পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন ড.শামসুল আলম

18

ফারুক হোসেন।।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদ্য সাবেক সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

রোববার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের গ্যালারি হলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথ পড়ান।

বর্তমানে মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী আছেন ২৫ জন। এছাড়া ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী এবং তিনজন উপমন্ত্রী বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করছেন। শামসুল আলমের শপথের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২০। সংসদ সদস্য না হওয়ায় তিনি মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট হিসেবে জায়গা পাচ্ছেন।

তিনি দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চুক্তিভিত্তিক পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন।
গত ৩০ জুন তার মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ড.আলম কর্মজীবনে তিনি দারিদ্র্যবিমোচন কৌশলপত্র সংশোধন ও পুনর্বিন্যাস, ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র, শতবর্ষের ডেল্টা প্ল্যানসহ নানা পরিকল্পনা প্রণয়ন করার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যেই অর্থনীতিতে একুশে পদক লাভ করেছেন তিনি।

ড. শামসুল আলম ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি অর্থনীতিতে এমএসসি, ১৯৮৩ সালে ব্যাংককের থাম্মাসাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ এবং ইংল্যান্ডের নিউ ক্যাসেল আপন টাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯১ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

ড.শামসুল কর্মজীবনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অধ্যাপনা করেন। তিনি ৪ বছর তিন মাস জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচীতে ২০০২ থেকে ডিসেম্বর ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮ সালে তিনি জার্মানির হুমবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বেলজিয়ামের ঘেণ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক এবং নেদারল্যান্ডের ওয়াগিনেঞ্জেন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড রিচার্সে ইরসমাস মুন্ডুস স্কলার হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাকাল্টি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালের ১ জুলাই প্রেষণ ছুটিতে সরকার তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। ২০১৫ সালে কমিশনের সদস্য থাকাবস্থায় তাকে জ্যেষ্ঠ সচিব করা হয়। ২০১৬ সালে অধ্যাপনা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। কমিশন সদস্য হিসেবে তার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর কয়েকবার তার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২০ জুন পুনরায় সরকার তাকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করে। শামসুল আলম ৩০ জুন ২০২১ সাল সিনিয়র সচিব থেকে অবসর গ্রহণ

ড. আলম জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় ২০০২ সালের মার্চ থেকে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পূর্ণকালীন চাকরিরত ছিলেন। ইউএনডিপি বাংলাদেশে ১৪ মাস সিনিয়র স্কেলে পূর্ণকালীন জাতীয় কনসালট্যান্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এদিকে অর্থনীতিতে বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ড.শামসুল আলমকে ২০২০ সালে একুশে পদক দেয়। এর আগে ২০১৮ সালে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ইকোনমিক মডিউলিং তাকে ‘ইকোনমিক অব ইনফ্লুয়েন্স অ্যাওয়ার্ড’ দেয়।

এছাড়া কৃষি অর্থনীতি বিষয়ে দক্ষতা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি ২০১৮ সালে শামসুল আলমকে স্বর্ণপদকে ভূষিত করে। তার গবেষণা, পাঠ্যপুস্তকসহ অর্থনীতি বিষয়ক প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২টি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!