ফেনীতে ইঞ্জিনিয়ার বাবু হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত কেয়ারটেকার শাহীন ফের দুই দিনের রিমান্ডে

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি।।

76

ফেনী শহরের পাঠানবাড়ী এলাকার সফিকুর রহমান সড়কের তাসফিয়া ভবনে প্রকৌশলী ইউনুছ নবী বাবুকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনকে ফের দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে ৭দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে হাজীর করলে আদালত তার ফের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তার দেয়া তথ্য মতে উদ্ধার করা হয় বাবুর পরনের প্যান্ট, পেন্টের বেল্ট, ছুরি, দা-হাতুড়ি, শাহীনের টি-শার্ট, দুটি মানিব্যাগ। এছাড়া বাবুর ব্যাবহৃত আইফোন ৭প্লাস উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে যেসব রক্তমাখা রয়েছে সেসব ফরেনসিকে পাঠানো হবে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুদিপ রায় আরো জানান, গত ২ বছর ধরে ফেসবুকে শাহীনের সাথে বাবুর পরিচয় হয়। চ্যাটিংয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে গত ৩১ আগস্ট বাবুর নাম্বার নেয় শাহীন। এরপর থেকে তাদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে।

ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে বাবুকে মোটর সাইকেল নিয়ে রাকিব ও শাহরিয়ার পুলিশ কোয়ার্টারের বাসা থেকে নিয়ে আসে। এরপর তারা তাসফিয়া ভবনে শাহীনের কক্ষে চলে যায়। সেখানে কী কারণে এমন ভয়ানক হত্যাকান্ড ঘটেছে সেটি এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। তাছাড়া কী কারণে বাবুকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে শাহীনের দেয়া এলোমেলো তথ্য দিলেও যাচাই করা হচ্ছে। তবে বাবু হত্যাকান্ডের স্বাক্ষী না রাখতেই শাহরিয়ারকে খুনের চেষ্টা করা হয় বলে অনেকটা নিশ্চিত হন পুলিশ। তাকে বাবুর মতো সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।

তদন্তকারী সূত্রের ধারণা, ৯ ফুট গভীরতার সেপটিক ট্যাংকে শাহরিয়ারকে ফেলা হলেও সে বাবুর মরদেহের উপরই ভর করে হাবুডুবু খেয়েছে। পরবর্তীতে তার গোঙানির শব্দ বাইরে আসায় শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যায় শাহরিয়ার। ঘটনার ১০ দিন পরও শাহরিয়ার স্বাভাবিক হতে পারেনি। তার মাথায় অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রসঙ্গত; গত ১০ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে পুলিশ বাবুর লাশ উদ্ধার করে। বাবু হত্যার ঘটনায় মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। বাবু সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের পাইক পাড়া গ্রামের সওদাগর বাড়ির আবু ইউছুপের ছেলে।
একই ট্যাংক থেকে আগেরদিন সকালে আহত অবস্থায় তার অপর বন্ধু শাহরিয়ারকেও উদ্ধার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!