বড়লেখা পৌর নির্বাচন; এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুল লড়বেন বর্তমান মেয়রের সাথে

শান্তনু হাসান খান, বিশেষ প্রতিনিধি।।

79

এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে। এর পর আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা চলবে। তবে চলতি বছর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়।

অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রæয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রæয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর সেই আলোকেএবার মৌলভীবাজার সদর কুলাউড়া, বড়লেখা আর কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনের প্রার্থীরা মাঠে আছেন। বড়লেখা পৌরসভার বর্তমান মেয়র কামরান চৌধুরী আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন। এছাড়াও মাঠে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইদুল ইসলাম।

সাইদুল পৌর এলাকার ভোটার। এখানকার নির্বাচনে বরাবর একটা আঞ্চলিকতার প্রভাব কাজ করে। আর সেটা হলো এলাকা ভিত্তিক। গাজীটেক, মোহুগঞ্জ আর পাখিয়ালা। এই ৩টি অঞ্চলের মানুসরা নিজেদের মতো করে প্রার্থী বাছাই করেন। ফওল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাইদুলের অবস্থান খুবই ভালো। এদিকে উপজেলার চেয়ারম্যান বনাম মেয়র কামরানের দূরত্ব দিনদিন বাড়ছে। তবে জে.এন. সিদ্দীকি নামক আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসতে পারেন। আর তখনই সাইদুলের অবস্থানটা খুবই ফলপ্রসূ- এমন মন্তব্য এলাকাবাসীর। কামরানের বিপক্ষে কেউ কথা বলতে নারাজ। উনি যা করেছেন, সেটা হলো সরকারের রুটিন ওয়ার্ক। বাড়তি কিছু আনতে পারেন নি। তবে সাইদুল বলেন, আল্লাহ আমাকে কামিয়াব করলে, বড়লেখার মানুষদের জন্য বাসযোগ্য একটি সুন্দর পৌরসভা উপহার দিতে চাই।

নাগরিক জীবনের সকল চাহিদা পূরণে কাজ করবো সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে। এদিকে ভোটের আগে সাইদুলকে চাপে রাখার জন্য একটি মহল নির্বাচন থেকে তাকে দুরে রাখতে মিথ্যা অযুহাতে মামলা ঠুকে দিচ্ছেন। সম্ভাব্য পৌর মেয়রের প্রত্যাশ্যায় বিভিন্ন পোস্টার ব্যানারকে কেন্দ্র করে একটি মামলা হয়। আর তাতে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, মামলা দিয়ে আমাকে দমানো যাবেনা। কারণ আমার জনগন আছে। আছে ভোটারগণ। এদিকে ১৬হাজার ভোটারদের মাঝে ২০% নবীন ও তরুন ভোটাররা সাইদুলের পেছনে একাট্টা। মাত্র ৪০ বছরের সাইদুল ইসলাম পড়াশোনা করেছেন গ্রামের স্কুল বড়লেখাতে। পরে উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয় থেকে গ্রেজুয়েশন করেন। তিনি বলেন, বড়লেখা পৌরসভা এখনো ২য় শ্রের্নী তারপরেও এখানকার গুরুত্ব অপরিসীম। হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এটি ১ম শ্রেনীতে উন্নীত হবে। এখানকার মাননীয় সাংসদ, সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহাবুদ্দিনের দিক নির্দেশনায় আরো ঢেলে সাজাতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সিলেটের পরেই মৌলভীবাজারের এই বড়লেখা পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় জনপদ। এখানের এশিয়ার সবচইতে বড় হাওড়- হাকালুকি হাওড় এখানে সিংহভাগ।

তারপরেও আছে মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। আছে অনেকগুলো পাহাড়ি ঝর্না। এখানকার আতর আর আগর গাছ ছোট শিল্পের আওতায়। এছাড়াও রয়েছে ১৮ টি চা বাগান। পরিশেষে সাইদুল ইসলাম বলেন, মাদক, সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ এই তিনটি হচ্ছে উন্নয়নের প্রধান বাধা। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আগামীতে উন্নয়নের জন্য জনগনের সহযোগিতা পাবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!