বিরামপুরে ইসলামী ব্যাংকের এগারো কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত, শাখা লকডাউন

97

হিলি প্রতিনিধি।। দিনাজপুরের বিরামপুরে ইসলামী ব্যাংকের এগারোজন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ব্যাংটিকে লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে ব্যাংকের বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনাতে আক্রান্ত হওয়ায় ব্যবসায়ীরাও আতংকিত। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে বলে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩ টায় বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার ব্যাংকটি লকডাউন ঘোষণা করেন। এসময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী উপস্থিত ছিলেন।

বিরামপুর ইসলামী ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন ৩ জন কর্মকর্তা ও দুইজন কর্মচারীর করোনা ভাইরাস সনাক্ত হয়। গতকাল বুধবার আবারো ৩ জন কর্মকর্তা ও ৩ জন কর্মচারীর করোনা সনাক্ত হয়। ব্যাংকে ২৪ জন কর্মকর্তা এবং ২১ জন কর্মরত রয়েছেন। ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা এক লাখের বেশি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন গ্রাহক জানান, গত ২৫ জুন ব্যাংকের ম্যানেজার অপারেশন মো. আশেকুর রহমানসহ ৩ জন কর্মকর্তা ও দুইজন কর্মচারীর করোনা সনাক্ত হয়। নিয়ম অনুযায়ী করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেবার পর ফলাফল না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু করোনায় আক্রান্ত এসব কর্মকর্তা নমুনা দেবার পরও নিয়মিত ব্যাংকে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে এসেছে। এর ফলে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংকে প্রথম করোনা সনাক্তের পর লকডাউনের দাবী জানানো হলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, বিরামপুরে করোনায় আক্রান্ত অনেকেই ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক। ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সচেতন হয়ে আগেই ব্যাংকটি লকডাউন করলে অনেকেই করোনা আক্রান্ত হতোনা। এদিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানিকৃত অনেক পণ্যের এলসি খোলা হয়ে থাকে ইসলামি ব্যাংকে সেই সাথে অনেক ব্যবসায়ীদের দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য বিক্রির টাকাও আদান প্রদান হয়ে থাকে ব্যাংকের সেই শাখাতে যার কারনে হিলি স্থলবন্দরের বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ীদের সেই শাখাতে যাওয়া আসা রয়েছে। একসাথে ১১জন ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনাতে আক্রান্ত হওয়ায় এসব ব্যাবসায়ীরাও আতংকিত অবস্থায় রয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের বিরামপুর শাখার ব্যবস্থাপক মো. মোশারফ হোসেন জানান, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি প্রথম থেকেই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু ব্যাংক লকডাউনের বিষয়টি প্রশাসনের। পূর্বে প্রশাসন লকডাউন না করায় তাদের করার কিছুই ছিলোনা। আজ ইউএনও এসে ব্যাংকটিকে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করে গেছে।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরিমল কুমার সরকার জানান, ইসলামী ব্যাংক বিরামপুর শাখার এগারো জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্তের খবর পেয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে আজ বৃহস্পতিবার থেকে আগামী ১৪ দিনের জন্য ব্যাংকটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনার নমূনা পরীক্ষার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নমূনা পরীক্ষার ফলাফল আসার পর পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।

বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদী জানান, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইসলামী ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর নমূনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!