ভার্চুয়াল আদালত ফৌজদারি ধারণা পাল্টে দিয়েছে

96

অনলাইন ডেস্ক।। করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) পরিস্থিতিতে মানুষের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এমপির প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় ভার্চুয়াল বিচারব্যবস্থা চালু হয়েছে। এ ভার্চুয়াল আদালত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ১২২ বছরের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। এখন হাওর এলাকা বা প্রত্যন্ত গ্রামে বসেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলার শুনানি করতে পারছেন আইনজীবীরা। শুধু এ বিচারব্যবস্থার পরিবর্তন নয়, করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে সারা দেশে নিম্ন আদালতের বিচারক ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখভাল করতে আইনমন্ত্রীর নির্দেশে মনিটরিং ডেস্ক খুলেছে আইন মন্ত্রণালয়। প্রায় ২০ হাজার বিচারক ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনাকালীন দেখভাল করা হচ্ছে এই হেল্প ডেস্কের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশ থেকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করেছে। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ভিত্তিকে মজবুত করছে। জনগণের দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। যাতে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে, সেই জন্য বিচার বিভাগকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকার ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। বিচারকদের অস্ট্রেলিয়া, জাপান, চীন ও ভারতে নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ভার্চুয়াল আদালতব্যবস্থা
করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে নিয়মিত আদালত বন্ধ থাকায় ভার্চুয়াল আদালত চালু করা হয়। দেশের সব আদালতে জরুরি বিষয় শুনানির জন্য ভার্চুয়াল আদালতব্যবস্থা চালু করতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনার আলোকে আইন মন্ত্রণালয় গত ৯ মে গেজেট প্রকাশ করে। আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ-২০২০ নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এ অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে শারীরিক উপস্থিতি হিসেবে ধরে আদালতকে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এ অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে সারা দেশে আদালত বসছেন, বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। এ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করতে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এ বিল পাস হলে ভার্চুয়াল বিচারব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় যে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে, তা স্থায়ী রূপ নেবে। এ ভার্চুয়াল পদ্ধতির সুযোগে এরই মধ্যে সারা দেশের আদালতগুলো থেকে ৪০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির জামিন হয়েছে। উচ্চ আদালত থেকে জরুরি বিষয়ে নির্দেশনা আসছে।

ই-জুডিশিয়ারি
সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশে কমপক্ষে দেড় হাজার এজলাসকে ই-আদালত কক্ষ হিসেবে রূপান্তর করতে এরই মধ্যে আইন মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করে দিয়েছে। দেশের সব আদালতকে আইসিটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় পাঁচ বছরের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যাতে সরকারও এরই মধ্যে সাড়া দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ই-জুডিশিয়ারির জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। জানা গেছে, পাঁচ বছরের এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা। ই-জুডিশিয়ারি কার্যকর করতে আইনমন্ত্রীর নির্দেশে আইন মন্ত্রণালয় সাক্ষ্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর খসড়া এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি আদালত এবং বিচারকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দপ্তর, যেমন—থানা, হাসপাতাল, কারাগার এবং সম্পৃক্ত ব্যক্তি, যেমন—আইনজীবী, তদন্ত কর্মকর্তা, সাক্ষী ও আসামি একটি কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন। ই-জুডিশিয়ারি ব্যবস্থা চালু হলে দুর্ধর্ষ আসামিদের কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার ঝুঁকি থাকবে না, বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমবে, মামলার জট কমবে। পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

মনিটরিং ডেস্ক
আইনমন্ত্রীর নির্দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলার লক্ষ্যে সারা দেশে নিম্ন আদালতের বিচারক ও আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখভাল করতে মনিটরিং ডেস্ক খুলেছে আইন মন্ত্রণালয়। দুজন উপসচিবকে এ ডেস্কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিচারক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেমন আছেন, সেই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রতিদিন রাত ১০টার মধ্যে তা আইনমন্ত্রীকে জানানো হয়।

বিদেশগামীদের ১৭১৫টি সনদ সত্যায়িত
করোনাকালীন ছুটি শেষ হওয়ার পর ৩১ মে থেকে গত ২১ জুন পর্যন্ত তিন সপ্তাহে বিদেশগামীদের বিয়ের সনদ (কাবিননামা), জন্ম ও মৃত্যু সনদ, শিক্ষাগত সনদসহ ১৫ ধরনের এক হাজার ৭১৫টি সনদ সত্যায়িত করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের রেজিস্ট্রেশন শাখা থেকে এসব সনদ সত্যায়িত করা হয়। বিদেশগামীদের কাগজপত্র বিদেশি দূতাবাসে দেখাতে গেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। আর আইন মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশি দূতাবাসগুলো এসব কাগজপত্র গ্রহণ করে না।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!