ভূটানের ভ্রমনলিপি, পর্ব-১ “কালিপদ দেবনাথের বিশেষ প্রতিবেদন”

201

ভ্রমণ করতে হলে কোন পরিকল্পনা লাগেনা বেড়িয়ে পড়লেই হয় কিন্তু দেশান্তরে কিছু নিয়মনীতি ও পরিকল্পনা আবশ্যিক।ভারত ভ্রমণে ভারতীয় ভিসা আর ভূটান নেপাল সড়কপথে যেতে ট্রানজিট ভিসা লাগে।
ট্রানজিট ভিসা, ভ্রমণকর ও বাসের টিকিট কাটা সম্পন্ন আরো একটা কাজ শেষ দিনক্ষণ ঠিক করা।তাও ঠিক হলো ঈদ পাঁচ হোক আর ছয় হোক,আমরা পাঁচ তারিখই যাত্রা করবো।
ভাগ্য সুপ্রসন্ন ৫ তারিখ ঈদ, সকালে সবাই ঈদের নামাজ আদায় আর বাবামাভাইবোনের সাথে সেমাই খেয়েই রওনা হল সবাই ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে,বাস রাত আটটায় গাবতলী থেকে ছাড়বে বুড়িমারি।
ইদের দিন রাস্তাঘাট জনশুণ্য আর গাড়িশুণ্যও,যেতে বেশি সময় লাগেনি।
কুমিল্লা ঢাকার চিরচেনা রাস্তা-দুপাশে কখনো গাছের ছায়া আবার রোদের ঝলক।
মাঝখানে সারিসারি রাধাচূড়া গাছ।
ঘড়িতে ঠিক পাঁচটায় আমরা মিরপুর অনিকের বাসা,সেখানে জম্পেশ আড্ডা হলল,ইদের নানারকম খাবারে আপ্যায়িত হলাম।
সন্ধ্যার পরপরই বের হয়ে গেলাম,ঠিক পৌনে আটটায় গাবতলী।
বাস ইতিমধ্যে আমাদের স্বাগত জানাতে কাউন্টারে হাজির।
কিছুদিন আগেই যিনি ফেসবুক বন্ধু হয়েছেন,যাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে সেই পার্লম্যাথুকে দেখলাম পিংকী পরিবহণের কাউন্টারে,সরাসরি আজ পরিচয় হল।
খানিক বাদের বাস ছাড়বে চিপস পানীয় খাবারসহ বাসে উঠলাম,ম্যাথু আর আমরা পাশাপাশি আসনেই বসলাম।
ম্যাথু জয়গা পর্যন্ত আমাদের ভ্রমণসঙ্গী,অতুলহেলালের ম্যাথুর সাথে পরিচয় হল।
বাসে ম্যাথু আর অতুল পাশাপাশি,ম্যাথুর সাথে নানা কথাবার্তায় ভুটান সম্পর্কে জানা হল।
এরই মধ্যে ভুটানের ভ্রমণের নিমিত্তে গাইড,গাড়ি ও থাকার ব্যবস্থা কনফার্ম হলো।
টাইগার খ্যাত লুংট্যান আমাদের সব ব্যবস্থা করবেন।
উপকার পেয়ে আমরা খুশি হলাম।
অন্যদিকে শীততাপনিয়ন্ত্রক বাস সেজন্য প্রকৃতি দেখার কিছু নেই আবার রাতের আধারে কিছু দেখাও যায়না।
বাসে আসন বেশ আরামদায়ক আর গাড়ি গতিতে চললেও যেন স্মুথলি যাচ্ছে আরাম পেয়ে আড্ডায় আড্ডায় ঘুমিয়ে পড়লাম।
বগুড়ায় গিয়ে বাস থামলো,ঘোষ মিষ্টান্নভান্ডার খোলা,বাকিসব হোটেল ইদের বন্ধ।
মুরগি খিচুড়ি খেলাম সবাই বেশ তৃপ্তিভরে,দধি দেখে লোভ হল কিন্তু বাস ছেড়ে দিচ্ছে আকাঙ্ক্ষা নিয়েই বাসে উঠলাম।
একটু আগে যে খিদে ছিল তা মিটলো এইবার আবার শান্তির ঘুম,গুড়িগুড়ি বৃষ্টি বাসের কাচে দেখা যাচ্ছে, সব যাত্রীরা ঘুমেঘুমে ৫.৩০মিনিটে বুড়িমারি বাস কাউন্টার।
বাসে থাকাকালীনই বলা হলো পাসপোর্ট আর তিনশত টাকা দিতে হবে,পিংকী কাউন্টারে জমা দিলে তারাই ইমিগ্রেশন এর ফর্মফিলাম সহ যাবতীয় কাজ করে দিবেন।
আমরা খুব আশান্বিত হলাম তাহলে ইমিগ্রেশন যাব আর কাজ হয়ে যাবে।
বাস কাউন্টারে প্রাতঃকর্ম সম্পন্ন,সবাই মিলে বুড়িমারির চারপাশটা দেখে নেই।
একটু যেতেই একটা খালিজায়গায় গাঁজার চারা -গাঁজায় মাদকতা আছে কিনা জানিনা তবে গাঁজা গাছের পাতার সৌন্দর্য্যে একধরনের মাদকতা আছে।
সেঞ্চুরি পাতার মতো,নিউজিল্যান্ড এর জার্সির পাতাটার কথা মনে পড়ে যায়।
গাঁজার চারাগুলোর বেড়ে উঠা দেখে অভিভূত হলাম,অযত্মেই কি সুন্দর রুপসূধা নিয়ে বাড়ছে।
আরো আছে নানারকম আগাছার ফুল,বুড়িমারি সীমান্তের গ্রামগুলো চমৎকার।
গ্রামের মাঝেই বিজিবি ক্যাম্প,তা পাড় হয়ে পাটগ্রাম সাথী হোটেল।
সাথী হোটেলে এখন খাবার রান্না হচ্ছে, পরিবেশন হতে সময় লাগবে।
যেসময়টা লাগবে সেইসময়টা পাশের চা দোকানে বসে আড্ডা আর ফ্রুটিকা পান করলাম।
ডাক আসলো চাচীর, খাবার তৈরি-চোখের সামনে পরিবেশন হল আলুভর্তা, ডাল, ডিমভাজি আর গরুরমাংস।
আলুভর্তা আরর ডিমভাজিটা অসাধারণ , আমি তাদিয়ে আমার খাবার সম্পন্ন করলাম।
খাওয়া শেষ হলে চা পান, চা পর্ব শেষ হলে পাশেই একটা দীঘি।
দীঘির পাড়ে গাছগাছালির নীচে একটা বিশালাকার মাচা।
মাচায় বসে কালক্ষেপণ করলাম, নয়টা বাজতে ঢেড় দেরি।
দীঘিরপাড়ে মৃদুমন্দ বাতাস আর সকালের সূর্যের কিরণ ক্ষণেক্ষণে তীব্র হওয়া উপভোগ করতেই নয়টা।
বন্দর খুলছে,আমরা সবাই ভিতরে গিয়ে বসলাম।
ভিতরে সাড়েতিনঘন্টা নারকীয় যন্ত্রণা আর নরক দেখলাম।দূর্নীতি, অসহ্যগরম আর কর্মকর্তাদের অসততা দেখে অসন্তুষ্ট।
এইবন্দরে কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা নেই,অমুকস্যারের দশটি পাসপোর্ট আর তমুক স্যারের পনেরটি বলে যে যার মতো দালালী করছে।আর জনগন তিনশটাকা দিয়েও অসহ্য গরমে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে-এইহলো বুড়িমারী বন্দর।
১২.৩০আমাদের কাজ সম্পন্ন হলো বিজিবি পুলিশ চেকপোস্ট পাড়হলাম,ভারতীয় সীমান্ত চেংড়াবান্ধা।
১০০রুপী জনপ্রতি জমা দিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হলো,বেশি সময় লাগেনি।
একশরুপী না দিয়ে বন্দর পাড় হওয়া দায়,ফরমই আসেনা হাতে।
বিকাশ নামক একজন দালাল আমাদের কাজে সহায়তা করলেন, ১৫মিনিটেই কাজ সম্পন্ন।

চলবে…………

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!