ফলোআপঃ সিংড়া পৌরসভা নির্বাচন; ভোটারদের পছন্দের তালিকায় শিক্ষিত মেয়র

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)

892

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে নাটোর জেলার সদর, নলডাঙা, গোপালপুর, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে। এর পর আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা চলবে। তবে চলতি বছর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর গতবারের মতো দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচন হবে। মেয়র প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কোনো বাধ্যতামূলক নয়। মেয়রের ক্ষেত্রে এইচ,এস.সি. পাশ, কাউন্সিলর এস.এস.সি পাশ হতে হবে। এমন তথ্য দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কথাটি ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এ ধরণের কোনো উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করেনি।

আর সেই আলোকে এবার সিংড়া পৌরসভা নির্বাচন চূড়ান্ত। ১৯৯৯ সালের ১০ই জানুয়ারী পৌর সভা গ্যাজেট হয়। ঐ বছর ২৮ শে অক্টোবর প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে তৎকালীন টি.এন.ও জীবন কুমার বাবু প্রশাসক ছিলেন। আর প্রথম মেয়র শামীম আল রাজী। টানা কয়েক বছর মেয়রের পর শেষের দিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৮ ডিসেম্বরের ০৭ তারিখ তিনি মারা যান। তার আগে ২০১৫ তে নির্বাচনে একক প্রার্থী মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস মেয়র হিসাবে জয়লাভ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে আমার ২৮ দফা ইস্তেহার ঘোষনার মধ্য দিয়ে আমি সিংড়াকে সীমাবদ্ধতার মধ্যেই উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছি। মানুষের প্রত্যাশ্যা থাকে অনেক। তাদের চাওয়া পাওয়ার শেষ নেই। আমার বরাদ্দ আর বাজেটের সীমাদ্ধতা বিষয়টি মাথায় রেখে আমি জনগনের কাছাকাছি এখনো আছি। বর্তমান মেয়র ছাড়াও আওয়ামী লীগের টিকেট চান- প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা, চলনবিল মহিলা ডিগ্রি কলেজ অধ্যক্ষ গোলাম মহিউদ্দিন টিপু, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক রকি, পৌর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান(রঞ্জু মাস্টার), যুবলীগের কামরুল হাসান, আওয়ামী লীগের আরেক তরুণ নেতা আদনান মাহমুদসহ বিএনপির শাখাওয়াত হোসেন, তাইজুল ইসলাম ও মাহিদুল ইসলাম।

সবাই বলছেন, জনগনের সাথে সম্পৃক্ত আছি। সে বিষয়টি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে এনে আমাদেরকে অবশ্যই দলীয় ভাবে নমীনেটেড করবেন। সিংড়া পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে চারজন মহিলা সহ ১৬ জন কাউন্সিলর রয়েছেন। আর বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৩৬ হাজার ৫ জন। মেয়র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক রকি ৯ নং ওয়ার্ডের ভোটার। শিক্ষাজীবন দমদমা পাইলট স্কুল থেকে ৮৭ তে পাশ করেন। এরপর শিবগঞ্জ এম.এইচ. ডিগ্রি কলেজ পরে বগুড়া সরকারি আজিজুর হক বিশ^বিদ্যালয় কলেজ থেকে ১৯৯৩ তে ইন্টার পাম করেন। সবশেষে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেন। এর আগে ৯৫ তে আজিজুল হক কলেজ ছাত্রলীগ শাখার সভাপতি নিবাৃচিত হয়েছিলেন। ৯৬তে বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতির পর ৯৯থেকে ২০০৯ পর্যন্ত সিংড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মাঝপথে ৯৬ তে আকসু নির্বাচনে রকি-রাজ্জাক-ডাবলু পরিষদে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। ২০০১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আর বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও রকি বঙ্গবন্ধু পরিষদ, পার্লামেন্ট নির্বাচনে জুনায়েদ আহমেদ পলক এর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন। নির্বাচনের মাঠে প্রত্যক্ষ কাজ করার অভিজ্ঞতা প্রচুর। আর সেই অভিজ্ঞতাকে তিনি কাজে লাগাতে চাইছেন্। রকি বলেন, তৃনমূলের নেতা কমীৃদের নিয়ে কাজ করতে চাইবো- যদি নেত্রী নমিনেটেড করেন তবেই। এদিকে বেশ কজন আওয়ামী প্রার্থী রয়েছেন। তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠিতে অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক রকি অনেকটাই পজিটিভ।

অপর আরেক প্রার্থী অধ্যক্ষ গোলাম মহিউদ্দিন টিপু দীর্ঘদিন আওয়ামী ঘরানার রাজনীতি করে আসছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল থেকে উঠে আসা নিবেদিত কর্মী হিসেবে আমি নেত্রীর কাছে দলীয় নমিনেশন চাইতেই পারি। ৫৫ বছরের টিপু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করছেন। রাজনীতির বাইরেও বিভিন্œ সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত। তার এলাকা দুরমল্লিকা মবকুড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও ইদগাহ কমিটির সাথে দীর্ঘদিন জড়িত থেকে একজন নন্দিত মানুষ। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ শেরকোল ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তার ভাই ডাঃ মহিবুল হাসান, রাজশাহীতে সনামধন্য শৈল চিকিৎসক ও সাচিবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। টিপু বলেন- দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বানিজ্য করিনাই। টেন্ডার বাজিও করিনাই। সারাজীবন সচ্ছ রাজনীতি করেছি। নিবেদিত এবং নির্যাতিত কর্মীকে প্রাধান্য দিলে আমি কোনো অংশেই ঝড়ে পড়বো না। যদি কামিয়াব হতে পারি সিংড়া পৌরসভাকে ঢেলে সাজাবো।

সকল প্রার্থীরাই সিংড়ার উন্নয়নের জন্য কথা দিয়েছেন। আর সবাই প্রত্যাশা করছেন, নেত্রী কার হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেবেন। চলন বিলের মাঝখানে এই সিংড়া পৌরসভাটি অনেক সমস্যা নিয়ে তিলে তিলে এগিয়ে যাচ্ছে। আর এতে যোগান দিচ্ছেন তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় এমপি জুনায়েদ আহমেদ পলক। তাঁর দিক নির্দেশনায় আর পৃষ্ঠপোষকতায় সিংড়া আগামী দিনের আরো উন্নয়নের রোল মডেলে পৌছে দেবে এই প্রত্যাশা সকলের। মাত্র ২২.০৫ বর্গকিলোমিটারের সিংড়া পৌরসভাতে ১২ টি ওয়ার্ড।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!