ভারতে আক্রান্ত ৭৮ হাজার ছাড়িয়েছে, স্থগিত ট্রেন চলাচল

61

অনলাইন ডেস্ক।। ধারণার চেয়ে ভারতে প্রতিদিনিই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। যার মূলকেন্দ্র মহারাষ্ট্র। এমন অবস্থায় সাধারণ ট্রেন চলাচল শুরু করে মাত্র তিনদিনের মাথায় তা স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বলছে, সংক্রমণের গতি রুখতে লাগাতার চেষ্টা করা হলেও কিছুতেই যেন বশে আনা যাচ্ছে না ওই ভয়ঙ্কর করোনাকে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত দেশজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজারের বেশি।

গত একদিনে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে করোনা সংক্রমণ ও তার জেরে মৃত্যু। ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ভুগে মোট ১৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩ হাজার ৭২২ জন নতুন করে শিকার হয়েছেন। এতে করে ভারতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ৩ দাঁড়িয়েছে। প্রাণহানি বেড়ে ২ হাজার ৫৪৯ জনে ঠেকেছে। আর মরণ এ ব্যাধি থেকে আরোগ্য লাভ করেছেন ২৬ হাজার ২৩৫ জন। কেন্দ্রীয় সরকারি পরিসংখ্যান মতে, এখন পর্যন্ত করোনা থেকে পুনরুদ্ধারের হার ৩৩.৬৩ শতাংশ।

আক্রান্তের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় মহারাষ্ট্রে। যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ হাজার ছুঁই ছুঁই। বাণিজ্য নগরীটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৯৭৫। এর পরেই রয়েছে গুজরাট। যেখানে ৯ হাজার ২৬৭ জনের আক্রান্তে প্রাণ গেছে ৫৬৬ জনের। মৃত্যুর সংখ্যা ৬৪ তে আটকে থাকলেও তামিলনাড়ুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যার হিসাবে এর পরেই রয়েছে রাজধানী দিল্লি (৭ হাজার ৯৯৮), রাজস্থান (৪ হাজার ৩২৮), মধ্যপ্রদেশ (৪ হাজার ১৭৩)ও উত্তর প্রদেশ (৩ হাজার ৭২৯)।পশ্চিমবঙ্গেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১৭ জন। এ নিয়ে রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল দু’হাজার ২৯০ জনে। রাজ্যে সরাসরি করোনার কারণে মৃত্যু হয়েছে ১৩৫ জনের।

এদিকে গত মঙ্গলবার থেকে স্পেশাল ট্রেন চালানো শুরু করেছে ভারতীয় রেল। সেই ট্রেন চললেও সমস্ত সাধারণ ট্রেন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। যা আগামী ৩০ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে ট্রেন মন্ত্রণালয়।ফলে আগে থেকে কেটে রাখা ৩০ জুন পর্যন্ত সমস্ত টিকিট বাতিল করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয় বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। বাতিল হওয়া টিকিটের পুরো টাকা ফেরত দেওয়া হবে।শ্রমিক স্পেশাল চালু হয়েছিল বেশ কিছু দিন আগে থেকেই। এই ট্রেনে করে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর কাজ চলছিল। এরপর মঙ্গলবার থেকে দেশের কয়েকটি নির্দিষ্ট রুটে শুরু হয়েছিল স্পেশাল ট্রেন। তাতে সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই আশা করেছিলেন, ধীরে ধীরে ট্রেন চালানো শুরু করতে পারে রেল।

কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলে রেলের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত কেটে রাখা সমস্ত টিকিট বাতিল করা হয়েছে। মেল, এক্সপ্রেস, সাবার্বান-সহ সমস্ত ট্রেনের টিকিটই এর আওতায় পড়বে। তবে ওই সব টিকিটের পুরো টাকাই ফেরত দেওয়া হবে।দিকে মঙ্গলবারই জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এবার বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দেশের মানুষের পকেটে টান। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সব মিলিয়ে ২০ লক্ষ কোটি টাকার উদ্দীপনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

এই জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক তহবিল থেকে দেশের মানুষকে সহায়তা এবং ত্রাণ দিতে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। করোনা ভাইরাসের সংকট মোকাবিলাতেই ওই অর্থ ব্যবহার করা হবে এই ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, ‘৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ভেন্টিলেটর কেনার জন্য বরাদ্দ করা হবে, বাকি এক হাজার কোটি টাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের সাহায্যের জন্য এবং ১০০ কোটি টাকা করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়ার জন্যে ভ্যাকসিন তৈরির কাজে সহায়তা করবে।’

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!