ফেনীতে দরজা ভেঙে আহত গৃহবধূকে উদ্ধার করল পুলিশ

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি।।

102

ফেনীর সোনাগাজীতে পারিবারিক কলহের জেরে ননদদের হামলায় আহত জেসমিন আক্তার পিংকি (২৪) নামে এক গৃহবধূকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করল পুলিশ। একই ঘটনার জেরে আলেয়া ও পাখি আক্তার নামে দুই ননদকে পিটিয়ে আহত করেছে গ্রামবাসী। আবার গৃবধুর ভাই মো. হানিফকে পিটিয়ে আহত করেছে ননদের ছেলে শহীদুল ইসলাম আকাশ।

সোমবার বিকালে এই ত্রিভুজ হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সোনাগাজী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের হাদী স্ট্যান্ড সংণগ্ন মোতাল্লা বাড়িতে। এলাকাবাসী, পুলিশ ও ভুক্তভোগির পরিবার জানায়, উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের মেয়ে জেসমিন আক্তার পিংকির সাথে ২০১৯ সালের ৯মে পৌর এলাকার আবদুল কুদ্দুছের ছেলে কামাল উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের মাস খানেক পর কামল পর্তুগাল চলে যায়।

তার ৪বোন পিতার বাড়িতে এসে কর্তৃত্ব করলে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চরম আকার ধারণ করে। একাধিকবার গৃহবধূকে মারধর করে তারা। একাধিকবার সালিশি বৈঠকও হয়েছিল। গত ২৩ নভেম্বর ওই গৃহবধূকে ৪ ননদ মিলে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় গৃহবধূর পিতা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে পর্তুগাল প্রবাসী কামাল উদ্দিন, মা তঞ্জুবের নেছা, ভাগ্নে আকাশ, বোন আলেয়া আক্তার, পাখি আক্তার, ঝর্না বেগম, পারুল আক্তার ও ভাগ্নে সাকিব সহ ৮জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় কাউন্সিলর সাখাওয়াত হোসেন আলাউলের মাধ্যমে স্থানীয় সমাজপতিদের নিয়ে সালিশি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সমাজপতিদেরকে কামাল উদ্দিন ও তার বোনেরা জানিয়ে দেন পিংকির সাথে সংসার বিচ্ছিন্নের কথা। পর্তুগাল থেকে মুঠোফোনে গৃহবধূকে তালাক দিয়ে দিবে বলে জানিয়ে দেন কামাল। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত কামালের বোনদের ওই বাড়িতে যেতে বারণও করেন পৌর কাউন্সিলর ও সমাজপতিরা।

কিন্তু সোমবার দুপুর ২টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গৃহবধূর ননদ হাসিনা আক্তার, পাখি আক্তার, পারুল আক্তার, আলেয়া আক্তার ও তার কন্যা কলি আক্তার মিলে গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত করে। এক পর্যায়ে জীবন বাঁচাতে গৃহবধূ ঘরের একটি কক্ষে ঢুকে দরজার ছিটকানী (হুক) লাগিয়ে অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে থাকেন। স্থানীয়রা গৃহবধূর পিতার পরিবারকে খবর দিলে বিকাল ৫টার দিকে তারা সহ স্থানীয় গ্রামবাসী ওই ঘরে ঢুকতে চাইলে হামলাকারী ননদরা বাধা দেন।

এসময় উত্তেজিত গ্রামবাসী ননদ আলেয়া ও পারুলকে পিটিয়ে আহত করে। আলেয়ার উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আলেয়ার ছেলে সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম আকাশ গৃহবধূর ভাই মো. হানিফকে পিটিয়ে আহত করে। সন্ধ্যায় দরজা ভেঙে গৃহবধূ পিংকিকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।

আহতদের মধ্যে গৃহবধূ পিংকি ও ননদ আলেয়াকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার ভাই হানিফ ও ননদ পাখি আক্তারকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় দুটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে গৃহবধূর পিতা হাবিবুর রহমান ও ননদ পারুল আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!