ভারতে একদিনে রেকর্ড মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক।।

38
মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে ভারতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো ১৬৪ জনে। এছাড়া আক্রান্ত ছাড়িয়ে গেছে ৫ হাজার।
এদিকে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পরিচালিত স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং বেসরকারি ল্যাবগুলোতে এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা তাও তদারকি করতে বলা হয়েছে।
বুধবার জনস্বার্থ সম্পর্কিত এক আবেদন শেষে বিচারক অশোক ভূষণ ও এস রবীন্দ্র ভাট এই আদেশ দেন। বিচারকরা বলেন, বর্তমান জাতীয় সংকটজনক পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
দেশটিতে মৃত্যু ও আক্রান্তের হার বাড়তে থাকায় চলমান লকডাউন বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়ে আসছিল বিভিন্ন রাজ্য সরকার।
বুধবার দেশের রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তাতে সায় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে আদৌ লকডাউন প্রত্যাহার করা সম্ভব নয় এবং তা যুক্তিসঙ্গতও হবে না। বৈঠকে উপস্থিত অন্যান্য দলের নেতারাও একই মত দেন।
ভারতে করোনা ভাইরাসের সামাজিক সংক্রমণ রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২৪ মার্চ দেশব্যাপী ২১ দিনের লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন, যা ১৪ এপ্রিল শেষ হবে।
কিন্তু ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় বেশ কয়েকটি রাজ্যের অনুরোধে সরকার লকডাউনের সময়সীমা আরও বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।
বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশসহ বেশ কয়েকটি রাজ্য লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর পক্ষে মত দেয়। তেলেঙ্গানা রাজ্য এক জরিপ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে লকডাউন ৩ জুন পর্যন্ত বাড়াতে বলে।
রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী কেটি রামা রাও মঙ্গলবার এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, ওই জরিপে রাজ্যটিতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ১ জুন সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে।
শুধু রাজ্যগুলোই নয় একাধিক বিশেষজ্ঞ কেন্দ্রীয় সরকারকে একই পরামর্শ দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদিও তৈরি ১১ জনের বিশেষ কমিটিকে সেসব পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যেখানে বেশির ভাগেরই মত লকডাউন বাড়ানোর দিকে।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৯১ হয়েছে। সেখানে ৭টি হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছে। পুনেতে বুধবার দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০। মুম্বাইয়ের ধারাভি বস্তিতে নতুন করে আরও দু’জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯। মহারাষ্ট্রে আক্রান্তের সংখ্যা ১০০০। দিল্লি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর আক্রান্ত হয়েছেন করোনায়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কাশ্মীরে নতুন করে ১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২৫।
ভারতে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সমন্বয়কের ভূমিকা পালনকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি সামজিক দূরত্ব বজায় রেখে রীতি মেনে চললেও তাকে যদি কোয়ারেন্টিন করা না হয়, তাহলে ৩০ দিনে তার মাধ্যমে আরও ৪০৬ জন আক্রান্ত হতে পারেন।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতজুড়ে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের ৭০ শতাংশের রোগ লক্ষণ মাঝারি থেকে মৃদু এবং তাদের কোভিড-১৯-এর চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া দরকার হবে না।
আরো পড়ুনঃ