নিখোঁজের ৫৩ দিন পর কারাগারে সাংবাদিক কাজল

120

আলোচিত ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রোববার (০৩ মে) বিকেলে যশোরের শার্শা আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

নিখোঁজের ৫৩ দিন পর শনিবার গভীর রাতে যশোরের বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্তের একটি মাঠ থেকে ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে উদ্ধার করা হয়। অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা ও ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার বিকেলে তাকে যশোরের আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে যশোরের শার্শা আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠান।

বেনাপোল পোর্ট থানা সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠের মধ্য থেকে সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে উদ্ধার করে যশোর ৪৯ বিজিবির রঘুনাথপুর ক্যাম্পের টহল দল। অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে গভীর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী বলেন, রাতে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা তাকে সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠের মধ্য থেকে উদ্ধার করে। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিজিবি একটি মামলা দিয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে। সেখানে পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন খান ও নাভারণ সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের পর বিজিবির করা অবৈধ পারাপারের মামলায় তাকে যশোরে পাঠানো হয়। দুপুরে পোর্ট থানা পুলিশ হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে কাজলকে যশোরে নিয়ে আসে।

বেনাপোল থেকে এনে তাকে যশোর ডিএসবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অনুপ্রবেশের মামলা ছাড়াও ঢাকায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

বিকেল ৩টার দিকে যশোর ডিএসবি কার্যালয় থেকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে। এ সময় তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার ছেলে মনোরম পলক তাকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় কেঁদে দেন সাংবাদিক কাজল। অশ্রুসিক্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম কাজল তার ছেলেকে বলেন, ‘ভয় পাসনে বাবা, আমি কোনো অন্যায় করিনি। সত্যের জয় হবেই।’

আদালত সূত্র জানায়, সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে অবৈধভাবে সীমান্ত অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১১(সি) ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে যশোরের শার্শা আমলী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৫৪ ধারায়ও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

যশোরের আমলী আদালতের (শার্শা) বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে বিজিবির দায়ের করা অবৈধ অনুপ্রবেশ মামলায় জামিন দেন। তবে যশোর কোতোয়ালি থানার ৫৪ ধারায় দায়ের করা অপর একটি মামলায় তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বিচারক। কারাগারে তাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে জানিয়েছেন কাজলের আইনজীবী সুদীপ্ত ঘোষ।

কাজলের ছেলে মনোরম পলক বলেন, বাবাকে ফিরে পেয়েছি এতে অনেক খুশি। বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই। একইসঙ্গে বাবার জামিন চাই।

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে জড়িতদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে; তাতে আসামির তালিকায় শফিকুল ইসলাম কাজলের নামও রয়েছে। মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর গত ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলাটি করেন।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল গত ১০ মার্চ সন্ধ্যায় দৈনিক পক্ষকাল অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী নয়ন। পরে ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!