বাইরে ঘুরছেন কেন? এমন প্রশ্ন করতেই ম্যাজিস্ট্রেটের উপর চড়াও প্রবাসী

এম এ কবীর,ঝিনাইদহ।।

54
ঝিনাইদহে করোনা প্রতিরোধে নতুন করে ৫১ জন বিদেশফেরতসহ ৫৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট ৪৮৪ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হলো। তবে কোয়ারেন্টাইনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩৭ জন বিদেশফেরতসহ ১৮৯ জনকে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে জেলা সদর হাসপাতালে কোনো ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এরই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ডিউটি শেষ করে বাড়িতে গিয়ে ঠান্ডা, কাশি ও জ্বরে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন দুইজন চিকিৎসক। বর্তমানের তাদেরকে নিজ নিজ বাড়িতে সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. আয়ুব আলী বলেন, আমরা শুধুমাত্র করোনা চিহ্নিত ব্যক্তি বাদে অন্যদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিতে দিচ্ছি না। শুধু মাস্ক ব্যবহার ও অন্যান্য স্যানিটাইজেশনের কথা বলছি। যে দুইজন চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাদেরকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। সিজনাল চেঞ্জের কারনেও তাদের এই সমস্যা হতে পারে। তবুও করোনার কথা বিবেচনা করে তাদের কয়েকদিন সতর্ক থাকাই ভালো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক মেডিকেল অফিসার বলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতেও কর্তৃপক্ষ কেন আমাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থা করছে না সেটা বুঝতে পারছি না। আমাদের দুইজন সহকর্মী অসুস্থ হয়েছে, আমরাও তো হতে পারি। যদি আমরা সুরক্ষিত না থাকি তাহলে কেমন করে চিকিৎসা সেবা দেব। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন অবহেলা চলতে থাকলে চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
বাইরে ঘুরছেন কেন? এমন প্রশ্ন করতেই ম্যাজিস্ট্রেটের উপর চড়াও প্রবাসী
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার চাঁচড়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী মিজানুর রহমান কোয়ারেন্টাইনের শর্ত না মেনে বাইরে ঘোরাঘুরি করছেন- এমন তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে উপস্থিত হন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভূপালী সরকার।
বাড়ির বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তাকে প্রশ্ন করা হয়, আপনি কোয়ারেন্টাইনে না থেকে বাইরে ঘুরছেন কেন? এমন প্রশ্ন করতেই ম্যাজিস্ট্রেট এবং তার সঙ্গে থাকা দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন মিজানুর রহমান ও তার দুই ভাই।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি খারাপ হলে কালীগঞ্জ থানার ওসিকে বিষয়টি জানান ভূপালী সরকার। পরে পুলিশের আরও সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কিন্তু তারা পৌঁছানোর আগেই পালিয়ে যান মিজানুর রহমান ও তার দুই ভাই।
ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রবাসী মিজানুর রহমানকে ১৪ দিন ঘরে তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে পরিবারের বাকি সদস্যদেরও হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার আদেশ দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ভূপালী সরকার বলেন, চারদিন আগে দুবাই থেকে উপজেলার চাঁচড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ফেরেন মিজানুর রহমান। এরপর থেকে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা না মেনে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করতে থাকেন। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে তার বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
‘এ সময় প্রবাসী মিজানুর রহমান, তার দুই ভাই এবং পরিবারের বাকি সদস্যরা আমাকে এবং আমার সঙ্গে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে মারতে উদ্যত হন। পরে পরিস্থিতি খারাপ হলে কালীগঞ্জ থানার ওসিকে জানানো হয়। সে সময় আরও পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরে জনস্বার্থে জেলা প্রশাসকের নির্দেশ মোতাবেক প্রবাসী মিজানুর রহমানকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখা এবং পরিবারের বাকি সদস্যদেরও হোম কেয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।’
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তবে তাদের সকলকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ