমতাজ উদ্দিন আর সাংসদ আবুল কালাম- তারাই বলতে পারবেন বেনুর অবস্থানটা কি ছিল ?

বেনু আপা এবার পৌর নির্বাচনে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বললেন জননেত্রী শেখ হাসিনা একদিকে রাষ্ট্র প্রধান, অন্য দিকে সন্তনের মা। দেশের নারী জগতে অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি। মানবতার মা হয়ে পুরষ্কৃত হয়ে বিশে^র অন্যতম মহিলা নেত্রী বনেছেন। আমার দৃঢ় বিশ^াস তিনি এবার নারীর ক্ষমতায়নে আরো দৃষ্টান্তমূলক কাজ করে নন্দিত হবেন। আর আমিও চাইব তাঁর ¯েœহ ভাজন হয়ে তৃণমূলের নেতৃত্ব দিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নের রাজনীতিতে কিছু একটা অবদান রাখতে।

ব্যক্তিগত জীবনে কাজী জয়নুল আবেদীন (সিআইসি অবঃ) নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের কর্মকর্তার সহধর্মিনী। আর দুই পুত্র কাজী আনোয়ারুল আবেদীন বাপ্পি ও আলাউল আজীম জন সহ জাকিয়া আফরিন তানিয়ার মা। তিনি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন দীর্ঘদিন। গোপালপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাল প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও আদর্শ সমাজ কল্যাণ সংস্থা, মানবাধিকার বাংলাদেশ, এনজিও ফোরাম, মানব উন্নয়ন সংস্থা, প্রতিবন্ধি কমিটিসহ উপজেলা ব্রাক ওয়াস কমিটির সাথে সম্পৃক্ত।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!