পর্যটকশূন্য সমুদ্র সৈকত যেন ডলফিনদের একক রাজত্ব!

অনলাইন ডেস্ক।।

87
পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে বেড়াচ্ছে গোলাপি ডলফিন।মনের আনন্দে ডলফিন ঘুরে বেড়াচ্ছে দলে দলে, মাঝে মাঝে করে ডিগবাজি।পর্যটকশূন্য সমুদ্র সৈকতে যেন একক রাজত্ব এখন এই ডলফিনদের।
হাজারো পর্যযটক দিয়ে ভরা থাকতো যখন কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে। এই ডলফিনের দেখা মিলেনি তখন।কোভিড-১৯; করোনাভাইরাসের প্রভাবে যখন পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত। তখনই দেখা মিলছে এই ডলফিনের।প্রায় ২৫টার মত ডলফিন দেখা যায় দুটি দলে।একটি দলে বড় আকারের একটি গোলাপি ডলফিনের দেখা মিলে।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী ও সুগন্ধা পয়েন্টের কাছে ডলফিনের দুটি দলকে খেলা করতে দেখে স্থানীয়রা।
সৈকতে থাকা লাবণী পয়েন্ট সার্ফার ক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদিন ভুট্টো বলেন, ডলফিনের দুটো দল দেখেছি।একটা দলে একটু ছোট আকারের কালো রঙের ডলফিনগুলো ছিল। সেগুলো বাতাসে ডিগবাজি দিচ্ছিল।
“আর অন্য একটা দলে গোলাপি রঙের ডলফিনটা ছিল।ওইটা অনেক বড়।ওই দলে সাদা ধূসর কয়েকটা ডলফিন ছিল। গোলাপিটার সাথে একটা কালো বড় ডলফিন বেশিরভাগ সময় ছিল। দুই দলে ২৫টার মত ডলফিন ছিল।”
গোলাপি ডলফিন হলো ইন্দো প্যাসিফিক হাম্পব্যাক ডলফিন।বাংলাদেশের সাগরে যে ছয় ধরনের ডলফিন আছে তার মধ্যে এটি একটি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান বলেন, ওই ভিডিওটি দেখেছি। সেখানে যে গোলাপি ডলফিনটি দেখা গেছে সেটি পূর্ণ বয়স্ক।ওই দলে থাকা অন্যগুলোও একই প্রজাতির- গোলাপি ডলফিন।“সেগুলো আরও বড় হলেই তাদের গায়ের রঙ গোলাপি হবে।এরা সচরাচর উপকূলের কাছাকাছি থাকে। তবে সৈকতের এতটা কাছাকাছি তারা আসে না। এখন নিরিবিলি থাকায় হয়ত কাছে চলে এসেছিল।বাংলাদেশে যে ক’ধরনের ডলফিন আছে তারমধ্যে এটি অন্যগুলোর চেয়ে কম দেখা যায়।”
বাংলাদেশে গোলাপি ডলফিনের দেখা মিলেছে হাতেগোনা কয়েকবার।২০০২ সালে প্রথম বাংলাদেশে ইন্দো প্যাসিফিক হাম্পব্যাক ডলফিনে (গোলাপি ডলফিন) অস্তিত্বের কথা জানায় ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন সোসাইটি।
২০১১ সালে বঙ্গোপসাগরে একবার এবং ২০১৮ সালে সুন্দরবনের পশ্চিম অংশে আরেকবার গোলাপি ডলফিনের দেখা পাওয়া গিয়েছিল।এরপর এবার কক্সবাজার সৈকতের কাছে গোলাপি ডলফিন দেখা গেল।
জুওলজিক্যাল সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. তপন কুমার দে বলেন, সুন্দরবনের দক্ষিণ অংশে এবং সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডে আগে গোলাপি ডলফিন দেখা গেছে।কক্সবাজার সৈকতের এ অংশে তাদের আগে খুব একটা দেখা যায়নি।“সাগরের এ অংশে জরিপ হওয়া উচিত। তাতে এদের বিষয়ে জানা যাবে।গভীর সাগরে ট্রলিং করে মাছ ধরার কারণে গোলাপি ডলফিন মারা যায়। এ বিষয়ে নজর দিতে হবে।”
অধ্যাপক মনিরুল এইচ খান বলেন, কক্সবাজার সৈকতসহ আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে তারা হয়ত আগে আসেনি।কিন্তু এসব এলাকায় এমনই থাকার কথা।সঠিক ব্যবস্থাপনা করা গেলে মানুষের চিত্ত বিনোদন ও প্রাণিদের সহাবস্থান সম্ভব।
লবণাক্ত পানির বাসিন্দা গোলাপি ডলফিন আকারে অন্য ডলফিনের চেয়ে খানিকটা বড় হয়।দৈর্ঘ্যে ৮-১০ ফুটের এই ডলফিনের ওজন হয় ৯০ কেজির মতো।
আরো পড়ুনঃ