ভুট্টা চাষে লাভবান হচ্ছে, সোনারগাঁয়ে কৃষক

নজরুল ইসলাম শুভ, সোনারগাঁও প্রতিনিধি।।

64

অধিক লাভের আশায়, উৎসাহী কৃষকরা উপজেলার চরাঞ্চলে বসত বাড়ির পাশে ও পতিত জমিতে চলতি মৌসুমে ভুট্টা চাষে ব্যাপক সফলতা এনেছে। নারায়ণগজ্ঞের সোনারগাঁয়ে এবছর বাজার দাম ভালো পাওয়ার আশা করছেন চাষীরা । স্থানীয় চাষীরা জানান, উপজেলার নুনেরটেক ও চরকিশোরগজ্ঞ নদীর চরে অনেক জমি বছরের পর বছর পতিত থাকে। এসব পতিত জমিতে তেমন কোন ফসল চাষ করা যায়না।

তবে ওইসব জমিতে ভুট্টা চাষের উজ্জ্বল সম্ভবনা থাকায় চলতি মৌসুমে তারা (চাষী) চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে পড়েন। সেই সাথে বাড়ির পাশে ফসল কম হওয়া বা পতিত জমিতে ভুট্টা চাষ করছেন।উপজেলা কৃষি স¤প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী,নুনেরটেক,পিরোজপুর,নয়াগাঁও ,বারদী,সাদীপুর,জামপুর,মোগড়াপারা,শম্ভুপুরা,চরকিশোরগজ্ঞসহ ভিবিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল বারি (১৬), এনকে (৪০), পালওয়ান, টাইটান, ৯৮১ সহ বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ভুট্টা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করেছে। মানুষের খাদ্যের পাশাপাশি মাছ, হাঁস-মুরগী ও গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এর চাহিদাও বেড়েছে অনেক বেশি।

ভুট্টা গাছের পাতা সুষম গো-খাদ্য এবং কান্ড জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, ফলে একদিকে যেমন কৃষক তার গবাদি পশু পালন ও জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারে অপরদিকে বাজারে ভুট্রার ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষক এ ফসলে আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিভিন্ন গ্রামে চলতি মৌসুমে এই ভুট্টা চাষ হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে বীজ বপনের পর এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে।

শেষের দিকে ভুট্টা ঘরে তোলা পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকবে বলে আশাবাদী। চরাঞ্চরের বালি পরে থাকা জমিতে বীজ বপনের পর থেকেই গাছ তরতর করে বেড়ে উঠতে থাকে। প্রতিটি গাছে ০৩-০৪ টি করে ভুট্টার কলা ধরেছে। চাষীরা গড়ে প্রতি মণ (৪০ কেজি) ভুট্টা ৬৫০-৭০০ টাকায় বিক্রি করবেন বলে আশা করেন। চরের কোনো, কোনো চাষী এককভাবে ০৫ বিঘা পর্যন্ত জমিতে ভুট্রা চাষ করেন।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি অফিসার মনিরা আক্তার জানান, এই উপজেলা ভুট্রা চাষে বিখ্যাত। এবছর ভুট্রা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হেক্টর। আর সেখানে আবাদ হয়েছে ২৮ হেক্টর। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আরও জানান, গত বৎসর প্রতি হেক্টর (সাড়ে সাত বিঘা) জমিতে গড়ে ৬-৭ মেট্রিক টন ভুট্টার ফলন হয়েছে। এবছর জমিতে গড়ে ৭-৮ মেট্রিক টন হবে বলে আশা করি। বিপনন করতে পুরুষ শ্রমিমকদের পাশাপাশি নারীরা দক্ষ হয়ে উঠায় এ কাজে তাদের কদর বাড়ছে।

উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের কৃষক আ.মতিন ও সাইদুর রহমান জানান, এবার প্রায় ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন।শম্ভপুরা ইউনিয়নের কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘায় ভুট্টা চাষ ও কাটা মাড়াইয়ে মোট খরচ হবে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা। প্রতি বিঘা জমি থেকে(ফলন ভাল হলে) ভুট্টা পাওয়া যাবে ৩৫-৪০ মণ পর্যন্ত। বাজার গুলোতে প্রতি মণ ভুট্টা ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রয় হয়ে থাকে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে। সেই সাথে বাজারে দাম ও চাহিদা বেশি থাকায় এবার চাষীরা লাভবান হবেন।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!