নড়াইলে শিক্ষক লাঞ্ছনায় সদর থানার ওসি শওকত কবির ক্লোজড

নড়াইল প্রতিনিধি।।

৬৯

নড়াইল সদর উপজেলার মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নড়াইল সদর থানার ওসি মোঃ শওকত কবীরকে ক্লোজড করা হয়েছে। শনিবার (২জুন) রাতে পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় থেকে তাঁকে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের মামলায় গ্রেফতারকৃত ৪জনের বিরুদ্ধে ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। রোববার সদর আমলি আদালতে রিমান্ড শুনানী শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক আমাতুল মোর্শেদা ৩দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার (৪জুন) থেকে বুধবার পর্যন্ত এ রিমান্ড কার্যকর হবে।

নড়াইলের পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় (পিপিএম বার) বলেন, ‘শনিবার রাত ১১টার দিকে নড়াইল সদর থানার ওসি শওকত কবীরকে ক্লোজ সংক্রান্ত ম্যাসেজ পেয়েছি। সদর থানার ওসিকে খুলনায় আরআরএফ-এ সংযুক্ত করা হয়েছে। রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয় থেকে এ আদেশ দেওয়া হয়। কি কারণে ক্লোজ করা হলো তা জানি না। পরে সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’ ওসি মোঃ মাহামুদুর বলেন, গতকাল রাতেই মোঃ শওকত কবীর স্যার খূলনার আরআরএফ-এ চলে গিয়েছেন।’

অভিযোগ রয়েছে, গত ১৮ জুন মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ছাত্র রাহুল দেব রায় ফেসবুকে মহানবী (সাঃ)কে অবমাননাকর এক পোস্টে কলেজের ভারপ্রাাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়। এ সময় সদর থানার ওসি মোঃ শওকত কবীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এর কিছু দুরে নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইন শৃংখলা বাহিনীর অসংখ্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
তবে বিদীয় ওসি শওকত কবীর দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি দূরে অবস্থান করছিলেন। জুতার মালা পরানোর বিষয়টি তাঁর নজরে আসেনি।

এদিক অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মুরসালিন বাদী হয়ে ১৭০জনকে আসামী করে নড়াইল সদর থানায় মামলা করেন। নড়াইল সদর থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মাহামুদুর রহমানকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। অধ্যক্ষ লাঞ্ছিতের পুলিশ এ পর্যন্ত ৪জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলো বিছালী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মোবাইল ম্যাকানিক শাওন খান (২৮), স্থানীয় নূরাণী মাদ্রাসার শিক্ষক মনিরুল ইসলাম (২৭), অটো চালক রিমন আলী (২২) এবং রুখালী গ্রামের জাবের বিশ্বাসের ছেলে এবং খুলনা বিএল কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রহমতউল্লাহ বিশ্বাস রনি।

উল্লেখ্য যে, মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে নূপুর শর্মার ছবি ব্যবহার করে লেখে-প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম। এ পোস্ট দেয়ার পর গত ১৮ জুন সকালে কলেজে আসে রাহুল। এরপর তার বন্ধুরা পোস্টটি মুছে ফেলতে বললেও সে পোস্ট মুছেনি রাহুল। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে জানান। এক পর্যায়ে ভারপ্রাাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজের সব শিক্ষকদের পরামর্শে রাহুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা বিক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন।

বিক্ষুদ্ধরা কলেজ চত্বরে থাকা শিক্ষকদের তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জসহ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ছোঁড়ে। ঘটনার সময় অন্তত ১০ জন ছাত্র-জনতা আহত হন। অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ এনে বিক্ষুদ্ধ জনতা ঘটনার দিন (১৮ জুন) বিকেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষার্থী রাহুল দেব রায়কে গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রতিবাদ জানান।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!