মধুমতি নদীর ঝুকিতে সরকারী বেসরকারি বহু স্থাপনা, হাট-বাজার ও তীরবর্তি পরিবারগুলো

মোহাম্মাদ আলী মোহন, বাগেরহাট প্রতিনিধি।।

252

(৬ জানুয়ারী,২০২১খ্রি.)বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে চরম বিপাকে পড়েছে নদী কুলবর্তি পরিবারগুলো। শত বৎসরের পুরনো হাট/বাজার, সরকারী বিভিন্ন স্থাপনা, নব-নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, উপজেলা সদরের প্রধান শোপিং মার্কেট গুলো সবই রয়েছে ঝুকিতে। ভাঙ্গন কবলীত এলাকা ঘুরে ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানাগেছে উপজেলা সদরের খর¯্রােতা মধুমতি নদীর কুল ঘেষে প্রায় ২কিঃমিঃ জায়গায় ভাদ্র ও আশ্বিন মাসের বড় ভাঙ্গন এবং বৎসরের সব সময় একটু একটু করে ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হতে থাকে, এতেকরে নদীর কুলবর্তি পরিবার গুলো চরম বিপাকে পড়ে যায়, বাড়ীঘর,গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হলে আর জমি ক্রয়করে বাড়ী করার মত সহায় সম্বল না থাকায় ভাঙ্গন কবলীত দরীদ্র মানুষগুলো ছিন্নমূলে পরিনত হয়।

উদয়পুর গো-হাট থেকে গিরীশনগর বটতলা পর্যন্ত নদী তীরের এই এলাকা ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে বিআইডবিøউ এর টাইডাল গেজ থেকে মোল্লাহাট থানার সামনে অবস্থিত খুলনা ওয়াশার পানি শোধনাগার পর্যন্ত অতিরিক্ত ঝুকিতে রয়েছে। অতিরিক্ত ঝুকিপূর্ন এলাকার নিকটবর্তি অবস্থানে রয়েছে উপজেলা পরিষদ ভবন, নব-নির্মিত মোল্লাহাট মডেল থানা ভবন, আবুল খায়ের সেতু,ওয়াপদা অফিস, শহীদ হেমায়েত উদ্দিন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পাঁচটি জামে মসজিদ, ১টি বড় মাদ্রাসা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাড়ফা বাজার খাদ্যগুদাম, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, সদর ডাকঘর, নব-নির্মিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, সোনালী ব্যাংক, উপজেলা সদরের প্রধান হাট/বাজার চান্দিনা, গোহাট সহ প্রায় ১০টি শোপিং সেন্টার এবং সরকারী ও ব্যক্তি মালিকানাধীন নানা স্থাপনা ও বাড়ীঘর।

নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে এ সকল প্রতিষ্ঠান গুলো আক্রান্ত হলে সরকার যেমন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হবে, ব্যক্তিপর্যায়ে ও অনেকেরই পথে বসতে হবে। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জননেতা শেখ হেলাল উদ্দীন এঁর কাছে এলাকাবাসীর আকুল দাবী অতিসত্ত¡র পানি উন্নয়ন বোর্ডের অগ্রাধীকার ভিত্তিক বড় প্রকল্পের মাধ্যমে ঝুকিপূর্ন এলাকা বাধাই করে মধুমতি নদীর করাল গ্রাস থেকে তাদের রক্ষা করা হউক।

এ ব্যপারে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন প্রতিবেদককে জানান বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৩৬/১ পোল্ডারের তিনটি ভাঙ্গন কবলীত এলাকা সার্ভে করে তিনটি প্রকল্প করা হয়েছে উক্ত প্রকল্পের মধ্যে “মোল্লাহাট উপজেলা সদর সংরক্ষন” প্রকল্প ও রয়েছে। প্রকল্পের ডিজাইন অনুমোদনের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে, উক্ত ডিজাইন অনুমোদিত হয়ে আসলেই দ্রæত পরবর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে, আশাকরা হচ্ছে অতি ঝুকিপূর্ন মোল্লাহাট সদর রক্ষা বাধের কাজ আগামী তিন/চার মাসের মধ্যে শুরু করা সম্ভব হবে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!