নড়াইলে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা মামলায় আ’লীগ নেতা গ্রেফতার

অনলাইন ডেস্ক।।

27
নড়াইলের লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা বদর খন্দকার (৪০) হত্যা মামলার প্রধান আসামি লোহাগড়া উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল শিকদারকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ।
বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে ঢাকার ঝিগাতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার এস আই মিলটন কুমার দেবদাস গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ‘গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে চরকালনা এলাকায় নিজের ইটভাটা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে ফিরছিলেন বদর খন্দকার।
সামাজিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে লোহাগড়া-নড়াইল সড়কের টি-চরকালনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে তার পথরোধ করে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে রাত ৯টার দিকে মারা যান বদর।’
নিহত বদর খন্দকার লোহাগড়া ইউনিয়নের চরবগজুড়ি গ্রামের ময়ের আলীর ছেলে এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন। ধারালো অস্ত্রের কোপে তার বাম হাতের তিনটি আঙ্গুল এবং ডান হাতের কবজি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এছাড়া দুই পায়ের হাটুর নিচ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল। এ সময় বদরের কাছে ইট বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা ছিল, আসামি আকবর খন্দকার বদরকে কুপিয়ে ওই টাকা নিয়ে যান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনায় বদর খন্দকারের স্ত্রী নাজমিন বেগম বাদী হয়ে পরদিন ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে-লোহাগড়া উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও লোহাগড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নজরুল শিকদারকে।
অন্য আসামিরা হলেন, নজরুল শিকদারের বড় ভাই ইবাদত শিকদার, ভাইপো জাকারিয়া শিকদার ওরফে গফফার, ভাগ্নে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক উপ-সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আজাদ সুজন, চাচাতো ভাই এনায়েত শিকদারসহ ১৬ জন।
লোহাগড়া থানার এসআই মিলটন কুমার দেবদাস জানান, ‘নজরুল শিকদারসহ এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যরা হলেন, মতিউর রহমান মুন্না মোল্যা, রুহুল আমিন, রফিক মোল্যা, আলী মিয়া মোল্যা ও বাবু মোল্যা।
এর মধ্যে মুন্না মোল্যা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নড়াইলের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমাতুল মোর্শেদার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দীতে আ’লীগ নেতা বদর খন্দকার হত্যায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।’
অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আরো পড়ুনঃ