মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা; ফয়জুন্নেসা সিমুর বিশেষ কলাম

143

শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড। মানসম্মত শিক্ষার জন্য প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। একটি জাতিকে স্বশিক্ষিতভাবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের উন্নয়ন কোনভাবেই সম্ভব নয়। মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেক কথাই বলতে হয়।

‘শিক্ষার শেকড়ের স্বাদ তেতো হলেও এর ফল মিষ্টি’—এরিস্টটলের এ কথাটি বোধ হয় খুব ভালোভাবেই আঁচ করেছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়ক, মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই ১৯৭৩ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের কঠিন সময়ে একটি শিক্ষিত জাতির স্বপ্নের কারিগর হিসেবে তিনি একসঙ্গে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ করেন।

জাতীয় উন্নয়নের সবচেয়ে অপরিহার্য স্তম্ভ হলো প্রাথমিক শিক্ষা। মুক্তবাজার অর্থনীতির এই যুগে দেশ ও জাতিকে উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌছানোর একমাত্র উপায় হলো যোগ্য মানবসম্পদ সৃষ্টি। যোগ্য মানবসম্পদ সৃষ্টির একমাত্র হাতিয়ার হলো উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। আমাদের শিশুদের প্রতিভাকে বিকাশের জন্য উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানসম্মত করে গড়ে তুলতে উন্নয়নের কান্ডারী ডিজিটাল সরকার বহুবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

আশা কথা হচ্ছে যে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানের প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে চালুকৃত মিড ডে মিল কার্যক্রম, আনন্দ পাঠের আসর, মেধা পুরস্কার ও সেরা উপস্থিতি পুরস্কারের প্রচলন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড আমাদের শিশুদের বিদ্যালয়ের প্রতি আরও বেশি আকৃষ্ট করে তুলছে। যা অত্যন্ত আশার সঞ্চার করেছে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে বিদ্যালয়ে শিশুদের উপস্থিতির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর হার হ্রাস পাচ্ছে পূর্বের তুলনায়। শিশু শ্রম ও শিশু বিবাহ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে। সব মিলিয়ে সুন্দর আগামী গড়ে তোলার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।

= লেখক : সভাপতি, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, কুমিল্লা জেলা।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!