‘বাবার কফিনের পাশে মাত্র তিন মিনিট’

41

অনলাইন ডেস্ক।। করোনাভাইরাস স্তব্ধ করে দিয়েছে মানুষকে। বিদায়ের বেলায় প্রিয় মানুষটির মুখখানা শেষবারের জন্য দেখা থেকে রাখছে বঞ্চিত। এমন কী শেষ গন্তব্যে এগিয়ে দিয়ে আসারও সুযোগ দিচ্ছে না। এই পৃথিবীর প্রিয় বাবা-মায়ের চলে চাওয়াটা দূর থেকেই দেখতে হচ্ছে সন্তানদের। এরকম অমানবিক পরিস্থিতি এ যাবতকালে আসেনি, ভবিষ্যতে আসবে কিনা তাও জানা নেই।

ভারতের মণিপুরের বাসিন্দা ২২ বছরের অঞ্জলি মাঙতে। দীর্ঘদিন রোগে ভোগার পর গত মঙ্গলবার তাঁর বাবা মারা যান। প্রিয় বাবা সব ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, আর তাকে দেখা যাবে না। এই শেষ দেখাটাও তার ভাগ্যে জুটবে কী না তা নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ তিনি রয়েছেন করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ইম্ফলের একটি কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে।

প্রশাসনের কাছে অনুরোধের পর বাবাকে দেখানোর জন্য বুধবার তাকে কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখানে এসেও মাত্র তিন মিনিটের জন্য বাবাকে শেষ বারের মতো দেখতে পেলেন তিনি।

লকডাউনে অঞ্জলি আটকে পড়েছিলেন চেন্নাইয়ে। শ্রমিক এক্সপ্রেসে সম্প্রতি ইম্ফলে ফিরেছেন তিনি। যে ট্রেনে তিনি ফিরেছেন, সেখানে কয়েকজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সেই কারণে ফেরার পর থেকেই ইম্ফলের কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে তাকে।

কফিনবন্দি বাবাকে দেখার জন্য মাত্র তিন মিনিট দেওয়া হয়েছিল তাকে। যদিও সেখানে পিপিই পড়িয়ে তাকে নেওয়া হয়েছিল। সময় শেষ হতেই স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে নিয়ে চলে যান। এই মুহূর্তটিতে অঞ্জলিকে সমবেদনা জানানোর জন্য আসতে দেওয়া হয়নি পরিবারের অন্য লোকদেরকেও।

মনিপুর রাজ্যে এখন পর্যন্ত ১২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনাভাইরাসে। তাদের মধ্যে ৩৮ জন সুস্থও হয়েছেন। তবে করোনার কারণে কোনও মৃত্যু হয়নি এ রাজ্যে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!