বুড়িচং’র পীরযাত্রাপুর ইউপি নির্বাচনে এম এ আজাদ’র অবস্থান অনেকটাই পজেটিভ

শান্তনু হাসান খান, (বিশেষ প্রতিনিধি)।।

২৪৮

সারাদেশে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউপি নির্বাচন করতে যাচ্ছে স্থানীয় মাঠ প্রশাসন। ব্যাপক সহিংসতা আর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যদিয়ে দু’ধাপে নির্বাচন সমাপ্ত করেছে সিইসি। তৃতীয় ধাপে ৮৩৫টি ইউপি নির্বাচনের মধ্যে মাত্র ৩৩৮ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার একক প্রার্থী হয়ে। চরমোনায়েমের ইসলামী ঐক্যজোটের হাত পাখায় ৬টি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

আর ৫০৪ জন আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। চতুর্থ ধাপে ৮৪০টি ইউপি নির্বাচন হবে ২৬ ডিসেম্বর। গত ৫দিন আগে ২৫ নভেম্বর মনোয়ন জমা দেয়া হয়েছে। এতে অনেক উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য ৫ থেকে ৮ জন পর্যন্ত চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়ন ক্রয় করেছেন। অনেকেই বলেন নৌকার টিকেট যারা পেয়েছেন তারা অনেকেই ‘নমিনিয়েশন বাণিজ্যে’র মধ্যেই।

বাছাই হবে ২৯ নভেম্বর, আপীল করা যাবে ৩০ নভেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যাবে ৬ ডিসেম্বর। আর সেই আলোকে বুড়িচং এর ৯টি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ৫ নং পীরযাত্রাপুরে এবারের সম্ভাব্য প্রার্থী ৫ জন। এর মাঝে জনগণের পছন্দের তালিকায় ২ জনের কথা উঠে এসেছে। এম এ আজাদ ও ডা. আবু মুসা ভূইয়া। পাশাপাশি আরো থাকতে চাচ্ছেন সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু তাহের ও বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জাহের ও কামাল উদ্দিন ঠিকাদার।

পীরযাত্রাপুরের ১নং ওয়ার্ডের মরহুম মোঃ মনসুর আলীর যোগ্য সন্তান এম এ আজাদ। বেড়ে উঠেছেন এ জনপদে। মাটি আর মানুষের সাথে সম্পৃক্ত ছোট বেলা থেকেই। পড়াশোনা করেছেন স্থানীয়ভাবে গোবিন্দপুর হাই স্কুলে। এরপর দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি ইন্টার শেষ করেন। ছাত্রাবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। ১৯৮৩ সালে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের মধ্য দিয়ে তার আওয়ামী ঘরনার রাজনীতি শুরু। এরপর ৮৫তে স্কুল ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৮৮ সালে ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।

এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৯১ সালে বুড়িচং থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর জীবন ও জীবিকার জন্য সাইপ্রাস ও বাহরাইনে প্রবাসী ছিলেন। সেখানে বসেও সমান তালে বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আজাদ বলেন, আমার অতীতের পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার বিবেচনা করে, সিলেকশন কমিটি তথা আমার নেত্রী-জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার আমাকে দলীয়ভাবে নমিনিয়েশন দিতে সাহায্য করবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের উপর ভর করে আমি নির্বাচনের মাঠকে গুছিয়ে রেখেছি।

আর নির্বাচিত হলে এই পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নকে অত্যাধুনিক ও ডিজিটাইলাইজড ইউনিয়ন হিসেবে জনগণকে উপহার দেয়ার চেষ্টা করবো। তিনি বলেন, আমাদের পীরযাত্রাপুরে ব্যাপক এলাকায় ইতিমধ্যেই অনেক ব্রিজ-কালভার্ট, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট, শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও এলাকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ঢেলে সাজাবার চেষ্টা করেছেন। আমি নির্বাচিত হলে সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করবো। আর সেটা হবে আমার বর্তমান এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল হাশেম খানের দিক নির্দেশনায়।

রাজনৈতিক কর্মকান্ড ছাড়াও তিনি বেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, পশ্চিমপাড়া সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমিতি, গোবিন্দপুর ডা. ছিদ্দিকুর রহমান হাফেজিয়া মাদরাসা ও এতিম খানার সহ-সভাপতি। গোমতী স্পোটিং ক্লাবের উপদেষ্টা, মেধা নিকেতন কেজি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা, ফেয়ার প্রাইজ ডিলার, এলাকার বাইতুল আমান জামে মসজিদ ও গোবিন্দপুর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক।

এক সময় তিনি আজাদ বন্ধু পরিষদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বলেন, আমার প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এ এলাকার কৃতিসন্তান এবং সমাজসেবক মাননীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল হাশেম খান। এছাড়াও দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আমি কোনো প্রফেশনাল চেয়ারম্যান হয়ে – টিআর-কাবিখা’র পেছনে দৌড়াতে চাই না। জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

আয়েশা আক্তার/অননিউজ24

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!