পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব আইনবিরোধী বিক্ষোভে গুলি, নিহত ২

অনলাইন ডেক্স।।

124
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় দেশটির বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকার (এনআরসি) প্রতিবাদে ডাকা বনধে গুলিতে অন্তত দু’জন নিহত ও আরও একজন আহত হয়েছেন। বুধবার জলঙ্গি থানা এলাকায় সিএএ ও এনআরসিবিরোধী বিক্ষোভে রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা গুলি চালালে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
পশ্চিমবঙ্গের বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার বলছে, মুর্শিদাবাদের ‘নবজাগরণ’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন জলঙ্গি থানা এলাকার সাহেবনগরে সিএএ বাতিলের দাবিতে এবং এনআরসি-র বিরুদ্ধে বনধের ডাক দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ওই সংগঠনে বিভিন্ন রাজনৈতির দলের কর্মীরা থাকলেও তারা মূলত অরাজনৈতিক একটি আন্দোলন তৈরির চেষ্টা করেছিলেন।
নুর ইসলাম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, বুধবার সকাল ৭টা থেকে সাহেবনগর বাজারে অবস্থান নেয় বনধ সমর্থনকারীরা। সাড়ে আটটার দিকে তিন-চারটি গাড়ি এসে থামে বাজারের সামনে। এসব গাড়িতে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা ছিলেন।
সালাউদ্দিন শেখ নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তৃণমূলের ওই কর্মী-সমর্থকরা লাঠিসোটা হাতে নিয়ে গাড়ি থেকে নেমে বনধ সমর্থনকারীদের সরে যেতে বলেন। এর পরই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এবং বনধ সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
ইমদাদুল হক নামে অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তহিরুদ্দিন মণ্ডল নিজে ঘটনাস্থলে ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান। তাদের নির্দেশেই সঙ্গে থাকা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা বাজারে থাকা জমায়েত লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। এলাকার মানুষ প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা ফিরে যাওয়ার সময় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে।
এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সানারুল বিশ্বাস ওরফে আনারুল বিশ্বাস (৬০) এবং সালাউদ্দিন শেখ (১৭) নামের দু’জন মারা যান। স্থানীয়রা বলছেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এই সংঘর্ষের সময় আরও অন্তত তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে আইনটি পাস হয়ে যাওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়। এই বিক্ষোভে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। এখনও দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি ভারতের বহুল বিতর্কিত এই নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা হয়।
আরো পড়ুনঃ