বিজিবিতে যোগ দেয়া হলো না আরফিনার

অনলাইন ডেস্ক।।

130
‘মা তোমার আর কষ্ট করতে হবে না। আমি বিজিবিতে যোগ দিলে সংসারে আর অভাব থাকবে না। তুমি আমার জন্য চিন্তা করো না মা।’ এভাবেই মেয়ের কথাগুলো বলছেন আর কাঁদছেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আরফিনা খাতুনের (২০) মা মফিনা বেগম। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে নিহত আরফিনা খাতুনকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, বাবা হারা আরফিনা খাতুন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষা বৃত্তির টাকায় পাড়লেখা চালিয়ে গেছেন। গত জানুয়ারি মাসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) সৈনিক পদে চাকরির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন আরফিনা। গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) বোনের দেবরের মোটরসাইকেলে রংপুর বিজিবির আঞ্চলিক অফিস যোগদানপত্র নেয়ার জন্য যাওয়ার পথে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান আরফিনা। আগামী ২ এপ্রিল তার বিজিবিতে যোগদানের কথা ছিল।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক মো. রাশেদ মিয়া (২২) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, লালমনিরহাটে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সাড়ডুবী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের মেয়ে আরফিনা খাতুন বিজিবিতে সৈনিক পদে নির্বাচিত হন। বাবার মৃত্যুর পরও আরফিনা এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচএসসিতে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করেন। শত কষ্ট আর অভাব অনটনের মাঝেও তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে অনড় ছিলেন। আরফিনা এক ভাই ও তিন বোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তিনি হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন সরকারি কলেজে উদ্ভিদ বিদ্যা বিভাগে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রায় ১০ বছর আগে আরফিনার বাবার মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে তার মা বিভিন্ন সময় মানুষের বাড়িতে কাজ করে চার ভাই-বোনকে লেখাপড়া চালাতে সহযোগিতা করেন। বর্তমানে তার মা বেসরকারি সংগঠন স্বপ্ন প্রকল্প নামে একটি প্রকল্পে দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে কর্মী হিসেবে কাজ করেন।
স্থানীয় মকবুলার রহমান মিঠু বলেন, আরফিনা খুই মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিল। অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা চালিয়ে গেছে। বিজিবিতে সে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়োগপত্র আনতে গিয়ে তার অকাল মৃত্যু হলো।
বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আরফিনা আমার কাজ থেকে নাগরিক সনদপত্র নিতে এসেছিল। তার মৃত্যুতে
শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, আমি বড়খাতা ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবরটি জানতে পেরেছি।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!