মুজিববর্ষে নতুন ভাবে সাজছে কুমিল্লা; নগরজুড়ে বর্ণিল আলোর ঝলকানি

এম.এইচ মনির।।

36
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে রঙিন সাজে সেজেছে শিক্ষা-সংস্কৃতির পাদপীঠ কুমিল্লা নগরী। বঙ্গবন্ধুর অনেক বিরল ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন মোড়ে ও প্রধান সড়কগুলোতে। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দেখা যায় বর্ণিল আলোর ঝলকানি।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড় মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যলয় ,দক্ষিন জেলা আওয়ামী লীগের কার্যলয়, জেলা প্রশাসকের কার্যলয়,নগর ভবন, জেলা পরিষদ ভবন,ডায়াবেটিকস হাসপাতাল,বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা সরকারি দফতর থেকে শুরু করে বিভিন্ন অভিজাত বিপনী বিতান, নগরের অলি-গলিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যালয় বর্ণিল আলোকসজ্জিত করা হয়েছে। এলাকাভিত্তিক ব্যবসায়ী সমিতির উদ্যেগে নগরীর প্রধান সড়কের দুই পাশে ও মোড়ে মোড়ে শোভা পাচ্ছে বিদ্যুৎ-বাল্বের বাহারি রঙের আলোর ঝলকানি। ঐতিহ্যে নগরী কুমিল্লা এখন রূপ নিয়েছে আলোর নগরীতে।

এদিকে শহরতলীর গোমতী নদীর পাড়ে বিশেষ করে টিক্কাচর ব্রীজ এলাকা সেজেছে অপরুপ সাজে। স্থানীয় পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুলের উদ্যেগে ব্রীজের দু-পাশ আশেপাশের স্থাপনা ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে শোভা পাচ্ছে বাহারি রঙের আলোকসজ্জা। গোমতীর পাড়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বর্ণিল আলোকসজ্জায় চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। ব্রীজের দু’পাশের ল্যাম্পপোস্টও বাহারি আলোকরশ্মি। সাদা, লাল, নীল, সোনালি হরেক রঙের মরিচবাতি নদীর জলে ঝিলিমিলি খেলা করছে। নগরবাসীও বেশ উপভোগ করছেন এমন দৃশ্য।
গত ১০ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের কাউন্ট ডাউন শুরু হয়। কুমিল্লা টাউন হল মাঠে মুজিব জন্মশতবার্ষিকীর ক্রাউন ডাউন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি কুমিল্লাকে ক্লীন সিটি করার ঘোষনা দিয়ে বলেন, ‘ আজ ইতিহাসের সবছেয়ে বড় আনন্দের দিন। আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীতে শুধু আনন্দ উৎসবই করব না। আমরাদের প্রতিজ্ঞাবন্ধ হতে হবে। সকালে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আজকের দিনে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি কুমিল্লাকে একটি পরিছন্ন সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো। মুজিববর্ষে কুমিল্লাকে ক্লীন সিটি হিসেবে গড়ে তুলবো।’
মুজিব বর্ষ উদযাপন প্রসঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, মুজিববর্ষে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। ধীরে ধীরে পুরো নগরীকে উৎসবের আমেজে নিয়ে আসা হবে। মানুষ যাতে জাতির পিতাকে স্মরণ করে, মনে রাখে সে উদ্যোগ নিয়েই বছরজুড়ে থাকবে সিটি কর্পোরেশনের নানা আয়োজন।
বুধবার সরজমিনে নগরঘুরে দেখা যায়, নগরীজুড়ে চলছে শোভাবর্ধনের কার্যক্রম। জনবহুল স্থানে ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে বিভিন্ন কার্যক্রম, পারিবারিক ও বৈদেশিক সম্পর্কিত ছবি ও চিত্র সম্বলিত ব্যানার ও বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে। মুজিববর্ষের এসব ব্যানার ও বিলবোর্ডে শোভা পাচ্ছে মুজিববর্ষের লগোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, বিভিন্ন চুক্তি সম্পর্কিত সমঝোতা স্বাক্ষর, জাতিসংঘে ভাষণ, জনতার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধু হাত উঁচিয়ে শুভেচ্ছা, মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি স্বাক্ষর, পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু-এমন নানা ধরনের ছবি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এসব ব্যানার আনন্দধারায় এক অন্যরকম মাত্রা দিয়ে চলেছে।

গতকাল ১৭ মার্চ ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন। চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালন করছে গোটা দেশ। করোনাভাইরাসের কারণে ইতোপূর্বে গৃহীত নানা আয়োজনে পরিবর্তন আনা হলেও গত মঙ্গলবার রাত ৮ টায় আতশবাজির অনুষ্ঠান ঠিক ছিল। নগরীর টাউন হল মাঠে আতশবাজি অনুষ্ঠান ছিল বেশ উপভোগ্য।
জন্মশতবার্ষিকীর এমন আয়োজন দেখতে পেয়ে অনেকেই জানিয়েছেন তাদের সন্তুষ্টির কথা। মুজিববর্ষে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতি যথাযথ সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস জানবে এমনটাই প্রত্যাশা আলোকসজ্জা দেখতে আসা দর্শনার্থী ও আয়োজকদের।
পাঁচথুবী ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুল বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পরই লাল-সবুজের আলোতে ঝলমলিয়ে ওঠে পুরো টিক্কাচর এলাকা ও ইউপি ভবন। চোখ ধাঁধানো এ আলোকসজ্জার ঝলকানিতে মন কেড়েছে সবার। ইতিহাসে মহানায়ক জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে আমি নিজেকে গর্ববোধ করছি।
আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!