বেকারত্ত্ব দূর করতে দেশী মুরগি পালন

505
বাংলাদেশের গ্রাম এলাকায় প্রায় প্রতিটি পরিবার দেশী মুরগি পালন করে থাকে। রোগ-বালাইয়ে মৃত্যুর কারনে দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে পারিবারিক খামার। অথচ দেশী মুরগী অধিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি জাত। এদের মাংস ও ডিমের মূল্য বিদেশী মুরগীর তুলনায় দ্বিগুণ, এর চাহিদাও খুবই বেশী, কিন্তু যোগান কম।
দেশী মুরগির মৃত্যুহার বাচ্চা বয়সে সবচেয়ে বেশী। দিন দিন মুরগি পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে খামারীরা। নিরুপায় হয়ে খামারীরা ঝুকছেন ব্রয়লারের দিকে। ব্রয়লার মুরগীর মাংস নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক, আমি সেদিকে দৃষ্টিপাত করবো না। আসুন আমরা জেনে নেই দেশী মুরগির বাচ্চার যত্ন সম্পর্কে।
গৃহাস্থলীতে সাধারনত মা মুরগির সাথেই বেড়ে উঠে বাচ্চা। এ ক্ষেত্রে সাধারণত মা মুরগিই বাচ্চার তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করে। সে ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রথম দুই সপ্তাহ মুরগি সহ বাচ্চাকে সরারসরি মাটিতে না রেখে একটি ছালার বস্তা বিছিয়ে তাতে মা ও বাচ্চাকে একটি খাচি দ্বারা আটকিয়ে তাতে খাবার পরিবেশন করুন। এতে করে তাপের তারতম্য ঘটবে না। তার পর ধীরে ধীরে মাটিতে ছেড়ে দিন। বস্তাটি প্রতিদিন পরিস্কার করুন। এক মাস পর্যন্ত বাচ্চাকে এ ভাবে প্রতি পালন করুন। মনে রাখবেন মুরগির বাচ্চার ১ম সপ্তাহে ৯৫ ডিগ্রি ফা:, ২য় সপ্তাহে ৯০, ৩য় সপ্তাহে ৮৫ এবং ৪র্থ সপ্তাহে ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপের প্রয়োজন যার অধিকাংশই মা মুরগি করে থাকে। আপনাকে পরিবেশটা তৈরী করে দিতে হবে।
প্রতিষেধক টিকা: বাচ্চা ফুটার ৭ দিনের মধ্যে ১৫ টাকা মুল্যের বিসিআরডিভি টিকা এক-চোখে এক ফোটা দিয়ে দিন। ১ম ডোজের পনের দিন পর একই নিয়মে বোষ্টার ডোজ দিন। ৭-১০ দিন বয়সে ২০ টাকা মুল্যের পিজিয়ন ফক্স টিকা পালকের চামড়ার নিচে সুই দিয়ে ২-৩ বার খুচিয়ে দিন। ২১-৩২ দিন বয়সে ৪০ টাকা মুল্যে ফাউল ফক্স টিকা পালকের চামড়ার নিচে সুই দিয়ে ২-৩ বার খুচিয়ে দিন। ৪৫ দিন বয়সে ১৫ টাকা মুল্যে আরডিভি টিকা ১ সিসি করে ৩ মাস পর পর রানের মাংসে দিয়ে দিন। ৭০-৭৫ দিন বয়সে ৩০ টাকা মুল্যের ফাউল কলেরা বুকের চামড়ার নিচে ১ সিসি করে ৬ মাস পর পর দিতে হবে। প্রতিটি টিকা দিয়ে ৭০-৮০টি মুরগি/বাচ্চাকে টিকা দিতে পারবেন। ঝামেলা এড়াতে সকল টিকা নিকটস্থ প্রানি সম্পদ অফিস হতে এক সাথে সংগ্রহ করে বাড়ীতে ফ্রিজে সংরক্ষন করতে পারেন। দেশী মুরগি/বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রতি ২ মাস পর পর কৃমি নাশক খাওয়াবেন।
টিকা প্রদানে কিছু সাবধানতা: কলা নয় বরফযুক্ত ফ্লাস্কে টিকা পরিবহন করবেন। সূর্যোদয়ের আগে টিকা দিতে হবে। টিকা গুলাতে ডিস্টিল ওয়াটার ব্যবাহার করুন। গুলানো টিকা আধা ঘন্টার মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। মুরগিকে নির্দিষ্ট জায়গায় একত্র করে টিকা দিন।
বাচ্চার খাদ্য: পারিবারিক খামারে পালিত মুরগী সাধারনত গৃহস্থলীর আশ-পাশ হইতে পোকা-মাকড়, লতা-পাতা ও শস্য দানা খেয়ে থাকে, তবে সেটা পর্যাপ্ত নয় বিধায় তাদের চাহিদা অনুসারে বাড়তি সম্পুরক খাদ্য দিলে কাঙ্খিত ডিম ও মাংস পাওয়া যাবে। বাচ্চাকে প্রথম ১/২ দিন ভুট্টা ভাঙ্গা বা সাগু দানা পরিস্কার কাগজে পরিবেশন করা উত্তম। চাহিদামত সুবিধাজনক পাত্রে খাবার ও পানি পরিবেশন করুন।
সম্পুরক খাদ্য নিজেই বাড়ীতে তৈরী করুন: ভুট্টা/গম/চালের খুদ-৪০%, গমের ভুষি-৫ %, চাউলের কুড়া-২৫ %, তিলের খৈল-১২ %, শুটকি মাছের গুড়া-১০ %, শামুক/ঝিনুক/ডিমের খোসা চূর্ণ-৭ %, লবন-০.৫ %, প্রিমিক্স ভিটামিন-০.৫%। উল্লোখিত শুকনো উপকরন সমুহ চাহিদা মোতাবেক মিশ্রন করে একটি পাত্রে রেখে পরিমানমত খেতে দিন। সাথে প্রতিদিন সস্তা দামে সব্জির কুচি পরিমান মত খেতে দিন।
বাচ্চার রোগ বালাই: সাধারনত বাচ্চা অবস্থায় পায়খানার সাথে রক্ত বা রক্ত আমাশয় দেখা দেয়। এমতাবস্থায় কসুমিক্স প্লাস বা ইএসবি৩ খাওয়ান। বাসস্থান ও খাদ্য পাত্র পরিস্কার রাখলে এ ধরনের অসুখ থেকে মুক্তি মিলবে।
মৃত্যু ঝুঁকি কমিয়ে আপনিও শুরু করতে পারেন মুরগি পালন। পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ করে বাড়তি আয় করতে পারেন খামার থেকে।
লেখকঃ মোঃ মিজানুর রহমান।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!