বাবা শহীদ মিনারের নিয়ে না যাওয়ায় নোট- প্রজ্জ্বল প্রিয় ও পূর্ণশ্রী প্রিয়ানাদের পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি।।

56

প্রতিবছরই একুশে ফেব্রুয়ারীতে বাবা ছেলেমেয়েকে নিয়ে শহীদ মিনারে যান। প্রজ্জ্বল প্রিয় ও পূর্ণশ্রী প্রিয়ানা শ্রীমঙ্গল পৌরসভা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করে। আজ ঘুম থেকে উঠে দেখে বাবা চলে গেছেন। কিছুক্ষণ মন খারাপ। এসময় তারা বুদ্ধি করে নিজেরাই শহীদ মিনার তৈরি করবে এবং সেই শহীদ মিনারে ফুল দেবে। আর ঘটলোও এমন টা ।

একটা ছোট্ট জলচৌকি ও তিনটি কাঠের পিঁড়ি দিয়ে এক মিনিটেই তৈরি হয়ে যায় শহীদ মিনার। শুরু হয় ফুল দেওয়া। ডেকে নিয়ে আসা হয় আশেপাশের ছেলেমেয়েদেরও। সবাই মিলে ফুল দেয়। এদের মধ্যে প্রথমবার ফুল দেয় মামার বাড়িতে বেড়াতে আসা পাঁচ বছরের রিমঝিম।

এ ব্যাপারে শহীদ মিনার তৈরীর কারিগর ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র প্রজ্জ্বল প্রিয় জানায়, ছোট বোন পূর্ণশ্রী প্রিয়ানা ঘুম থেকে উঠে দেখে বাবা শহীদ মিনারে চলে গেছেন। এসময় তার মন খারাপ হয়ে যায়। ছোটবোনের মন ভালো করতে সে এটি তৈরি করে দেয়। পরে তারা সবাই মিলে তাদের নিজেদের তৈরি শহীদ বেদিতে ফুল দেয়।

এ ব্যাপারে প্রজ্জ্বল প্রিয় ও পূর্ণশ্রী প্রিয়ানা পিতা বিকুল চক্রবর্তী জানান,”আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু বিলম্ব হয়ে যায়। ওদিকে প্রেসক্লাবের সবাই অপেক্ষা করছে। দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার জন্য ছেলে মেয়েকে নিতে পারেননি। মেয়েকে ঘুমের রেখেই রওনা দেই। দুপুরে বাসায় এসে দেখি আমার ছেলে-মেয়ে ও ভাগ্নি নিজেরাই শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করেছে। আমি এটি দেখে অভিভূত। ভাবছি এজন্য তাদের পুরস্কৃত করবো ” তিনি জানান, শহিদ মিনার যেমনই হোক ওরা শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছে হৃদয়ের ভিতর থেকে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!