বুড়িচংয়ে ভূয়া এনজিও শতশত গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও!!

45
বুড়িচং (কুমিল্লা)  প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউপির ভরাসার – ইছাপুরা এলাকা থেকে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি ( বি ডি এস) নামের একটি এনজিওর নামে প্রতারক চক্র ঋণ দেয়ার কথা বলে ৬টি গ্রামের শতশত গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে রাতের আধারে উধাও হয়েছে। মাত্র ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় জামা রেখে দুই বছরেরর কিস্তিতে সহজ শর্তে ঋণ কথা বলে  মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামে।  প্রতারক চক্রের পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গ্রাহকদের মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান,  ইউএনও, থানার ওসি, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঋণ দেয়ার কথা ছিলো। কথা মত ঋণ নিতে আগ্রহী সঞ্চয় জমা দেয়া গ্রাহকরা সকালে এসে দেখেন অফিসের বিল্ডিং এ সাইনবোর্ড নেই ৫ বছরের চুক্তিতে ভাড়া নেয়া শফিক মিয়ার মালিকানাধীন নিচতলার অফিসটি ও তালাবদ্ধ। ধিরে ধিরে নারী পুরুষ ও গ্রাহকরা জড়ো হলে সকলেই বুঝতে পারেন তারা প্রতারিত হয়েছে। ঋণ দেয়ার কথা বলে প্রতি লাখের জন্য ১০ হাজর টাকা করে সঞ্চয় আমানতের টাকা নিয়ে পালিয়েছে বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট সোসাইটি নামের এনজিওটির ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেয়া ধূর্ত আবুল কালাম আজাদ । বেলা বাড়ার সাথে সাথে গ্রহকদের উপস্থিতি ও সেই সাথে বাড়তে থাকে খেটে খাওয়া মানুষের আহাজারি।
জানাযায়, উপস্থিত এলাকাবাসী, বাড়ির মালিক ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার আকতার হোসেন জানান,  গত ১০ দিন আগে প্রবাসী শফিক মিয়ার স্ত্রী’র সাথে কথা বলে ভাড়াটিয়া হিসেবে কোন প্রকার ডকুমেন্টস ছাড়াই একটি ফ্লাট ভাড়া নেয়। নিজেকে এরিয়া ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে বুড়িচংয়ের বিজয়পাড়া এলাকার নাজির মিয়ার মেয়ে উম্মে খাদিজা সহ আরো স্থানীয় ২ জনকে বেশী বেতন দেয়ার কথা বলে অপর একটি এনজিও থেকে এনে নিয়োগ দেন বিডিএস নামের এই ভূয়া প্রতিষ্ঠানে। স্থানীয়দের মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বাটপার আবুল কালাম আজাদ নামের ঐ ব্যাক্তি তাদের মাধ্যমে গাজিপুর এলাকার ইনুছ মিয়ার স্ত্রী রওশন আরা কে ৫০ লাখ টাকা গৃহঋণ দেয়ার কথা বলে আমানত সঞ্চয় ১লক্ষ ২০ হাজার টাকা নগদে নিয়ে নেন,  একই গ্রামের মৃত জলফু মিয়ার ছেলে খোরশেদের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেন ৬লক্ষ টাকা ঋণ দেয়ার কথা বলে, শাকতলা এলাকার ব্যাবসায়ী রিপন ও সদর দঃ উপজেলার খোরশেদ মিয়া থেকে ৩০ লক্ষ টাকা করে গৃহ ঋণ দেয়ার কথা বলে ৩লক্ষ টাকা করে ৬ লক্ষ টাকা, শিকার গ্রামের সাবেক মেম্বার মনির হোসেন থেকে কৃষি ঋণ দেয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা, আব্দুল কু্দ্দুস থেকে ২০ হাজার, ইসুফ মিয়ার স্ত্রী রোকসানা  থেকে ৪০ হাজার, গাজীপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার স্ত্রী থেকে ১০ হাজার টাকা জামা নেন। একই ভাবে আশেপাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে শতাধিক নারী পুরুষ থেকে কোটি টাকার উর্ধে হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি গায়েব হয়ে যায়। ভুক্তভোগীরা সকলেই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য জানিয়ে তারা বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে সরকার অনুমতি ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির আওতায় গ্রামীন জনপদকে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী করতে ব্যবসা,  কৃষি, পশুপাখি, গৃহ নির্মাণ, মৎস্য চাষ, প্রবাসী, অটো, সিএনজি ক্রয় লোন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা ঋণ প্রদান করে থাকে। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট সোসাইটির  (বিএডিসি) প্রধান কার্যালয় বরিশালে এবং গভঃ রেজিঃ নং ১৭২/১৯৮৪-২৭৪। আমরা উপজেলার পরিচিত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে এর সত্যতাও পাই এরপর টাকা জমা দেই ঋণ পাওয়ার আশায়। ঋণের আশায় ধারদেনা করে টাকা জমা দিয়েছি সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঋণ দেবে এ আশা নিয়ে এসে দেখি আবুল কালাম আজাদ সহ অফিসের সকলে লাপাত্তা আর অফিসকক্ষেও তালা ঝুলছে। পরে তার ফোন ০১৮৬০৪৮৮৬৮৪ নাম্বারটি ফোন দিলেও নাম্বারটি বন্ধ পাই,  এখন কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। এসময় প্রতারণার শিকার বেশ কয়কজন নারীকে অফিসের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
ভারাটিয়া সম্পর্কে বাড়ির মালিক সৌদি প্রবাসী শফিকুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভাড়াটিয়ার কোন ছবি, চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট কিংবা কোন এনআইডি কার্ডের ফটোকপি কিছুই তার কাছে নেই। মিটিং কথা বলে গভীর রাতে সাইনবোর্ড খোলার সময় তিনি দেখেছেন বলেও স্বীকার করেন।
এবিষয়ে ষোলনল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা পালিয়ে গেছে কিনা জানিনা, তবে গতকাল আমাকে একজন ঋণ প্রদানের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে দাওয়াত করেন। এখন আপনার কাছে বিষয়টি শুনলাম যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যাদের থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা সকলেই আমার নিজ গ্রাম ও আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি শুনেছি ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছি তাদের কে অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের পর এবিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরো পড়ুনঃ