বান্দরবান-থানচি-সাংগু-বড়পাথর-রেমাক্রিখাল-নাফাকুম ভ্রমন নিয়ে “কালিপদ দেবনাথের বিশেষ প্রতিবেদন”

279
পাহাড় নয় ঘুরাঘুরির প্রতি আমার ভালবাসা, আর যার যেই রোগ সেই রোগ সবজায়গায় ছড়িয়ে দেয়া মনুষ্যস্বভাব।কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমাকে সেইরোগ ছড়ানোর দায় নিতে হয়নি,আগেই ভ্রমণরোগে আক্রান্ত বাদুরতলার আড্ডাবৃত্ত। ভ্রমণের পরিকল্পনায় পঞ্চাশজন থাকে দিন ঘনিয়ে আসলে ১০জন আর ভ্রমণের দিন দুইথেকে পাঁচজন এমনই প্রচলিত গল্প কিংবা প্রবাদ। কিন্তু আমাদের ভ্রমণে যা পরিকল্পনায় তাই ভ্রমণের দিন, সুবিধা অসুবিধা মিলিয়ে ক এর স্থলে খ আর খ এর স্থলে গ এইটুক হয়। হিমেল কমন ধরে ভ্রমণ শুরু ইদানীং রাজীব ভাইও যোগ হয়েছেন। সঞ্জীব বিজয় শরীফ জামাল বাবু কামরান দীপু ও আমি সহ দশজন। পরান ফরহাদ ভাই আর বাছির এইবার ব্যস্থতা ও পারিবারিক অসুস্থতা হেতু বাতিল ও কোয়েল দূর্গম বলে যাচ্ছে না আর টিটু দোকানের ব্যস্ততা সবেমাত্র বছর শুরু।
যাইহোক ১৮তারিখ বৃহস্পতিবার টিকিট কনফার্ম বাংলাদেশের প্রকৃতির রাজধানী বান্দরবান। বান্দরবান আমরা দেখবো চাঁদের গাড়ি দিয়ে যেতে উঁচুভূমি নিচুভূমি উচুঁউঁচু পাহাড় আর জুমচাষ। সাথে খোলা গাড়িতে নির্মল বাতাস, চান্দের গাড়িতে থানচি সেখান থেকে নৌকায় যেতে রাজাপাথর বড়পাথর ও সাথে পাহাড়িঘর। রেমাক্রি খাল গিয়ে রাত কাটিয়ে সকালে নাফাকুম ঝর্ণা, আমাদের কাঙখিত গন্তব্য। যথারীতি ভ্রমণে যা দরকার নাপা,গ্যাসের ওষুধ, ফ্লাজিল ইমোটিল ওডোমাস শ্যাম্পু সাবান টুথপেস্ট শুকনোখাবার কিসমিস খেজুর সবই নেয়া হল। যথারীতি ঢাকা থেকে বাস ছাড়বে ১০:৩০।সবাইকে নিয়ে কুমিল্লায় আমরা ১০:৩০এ একহলাম,কেউকেউ আইডিকার্ড আনেনি তাদের আবার বাড়ি গিয়ে আইডিকার্ড আনতে হলো। বিজিবি ও সেনাক্যাম্পে আইডিকার্ডের ফটোকপি দিয়েই আমাদের প্রবেশ করতে হয় থানচি অন্যথা যাওয়ার উপায় নাই। সবার কিছু আনানেওয়া হলে এইবার আমরা রওনা হলাম বিশ্বরোড,পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড গিয়ে নুরজাহান হোটেলে চা আড্ডা চললো ঘন্টাতিনেক,যে বাস আসার কথা ১২.৩০সে বাস আসলো ২.৪৫। সৌদিয়া বাস বসার জন্য সীটগুলো পেছনে হলেও নতুনবাস হওয়ায় ভালই হল। বাসে উঠে বসতে না বসতেই টাইমস্কয়ার যাত্রাবিরতি,যাত্রা বিরতির ফাঁকে ছবি তুললাম সবাই। সবাই যে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছি সে জায়গায় একটা হাসিখানা হলো,একলোক নাক ডেকে অনলীলায় ঘুমিয়ে যাচ্ছে কোন খবর নেই সেটা দেখে হাসি আবার আরেকজন লোক স্মার্টলি একটা লুঙ্গি আর লালশার্ট পরিধান করে হাঁটছে হিমেল সেখানে বুড়ো বয়সে নিজের ছায়া খোঁজে পেলে তা নিয়েও হাসাহাসি। আবার কৌতুহল দৃষ্টি সুন্দরী কোন রমণী চোখের সামনে দিয়ে গেলে এইকরে পঁচিশ মিনিট চলে গেল। বাস ছাড়লো ড্রাইভার আপনমনে পুরোগতি দিয়েই চাল্লাছে,সকালের মধ্যে গন্ত্যবে পৌঁছাতে হবে। তখন ৩.৩০ বাসট্রাক ক্রস করে চলে যাচ্ছে চোখের পলকে, গাড়ির এইচলে যাওয়াটা আমার খুব ভাল্লাগে দেখতে ঘুম চোখেও তাই তাকিয়ে দেখছি। কখন যে চিটাগাং চলে আসলাম টেরপেলাম না,চিটাগাং আসলাম তখন ৫.৪৫।
গন্তব্যে যেতে আমাদের আরো ঘন্টাতিনেক লাগবে,সকালে মৃদু বাতাস কাপন ধরিয়ে দিল। কাঁপতেকাঁপতে চলে এলাম বান্দরবান ঘড়িতে তখন ৭.৫০। হিসেব থেকে দুইঘন্টা কাঁটা, তাড়াতাড়ি খেয়ে চান্দের গাড়িতে উঠতে হবে কিন্তু তাড়া হয় তাড়ি হয়না। খাওয়াদাওয়া ফ্রেশ হইতে ৮.৪৫বেজে গেল। ইতিমধ্যে চান্দের গাড়ি ঠিক করা হলো ওদের নির্ধারিত ছয়হাজার,আমরা দশজন উঠে পড়লাম চান্দের গাড়িতে।সবাই বসে আছি একজন দাঁড়িয়ে, দাঁড়িয়ে যাওয়াটাই তার নিকট উপভোগ্য। সাজেক যেতেও দাঁড়িয়ে ছিল,সারা রাস্তার দুঃসাহসিক প্রকৃতি দেখার আনন্দ নিতেই দাঁড়িয়ে থাকা,একটু পর একজন একজন করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। বান্দরবানের চান্দের গাড়ির মাহাত্ম এইটাই কাউকে বসতে দেয়না, প্রকৃতির অপরুপ লীলা দেখতে দাঁড় করিয়ে দেয়। কেউ কেউ ১০০০-১২০০ফুট খাদ দেখে ভীতসন্ত্রস্ত আবার কারো নিকট এইটাই রোমাঞ্চ। আমি আবার চুপচাপ প্রকৃতি দেখায় মগ্ন কারন ভ্রমণে পূর্বশর্ত হলো”চোখ খোলা রেখে মুখ বন্ধ রাখা”তাহলে ভ্রমণ উপভোগ্য হয়। আমি সবসময় ভ্রমণটাকে উপভোগ করতে চাই -এইযে পাহাড়ে গা ঘেঁষে আরেক পাহাড় মিতালি করছে কিংবা পাহাড়ের বুকে অবলীলা অযত্নে বেড়ে উঠছে আম আনারস পেঁপে, কোথাও পেঁপের বুক চিড়ে খাদ্য সংগ্রহ করছে পাখি সেসব দৃশ্য অনুভব না করলে ভ্রমণ সম্পুর্ণ হয়না।উঁচুনিচু রাস্তায় কি ছন্দের তালে চান্দের গাড়ি উঠে যায় আবার আচমকা বাঁক নেয় তা উপভোগ না করা অন্যায়। যাবতীয় নিয়মনীতি মেনে রাস্তায় বিশ্রাম পাহাড়ি কলাপেঁপে আম আনারস খেয়ে আমরা থানচি আসলাম ১২.৩০. গাইডকে ফোন দিলাম গাইড আমাদের সাথে প্রতারণা করলো, গাইড আসতে পারবেনা একজনকে ঠিক করে দিয়েছেন। কথাছিল নৌকাও ঠিক করা থাকবে কিন্তু নৌকাও নাকি চলে গেছে। বিজিবি ক্যাম্প পুলিশ থানা থেকে পারমিশন নিয়ে নৌকা ঘাটে অইদিকে দরকষাকষি করে রওনা দিলাম রেমাক্রির পথে,দরকষাকষিতে ফল আসেনি অইতাদের কথাই রইলো। আমি বিরক্ত গাইডের প্রতি নৌকার মাঝিদের প্রতি,সবার সামনেই ক্ষোভ ঝেড়ে দিলাম। ক্ষোভ পোষে লাভ নাই। রাগক্ষোভ ঝেড়ে নৌকা ছাড়লো কিছুদুর যেতেই নৌকা থেকে নামতে হল,জলকম নৌকা আটকে যায়। প্রায় দশমিনিট হাঁটলাম,আবার নৌকায় চড়ে কিছুদুর যাওয়া। এইবার নৌকা খুব সুন্দরভাবেই চলছে অনেক জল,চারপাশও সবুজে ঘেরা আমার নিকট কাপ্তাই লেকটাই মনে হচ্ছে।
চারপাঁচমিনিট নৌকা যেতেই পাথরের রাস্তা, ভাবছি নৌকা কি করে যাবে কিন্তু মাঝি কি অবলীলায় তার লীলা দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুদুর যাওয়ার পর নৌকা চলছেনা, আমরা নেমে পড়লাম জংগলাকীর্ণ পাথরে রাস্তা বালিময় রাস্তা দিয়ে হাঁটছি,হাঁটতে হাঁটতেই একটা পাড়া। পাড়াটার নাম নাকি তিন্দু,সবনারীপুরুষ গোসল করছে গোসলের সময় এইটা ঘড়িতে চারটা। আমরা একদিদির দোকানে গিয়ে কলা পিঠা খেলাম পেট খিদায় চৌচির অবস্থা যা পাচ্ছি তাই খাচ্ছি খুব শান্তি পাচ্ছি। পথে পথে একদম কোনায় কোনায় দেখা মিলছে দুজন কিংবা একজনের গ্রুপ হয়ে চিংড়ি ও শামুক তুলছে, আমাদের দেখেই মুখ লুকোয় ওরা। ভীষণ ভাললাগা মাছ ধরার দৃশ্য,কোন কোন পাড়ার সামনে ছোট ছলেদের দল উদোম গায়ে জলকেলি করছে, ছোটবেলার ভাললাগা দৃশ্য। তিন্দু থেকে সামনে যেতেই ভীষণ বড় বড় পাথর, এক একটা দানব দেখাচ্ছে। নীচেও পাথরের বাস, এর ফাঁক গলেই নৌকা যায় ইহাই রেমাক্রি খাল বেয়ে নৌকায় চড়ার মজা। তবে মাঝিদের অনেক কষ্ট আমরাও সুযোগ বুজে নৌকা ঠেলছি তাতে মাঝিদের কষ্ট লাঘব হয়,
আমামাদের যাত্রাও স্মরণীয়। আমাদের সামনের নৌকায় সঞ্জীব, একাই নৌকা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে, এতটাই সাবলীল ছিল নৌকা ঠেলে পাহাড়ি কতকগুলো ছেলে ভাবলো বিদেশি লোক,তাই তারা অনুরোধ করে সেলফি তুললো। এইবার বড় পাথর রাজাপাথর রানীপাথরের লীলাখেলা,রাজাপাথরের কাহিনী নিয়ে নানা মিথ আছে। এই মিথগুলো স্থানীয় মানুষজন মান্য করে ও তারা এইপাথরগুলোতে আসাযাওয়ার পথে ধুপকিংবা মোমবাতি জ্বালিয়ে যায়। রাজাকে সম্মান দিলেই প্রজারা ও মাঝিরা নিরাপদে যেতে পারে, অন্যথা নানা বিপত্তি। কখনো বিপত্তিটা মানুষের জানও হতেপারে। এইবার আসলো একটা ঝিরি থেকে নেমে আসসা কল,সবাই এইকলে জলপান করলো অসাধারণ স্বাদের ও ঠান্ডা জল সবার হৃদয় তৃপ্ত করে। মাঝিরা নৌকা ঠেলে একটু চলাচলের উপযোগী স্থানে নিয়ে যাচ্ছে, আমরা এরর মাঝে কিছু নাস্তা করে নিলাম,ছবি তুললাম এককটা পাথরের মাথায় চড়ে। বিশাল পাথরের নিকট নিজেদের কীটসম লাগছিল,পাহাড়ের বিশালতার সাক্ষী হয়ে হাঁটা শুরু করলাম। আবার আরেকটাপাড়া দুটো মাত্র ঘর,প্রতিটা ঘরই একটা দোকান। এর মধ্য দিয়েই ওদের সংসার চলে, পর্যটক ও ভ্রমণকারীরা দ্রব্য কিনে তাদের সংসার চলতে সাহায্য করি। সামনেই ভুট্রার ক্ষেত, কিসুন্দর করে সূর্য ডোবা সন্ধ্যায় দুলছে। লাল সূর্য্যটা ডূবতে চলেছে,আমরা হাঁটছি।
মিনিট ১৫হাঁটার পর আবার নৌকা চলার উপযোগী,আমরাও ইতিমধ্যে রেমাক্রি খালের কাছাকাছি চলে আসলাম। নৌকায় চড়ে মিনিট পনের পর রেমাক্রি,সন্ধ্যা তখন ৬.৪৫। চারদিক অন্ধকার,শুধুমাত্র দোকানগুলোতে বাতি জ্বলছে। আমরা খুবই স্বস্তিপেলাম, অবশেষে রেমাক্রির দেখা পেলাম। রেমাক্রি গিয়ে সবার সিদ্ধান্ত হলো রাতেই নাফাকুম যাবে, আমার সিদ্ধান্ত উলটো। আজ রাতটুকু এইদিকে থেকে সকালে নাফাকুমের উদ্দেশ্যে যাওয়া যাবে কিন্তু সবার মনোভাব অনুধাবন করে রাজীব ভাই শরিফ সহ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম আজই যাব। আমি ফিরেই একটা কঠিন সিদ্ধান্ত দিলাম,আমার ক্লান্তি নেই কিন্তু কেউ যেন ক্লান্ত না হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে,রাতের রাস্তা দাঁড়িয়ে পড়লে হবেনা। যাইহোক গাইডকে নিয়ে পূর্ণিমার আলোয় চলা শুরু, কী ভয়ানক চাঁদের আলো, রাস্তা অনায়াসেই পাড় হচ্ছি উঁচুননীচু পাহাড় ঝিরিপথ সমতল সবকিছু ছেড়েছুড়ে সোজা হাঁটছি,মাঝেমধ্যে একটু দম নিয়ে হেঁটে চলছি,সাথে ঝিরিপথ এ চিংড়ি ধরা। একদম জনমানবহীন রাত তখন নয়টা,এরইমাঝে কয়জন বাতি জ্বালিয়ে মাছ ধরছে ওরা আরাকান আর্মি। আমাদের নির্ভয় থাকার আশ্বাস দিয়ে হাঁটতে বললেন,আমরা নির্ভয়ে হাঁটছি এর মাঝে দুএকজন ক্লান্ত হলো কিন্তু থামাথামি নাই। কামরান ও গাইড ইতিমধ্যে পা মচকে খুঁড়িয়ে হাঁটছে,তবুও থামা নাই। আড়াইঘন্টার পথ ১ঘন্টা ৪৫মিনিটে আসলাম। দূর হতে ঝর্ণার কলকলধ্বনি আমাদের মনে যে অনুরণ সৃষ্টি করলো তা ভাষাতীত,আমাদের শেষ দিককার ক্লান্তিটা নিমিষেই দূর ঝর্ণার কলকলধ্বনিতে।
নাফাকুম ঝর্ণা,এর নীচে রেমাক্রিখাল। আর উপরে ঝিরিপথ,ঝিরিপথে পাথরের ফাঁকেফাঁকে জল জমা,গাইড আমাদের স্নান ও বিশ্রাম নিতে বলে উপরে গেলেন আমাদের খাবার ও থাকার ব্যবস্থা হচ্ছে। আমরা চাঁদের আলোয় খালি গায়ে উষ্ণ জলে নেমে পড়ি,আমাদের ক্লান্ত দেহ শ্রান্ত করে দেয় ঝিরির জল। অসাধারণ রুপমুগ্ধ চাঁদের আলোয় আমরা দশযুবক স্নান করছি এর চেয়ে সুন্দর দৃশ্য হতে পারেনা,গাছের ফাঁক দিয়ে চাঁদ তাই অবলোকন করছে। ঘন্টাখানেক এইভাবেই আমরা কাটিয়ে দিলাম,এইটাই ট্যুরের অন্যরকম একটা স্মৃতি। আগামীকাল সকালে ঝর্ণায় দাপাদাপি হবে এইকথা দিয়েই আমাদের বসবাসের জায়গায় গেলাম,একবিছানায় দশজন এককাতারে ঘুমাতে হবে। বিছানা পাতাই আছে আমরা ঢুকেই গা এলিয়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম, সারারাত সারাদিনের নির্ঘুম চোখ নিমিষেই বন্ধ হয়ে গেল। রান্নায় ঝাল বেশিনা কম জিজ্ঞ্যেস করেছিল তমাসের মা,কেউএকজন একটুঝালের কথাই বলছিল। রাতবারোটায় কেউ একজন ডাকলে খেতে বসে সেই ঝালের টের পেলাম,ঝুলসহ ভাত মুখে দিতেই আগুন যেন মুখে জ্বলে উঠলো। আমি একবাটি ডাল ঢেলে দিয়ে ভাতগুলো ভক্ষন করে এসে জলকুলি করলাম তবুও ঝাল যায়না। আমরা খেজুর এনেছিলাম ঝাল কাটানোর জন্য এই সুমিষ্ট খেজুর খেলাম ল,কিছুটা ঝাল গেল। সবাই খাওয়াদাওয়া শেষে দিলাম ঘুম,সেই ঘুম সাড়ে আটটায় ভাঙলো।
সকাল হলো কাঠফাটা রোদ,আমরা নাস্তার অপেক্ষায় নাস্তা সেরেই ঘন্টাচারেক এর জন্য নাফাকুমে দাপাদাপি লাফালাফিতে ব্যস্ত সময় পার করবো। ইতিমধ্যে একদল এসে পড়েছে দাপাদাপি চলছে। আমরা নাস্তা সেরে যেতেই ওরা চলে যাচ্ছে, এখন আমরা দশজন। একজন ব্যতীত সবাই সাঁতার জানে,জয়বাংলার গেঞ্জি সবার গায়ে আকাশি নীলে নাফাকুম এখন অন্যরকম। যে যার মতো করে সময় পার করলো আধাঘন্টা, তারপর সম্মিলিত অত্যাচার। যে যারে পারছে সেইভাবেই অত্যাচার,কেউ বেশি অত্যাচারিত আর কেউ কম। ঝর্নার এই স্বর্গীয়জলে কখন যে তিনঘন্টা পার করলাম টেরও পেলাম না। নাফাকুম কি স্বর্গীয়সুধা অনুভবেই বোঝা যায়,ভাষায় নয়। আমাদের ঘরে আসা হলো, বিশ্রাম নিয়ে খেতে বসলাম ঘড়িতে ২. ০০। ২.৩০এরমধ্যে খেয়ে বিশ্রাম নিয়ে রেমাক্রির উদ্দ্যেশ্যে রওনা,কালরাতে অদেখা সৌন্দর্য আজ দিনে উপভোগ করতে করতে ও ছবি তুলতে তুলতে গেলাম। অসাধারণ রেমাক্রি ও বড়পাথর। ঝিরিপথ আর ক্যাসকেড। ছোটছোট পানির কুপ এরই মাঝে ছোটপাহাড় আবার একদুইটা ঘর। এই দেখতে দেখতে ৬.২৫এ আমরা রেমাক্রি আসলাম। আমাদের আজকের জুমঘরটা অসাধারন,ঝিরিপথের কলকল ধ্বনিতে রুম থেকেই পাওয়া যায়,আবার পাহাড়ি সৌন্দর্যও। আমরা পাঁচজন ঝিরিতে স্নান সেরে রুমে আসলাম,দশটায় খাবারের ডাক আসল। বলাবাহুল্য আমাদের খাবার মেনু ছিল প্রতিবেলা মুরগি আলুভর্তা ডিম ডাল আর জুম ভাত। এইটাই অইদিকে প্রধান খাবারের মেনু।দাম ১৫০আর থাকা ১৫০। কোথাও দামের হেরফের নেই এইটা নির্ধারিত। ভাত খেয়ে চাঁদের আলোয় আবার আড্ডা জমলো,আমাদের জন্মের অনেকাংশ হাসি হেসে নিলাম চাঁদের আলোয় দশজন মিলে,হাসিগল্পে ১২.৪৫বেজে গেল।
আমরা সকালে নাস্তা করবো বলেছিলাম নীচের দিদিকে কিন্তু সবার ঘুম ভাঙলো ৯.৩০. ইতিমধ্যে খানাদানা বিক্রি শেষ,দিদি বাধ্য হয়ে আমাদের জন্য ভাত রান্না করে দিলেন। নৌকা দশটায় আসার কথা প্রতিকূল রাস্তা পার হয়ে আসতে ১.০০বাজলো। আমরা আবার রওনা হলাম গতকালের ন্যায় আবার হাঁটা আর ঠেলাঠেলিতে নৌকা থানচি ভিড়ালাম। ঘড়িতে তখন ৪.৪৫। এসেই সোজা চান্দের গাড়ি ভাড়া করে, দুপুরের খাবার খেয়ে ৫.৩০এ চান্দের গাড়ি। বৈকালিক পাহাড়ের এক আলাদা আগুনলাগা সুন্দর,আমরা চারপাশ দেখতে দেখতে ঘন্টার মধ্যেই সবকিছু কালো হয়ে গেল। আর কিছু দেখা যায়না,চান্দের গাড়ির হেডলাইট যতটুক আলো দেয় ততটুক। চান্দের গাড়ি প্লেনের গতিতে ৮.০০টায় আমাদের বান্দরবান নিয়ে আসলো। এ এক অসাধারণ ভ্রমণ। আমাদের খরচ ইতিমধ্যে হিসাব হয়েছে ৫৩০০করে জনপ্রতি,এত খেয়েদেয়ে আরাম আয়েশ করে সত্যি কোটিটাকার বিনোদন নিলাম অফ নেটওয়ার্ক এ। নেটওয়ার্ক না থাকা চিন্তার হলেও বন্ধুত্বে আত্মিকতা বাড়ায়,আড্ডা আর গল্প প্রাণবন্ত হয়। জয়বাংলা ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস এর অফিসিয়াল বন্ধুবান্ধব সহ এইভ্রমণ সারাজীবনের একটা আনন্দময় স্মৃতি।
ধন্যবাদ রাবনদের যারা লংকাকান্ড করে এসেছে থানচি রেমাক্রি আরর নাফাকুমের বুকে। সাংগু সাক্ষী আমরা কতটুক আনন্দ পেয়েছি আর কতটুক থ্রিল ছিল এই ভ্রমণে।
আবারো ধন্যবাদ জয়বাংলা ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস।
ধন্যবাদ হিমেল এই আয়োজনের জন্য.
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!