ফলোআপঃ বারৈয়ার হাট পৌর নির্বাচন

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)।।

462

সারাদেশে এখন ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট করার জন্য কার্যক্রম চলছে। প্রথম মেয়াদের ভোট গ্রহণ সমাপ্ত। দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন ১৬ জানুয়ারি। বর্তমান পরিষদের মেয়র, নির্বাচন আয়োজনে কোনো জটিলতা আছে কি না এসব সার্বিক তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আর গতবারের মতো এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা যাবে। মেয়র প্রার্থীকে এইচ.এস.সি. পাশ হতে হবে ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এস.এস.সি. পাশ হতে হবে। এ বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে খবর ছড়ালেও শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় এখন। এ বিষয়ে সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি গুজব ছড়ানো হয়েছে মাত্র। সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে ৩২৮টি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

আর তাই এবার চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি পৌর নির্বাচন করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। চট্টগ্রামের সন্দীপ, বাশঁখালি, পটিয়া, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সাতকানিয়া, মিরসরাই আর বারৈয়ার হাট পৌরসভা নির্বাচন চূড়ান্ত। একটি ১ম শ্রেনীর পৌরসভার যতপ্রকার সুযোগ সুবিধা পাওয়ার কথা নাগরিক জীবনে, তার কোনোটাই নেই বারৈয়ার হাট পৌর এলাকায়। ধুকে ধুকে উন্নয়নের কাজ চলছে।এমন অভিযোগ সাধারণ মানুষদের। ১৯৯৯ সালের পর এই পৌরসভাটির মাঝারি অবকাঠামো ঘটেনি। চেয়ারম্যান বা মেয়ররা যা করেছেন তা ছিল সরকারি রুটিন ওয়ার্ক মাত্র।তবে বর্তমান মেয়র ভি.পি নিজাম উদ্দিন বলেন , আমার সীমাবদ্বতার মধ্যে আমি বরাদ্দ ও বাজেট ওপর ৯০% কাজ করেছি । এতে ৪৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। মানুষের চাওয়া পাওয়া শেষ নেই । সমস্যা আছে, একদিন সমাধান ও হবে ।

ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়ক বুক চিরে বারৈয়ার হাট পৌর এলাকা। প্রথম প্রশাসক জালাল উদ্দিন । পরে মেয়র মরহুম আবু তাহের ভূইয়া আর বর্তমান মেয়র নিজাম উদ্দিন। তিনি পৌর মেয়র ছাড়াও যমুনা গ্যাস কোম্পানিতে কর্মরত। সপ্তাহে ২/৩ দিন এলাকায় থাকেন। মিরেরসরাই উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়ন আর ২টি পৌর এলাকা। এখানকার যত উন্নয়ন সব কিছু, স্থানীয় এম পি- সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন এর দিক নির্দেশনায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় সমাপ্ত হয়েছে এবং তা হচ্ছে। এবার দলীয় ভাবে বর্তমান মেয়র ছাড়াও পৌর আওয়মীলীগের সভাপতি মীর আলম মাসুক, সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম খোকন, আওয়ামীলীগ সদস্য আলী আহসান, সাবেক সহ সভাপতি ফজলুল করিম লিটন ও প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মহিউদ্দিন সওদাগর অন্যতম। সবারই প্রত্যশা- নেত্রী এবার তার হাতে তুলে দিবেন দলীয় প্রতীক-নৌকা। এই বিষয়ে প্রার্থী লিটন বলেন, আমার পলিটিক্যাল কেরিয়ার আর জনগণের সাথে সম্পূক্ত থাকার বিষয়টি বিবেচনা করলে ইনশাল্লাহ আমাকে এবারও দলীয় ভাবে নমিনেটেড করবেন আমার নেত্রী- জন নেত্রী শেখ হাসিনা।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দলের হাই কমান্ড আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে সহযোগিতা করবেন। আর সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন হলে এখানকার যেকোনো প্রার্থীকে ডিঙিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করতে পারবো ইনশাল্লাহ। আর নির্বাচিত মেয়র হলে একানকার পুঞ্জীভূত সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে বারৈয়ার হাট পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো। এদিকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ৬,৬০০ ভোটার। এর মাঝে ২০% নবীন ও তরুন ভোটাররা আগামীতে লিটনকে মেয়র হিসাবে নির্বাচিত করতে এখন থেকেই তার পেছনে একাট্টা।

লিটন আরো বলেন, আল্লাহ আমাকে কামিয়াব করলে এখানকার ড্রেনেজ সিস্টেম আরো উন্নত করা, যানযট নিরসন করা, শহরের লাইটপোস্ট আর ডাস্টবিন নির্মানসহ জলাবদ্ধতা নিরসন করবো, পাশাপাশি ড্যাম্পিং ষ্টেশন নির্মানের মধ্যে দিয়ে বারৈয়ার হাট পোরসভাকে বাসযোগ্য নগরায়ন করে তুলবো আর এলাকায় চিত্ত বিনোদনের জন্য একটি শিশু পার্ক নির্মাণ করা যায় কি না, সেটা মাথায় রাখবো । তিনি বলেন, এলাকার দুঃস্থ মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। সবকিছুই হবে পৌরসভার বাজেট আর বরাদ্দের উপর। আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমি যতটুকু পারি- জনগনের পাশে থাকবো। অতীতে যেমন তাদের সুখে দুঃখে ছিলাম,এই করোনাভাইরাস প্রভাবের মধ্যেও তাদের পাশে ছিলাম, আগামীতেও থাকবো। মাদক সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ উন্নয়নের বাধাগ্রস্ত হয়। মাদকের বিরুদ্ধে আমি অতীতে যেমন সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি । সবার আগে আমার পৌর ভবন দরকার ।

অপর প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ পরিচালক মোঃ আলী আহসান বলেন, দীর্ঘ ২ যুগেরও বেশি এখানে রাজনীতি করে আসছি । আমার দাদা হাজী জালাল উদ্দিন (জালু হাজী) তাঁর হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর আর্দশ পালন করতে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, জন নেত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাকে দলীয় প্রতীক দিবেন। আলী আহসান ২নং ওর্য়াডের ভোটার। পড়াশোনা স্থানীয় বারৈয়ারহাট কলেজে। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে মনোনীয় মন্ত্রীর অনুরোধ ক্রমে খোকনকে ছাড় দিয়ে সরে আসেন। ১৯৯৯ সালে পৌরসভা গঠনের পর তিনি সিলেক্টেড কমিশনার ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগাতে চান। তবে ব্যাতিক্রম রয়েছে লিটনের ব্যাপারে।জনগনের তীব্র চাহিদা এবার তাকে ঘিরে।একসময় চট্টগ্রাম পাহাড়তলী কলেজে পড়ার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার উত্থান। তার গোটা পরিবার মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত । ৩৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১’এ রনাঙ্গনে ছিলেন। সামাজিক কর্মকান্ডে তার যথেষ্ঠ অবদান। প্রতিবছর শীত-বস্ত্র বিতরন, দুঃস্ত মানুষদের চিকিৎসা সেবা, বিনা মূল্যে রিকশা প্রদান করা সহ অনেক রকম সামাজিক কর্মকান্ড করে লিটন এলাকায় নন্দিত হয়ে আছেন।এছাড়াও কোভিড-১৯’এ প্রায় ৩ হাজার দরিদ্র মানষকে সহায়তা করে যাচ্ছেন এখনো।

ফজলুল করিম লিটন সারাজীবন আওয়ামী ঘরনার রাজনীতি করে আসচ্ছেন। তিনি বলেন,আমি দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বানিজ্য করি নাই। কোনো গ্রপিংয়ের রাজনীতি আমি করি না। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। এখন শুধু আমার একটাই গ্রুপিং, আর তা হলো- জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি। আমি নির্বাচিত হলে, বারৈয়ার হাট পোরসভাকে একটি নিরাপদ মাদক মুক্ত, সন্ত্রাস মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পৌরশহর নির্মাণে সচেষ্ট থাকবো । ৫১ বছরের ফজলুল করিম লিটন ৮নং ওর্য়াডের ভোটার । বেড়ে ওঠেছেন এ জনপদে । মাটি ও মানুষের সাথে সম্পৃক্ত ছোটবেলা থেকে। আর উত্তর চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক মুরুব্বী- সাবেক গৃহয়ান ও গনপূর্ত মন্ত্রী, ইঞ্জিনিয়র মোশারফ হোসেন এর অনুপ্রেরনা ও দিক নিদের্শনায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করছেন দীর্ঘ দিন । বর্তমানে চিনকি আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আর কেরানি বাড়ি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সহ মীরসরাই সমিতি- চট্টগ্রাম এর আজীবন সদস্য।

এদিকে বারবার মনোনয়ন বঞ্চিত বারৈয়ার হাট পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পদক রেজাউল করিম খোকন দীর্ঘ দুই যুগ ধরে আন্দোলন সংগ্রামে দলের র্দুদিনে রাজপথে নিবেদিত ভাবে কাজ করেছেন । সকলের কাছে ইতিমধ্যে আলোচিত তিনি। বারৈয়ার হাটের ব্যবসায়ীদের বন্ধু হিসেবেও তিনি সমাদৃত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি নেতা- কর্মীদের সাথে নিয়ে সবসময় দলীয় কর্মকান্ডে সক্রিয় রয়েছি। ২০১১ সালের পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় কাউন্সিলে মাত্র ৫ ভোটের ব্যবধানে মরহুম এসএম তাহের ভূইয়ার কাছে হেরে যাই। ২০১৩-২০১৪ সালের বিএনপি-জামায়াত জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন প্রতিহত করতে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছি। ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি। আশা করছি দল যদি ত্যাগীদের চায়- সেক্ষেত্রে আমি এবার দলীয় মনোনয়ন পাবো ইনশাল্লাহ।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!