পাবনায় পূরণ হয় নি বোরো ধান চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা

59

স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা।। পাবনায় চলতি বছর বোরো মৌসুমের ধান চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয় নাই। জেলার ৯টি উপজেলায় ২৪৫৭১ মেট্রিক টন চাল এবং ৬৬৯৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে সংগ্রহ হয়েছে ১৪৩৯৬ মেট্রিক টন চাল এবং ৬২১ মেট্রিক টন ধান। চুক্তিবদ্ধ বেশ কিছু মিল মালিক ধান চাল সরবরাহ না করায় সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হয়েছে। জেলায় চুক্তিবদ্ধ ৬৮২টি মিলের মধ্যে ১২২টি মিল কালো তালিকাভুক্ত হচ্ছে বলে খাদ্য বিভাগের একটি সুত্র জানিয়েছে।

পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলার ১২২টি চাল মিল চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা চুক্তি করার পরও চাল সরবরাহ করেনি। চিহ্নিত এসব মিলগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বোরো মৌসুমে পাবনা জেলার ৯ উপজেলায় ২৪৫৭১ মেট্রিক টন চাল এবং ৬৬৯৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। ধান চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে জেলার নয়টি উপজেলায় ৬৮২টি মিল মালিকের সাথে চুক্তি করে সরকার। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু করে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান চাল সংগ্রহ অভিযান চলে। তবে আশানুরূপ সংগ্রহ না হওয়ায় ১৫ দিন সময় বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান চালানো হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, অতিরিক্ত সময়সহ নির্ধারিত সময় শেষে পাবনা জেলায় ১৪৩৯৬ মেট্রিক টন চাল এবং ৬২১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে জেলার ১২২টি চিহ্নিত মিলগুলোকে সরকারের প্রণোদনার অর্থ বরাদ্দ না করা এবং আসন্ন আমন সংগ্রহ অভিযানে নতুন করে আর কোন চুক্তি না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়াও চুক্তির বরখেলাপ করায় এসব মিলগুলো সরকারি সকল সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবে। মিলগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে জেলায় ধান চাল সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হওয়ার জন্য খাদ্য বিভাগকে দায়ী করেছে পাবনা জেলা চাল কল মালিক সমিতি।

পাবনা জেলা চাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান মালিথা জানান, সারাদেশে মে মাসের শুরু থেকে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও পাবনায় চাল সংগ্রহ শুরু হয় জুন মাসে। অভিযান শুরুর পর খাদ্য বিভাগ আবারও নতুন করে চাল মিলের তালিকা করে। তালিকা জটিলতায় খাদ্য শস্য সংগ্রহ এক মাস পিছিয়ে যায়। ফলে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় মিল মালিকরা আগের দামে চাল সরবরাহ করতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে ৩৬ টাকা দরে চাল দিতে না পারায় লোকসানের আশঙ্কায় অনেক মিল মালিকই চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মিলাররা ক্রয়মূল্য বাড়ানোর জন্য বার বার খাদ্য বিভাগের কাছে দাবি করলেও কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

মিল মালিকদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ইকবাল বাহার বলেন, প্রথমে যেসব মিলের তালিকা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে প্রায় ৪৫টি মিল চুক্তির শর্ত পূরন না করায় তদন্তে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়। পরে নতুন করে তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে সেটা সংগ্রহ অভিযান বন্ধ করে নয়, সংগ্রহ অভিযান চলাকালেই সেটা করা হয়েছে। ক্রয় মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়, ফলে স্থানীয়ভাবে দাম বাড়ানোর কোন সুযোগ নাই। মিল মালিকদের অভিযোগ সটিক নয়।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!