নাটোরের সিংড়া পৌরসভা নতুন প্রার্থীদের নতুন চমক

শান্তনু হাসান খান, বিশেষ প্রতিনিধি।।

926

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নাটোর জেলার সদর, নলডাঙা, গোপালপুর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে। এর পর আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা চলবে। তবে চলতি বছর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর গতবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যতামূলক নয়। মেয়রের ক্ষেত্রে এইচ,এস.সি. পাশ, কাউন্সিলর এস.এস.সি পাশ হতে হবে। এমন তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কথাটি ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ ধরণের কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেনি।

আর সেই আলোকে এবার সিংড়া পৌরসভা নির্বাচন চূড়ান্ত। ১৯৯৯ সালের ১০ই জানুয়ারী পৌর সভা গ্যাজেট হয়। ঐ বছর ২৮ শে অক্টোবর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে তৎকালীন টি.এন.ও জীবন কুমার বাবু প্রশাসক ছিলেন। আর প্রথম মেয়র শামীম আল রাজী। টানা কয়েক বছর মেয়রের পর শেষের দিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৮ ডিসেম্বরের ০৭ তারিখ তিনি মারা যান। তার আগে ২০১৫ তে নির্বাচনে একক প্রার্থী মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস মেয়র হিসাবে জয়লাভ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমার ২৮ দফা ইস্তেহার ঘোষনার মধ্য দিয়ে আমি সিংড়াকে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষের প্রত্যাশ্যা থাকে অনেক। তাদের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। আমার বরাদ্দ আর বাজেটের সীমাদ্ধতা বিষয়টি মাথায় রেখে আমি জনগনের কাছাকাছি এখনো আছি। বর্তমান মেয়র ছাড়াও আওয়ামী লীগের টিকেট চান- পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান(রঞ্জু মাস্টার), যুবলীগের কামরুল হাসান, আওয়ামী লীগের আরেক তরুণ নেতা আদনান মাহমুদ, চরণবিল মহিলা কলেজের গোলাম মহিউদ্দিন টিপু ও কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দীকী সহ বিএনপির শাখাওয়াত হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম।

সবাই বলছেন, জনগনের সাথে সম্পৃক্ত আছি। সে বিষয়টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি তথা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমলে এনে আমাদেরকে অবশ্যই দলীয় ভাবে নমীনেটেড করবেন। সিংড়া পৌরসভার ১৬টি ওয়ার্ডে চারজন মহিলা সহ ১২ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। আর বতৃমানে ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজারের উর্দ্ধে। চলতি মেয়র ফেরদৌস বলেন, ২০১৭ তে প্রবল বন্যায় বাড়ি বাড়ি ত্রান পৌছে দিয়েছি। দুদিন আগেও ৫৫০ পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়ে তাদের কষ্ট লাঘব করার চেষ্টা করেছি। আর আমি নিজে করোনা ভাইরাস প্রভাবের সময় ৫৫ দিন পরিবার থেকে বিচ্ঝিছন্ন থেকে পৌর ভবনে বসে আমার সেচ্ছাসেবক কমীদের নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করেছি। আমার দৃঢ় বিশ^াস, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার ক্যারিয়ার দেখে আর জনগেেনর সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনা করে ইনশাল্লাহ আমাকে নৌকার টিকেট দিবেন। অপর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (রঞ্জু মাস্টার) সারাজীরবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আওয়ামী ঘরানা রাজনীতি করছেন। বললেন, দলের সাইনবোডৃ ঝুলিয়ে রাজনীতি বানিজ্য করিনাই। টেন্ডার বাজিও করিনাই। সারাজীবন সচ্ছ রাজনীতি করেছি। নিবেদিত এবং নির্যাতিত কর্মীকে প্রাধান্য দিলে আমি কোনো অংশেই ঝড়ে পড়বো না। যদি কামিয়াব হতে পারি সিংড়া পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো। ২ নং ওয়ার্ডের ভোটার আদনান মাহমুদ তিনিও এবার মেয়র প্রার্থী। আর বর্তমানে ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী। মিছিল মিটিং সমাবেশের মধ্য দিয়ে তার উত্থান। বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। ২০১১ থেকে পৌর কাউন্সির্ল। মাঝখানে কিছুদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত মেয়র ছিলেন। জনগনের সাথে সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তিনি বলেন ২০১৩ সালে পৌর কমিটি গঠন করার সময় ১২ টি ওয়ার্ডকে ঢেলে সাজিয়েছি। আর ২০১১-১৪ এই সময়টাতে সিংড়াকে আরো উন্নত করার জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম। নির্বাচিত হলে সিংড়ার জলাবদ্ধতা নিরসন করা, শহর সৌন্দর্য বর্ধণ করাসহ ব্যাপক উন্নয়ন করবো। একটি নান্দনিক শহর নির্মানে যতটা প্রয়োজন তার সবটাই প্রচেষ্টা করে যাবো।

সকল প্রার্থীরাই সিংড়ার উন্নয়নের জন্য কথা দিয়েছেন। আর সবাই প্রত্যাশা করছেন, নেত্রী কার হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেবেন। চলন বিলের মাঝখানে এই সিংড়া পৌরসভাটি অনেক সমস্যা নিয়ে তিলে তিলে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এতে যোগান দিচ্ছেন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপি জুনায়েদ আহমেদ পলক। তার দিক নির্দেশনায় আর পৃষ্ঠপোষকতায় সিংড়া আগামী দিনের আরো উন্নয়নের রোল মডেলে পৌছে দেবে এই প্রত্যাশা সকলের। মাত্র ২২.০৫ বর্গকিলোমিটারের সিংড়া পৌরসভাতে ১২ টি ওয়ার্ড।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!