পৌর নির্বাচন: পটিয়া পৌরসভা নির্বাচনে বাবুল ও টিপু অনেকটা এগিয়ে-

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)।।

71

৪৩ বছরের আ.ম.ম টিপু সুলতান চৌধুরী, আইয়ুব বাবুল ও সরোয়ার হায়দার এবারের আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী । তবে বিএনপি থেকে এখনো কারো নাম আলোচনায় আসে নি। তফসিল ঘোষনার পর ৪ দলীয় জোটের প্রার্থীরা লোকালয়ে আসবেন। অত্যন্ত পুরাতন ঐতিহ্য বহন করে আজকের পটিয়া পৌরসভা । ৯ টি ওয়ার্ডের বর্তমান ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪৬ হাজার । আর তাদের নাগরিক সুবিধা প্রদানের জন্য মেয়র প্রত্যাশায় আইয়ুব বাবুল আর টিপু চৌধুরী অনেকটা জনপ্রিয়তার শীর্ষে । টিপু চৌধুরী বলেন, আমার অতীতের পলিটিকাল ক্যারিয়ার আর জনসম্পৃত্ততা বিষয়টি বিবেচনা করে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ইনশাল্লাহ নমিনেটেড করবেন। অন্য প্রার্থী আইয়ুব বাবুল বলেন সাড়া জীবন ছাত্রলীগ আর আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে এলাকার মানুষের পাশে ছিলাম। এখনো আছি।

ডিসেম্বরে সারাদেশে প্রায় ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট করার জন্য কমিশন অনুমতি দিয়েছে। পৌরসভা ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমান পরিষদের মেয়র, নির্বাচন আয়োজনে কোনো জটিলতা আছে কি না এসব সার্বিক তথধ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর গতবারের মতো এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে। মেয়র এইচ.এস.সি. পাশ হতে হবে ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এস.এস.সি. পাশ হতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর ছড়ালেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে মাত্র। সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর গতবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যতামূলক নয়।

আর তাই এবার চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পৌর নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রামের সন্দীপ, বাশঁখালি, পটিয়া, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বারৈয়ার হাট, মিরসরাই আর সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচন চূড়ান্ত। একটি ১ম শ্রেনীর পৌরসভার যতপ্রকার সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা নাগরিক জীবনে, তার কোনোটাই নেই বলে জনগণের অভিমত । পটিয়ার পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়ররা যা করেছেন তা ছিল সরকারি রুটিন ওয়ার্ক মাত্র। ২০১৫ তে প্রধান দুটি দল মেয়র নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। ওতে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক হারুনউর রশীদ নির্বাচিত হন। তিনি দুই মেয়াদের মেয়র। আর বর্তমানে আইয়ুব বাবুল শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে দক্ষিণ জেলার সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে বঙ্গবন্ধু পরিষদ আর শাপলা কুড়ি সংগঠনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্ম কান্ডে নিজেকে সম্পৃত্ত রেখেছেন। এলাকায় কোচিং সেন্টারের মধ্যদিয়ে গরীব ও মেধাবী ছাত্রদের বিনা মুল্যে শিক্ষাদান করার ইমেজটা এখনো কাজ করছে। তার হাতে আওয়ামীলীগের অঙ্গ সংগঠন নিরাপদ থাকবে বলে এলকায় জনশ্রæতি রয়েছে।এ প্রসঙ্গে মেয়র প্রার্থী আইয়ুব বাবুল বলেন, আল্লাহ আমাকে কামিয়াব করলে এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেম, শহরের লাইটপোস্ট আর ডাস্টবিন নির্মানসহ জলাবদ্ধতা নিরসন করবো, পাশাপাশি ড্যাম্পিং ষ্টেশন নির্মানের মধ্যে দিয়ে পটিয়া পৌরসভাকে বাসযোগ্য নগরায়ন করে তুলবো আর এলাকায় চিত্ত বিনোদনের জন্য একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করা হবে ।

তিনি বলেন, এলাকার দুঃস্থ মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। সবকিছুই হবে পৌরসভার বাজেট আর বরাদ্দের উপর আর আমার এলাকার মাননীয় সাংসদ হুইপ আলহাজ্জ্ব শামসুল হক চৌধুরীর দিক নির্দেশনা ও পৃষ্টপোষকতায়। আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমি যতটুকু পারি জনগনের পাশে থাকবো। অতীতে যেমন তাদের সুখে দুঃখে ছিলাম,এই করোনাভাইরাস প্রভাবের মধ্যেও তাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো। মাদক সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ উন্নয়নের বাধা গ্রস্ত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি । পটিয়া উপজেলায় ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ। আগামীতে এটা আমি নিশ্চিত করবো। পরিশেষে মেয়র প্রার্থী আইয়ুব বাবুল বলেন, সারাজীবন দলের আদর্শ বহন করে আসছি। দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বানিজ্য করি নাই। কোনো গ্রপিংয়ের রাজনীতি আমি করি না। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। এখন শুধু আমার একটাই গ্রæপিং, আর তা হলো- জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!