মুরাদনগরে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি

মুরাদনগর প্রতিনিধি।।

38

দীর্ঘ ২২ বছরেও স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া, নিয়োগ বিধি সংশোধন, বেতন আপগ্রেডেশন ও টেকনিক্যাল পদ মর্যাদার দাবিতে সারা দেশের ন্যায় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) থেকে কর্মবিরতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পালন করছে। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে ফিরে যাবেনা, তাঁতে চাকুরী চলে গেলে যাক, তবুও কর্মস্থলে ফিরে যাবেনা বলে আন্দোলন কারিরা উল্লেখ করেন।

মুরাদনগর উপজেলা হেলথ্ এসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন সভাপতি ও স্বাস্থ্য সহকারী মনিরুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বরে স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের এক মহাসমাবেশে আমাদেরকে বেতন বৈষম্য নিরসনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের ২ ফেব্রæয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য একটি কমিটিও গঠন করে দেন। তার পরেও তাদের দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও স্বাস্থ্য সহকারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে বাংলাদেশ হেলথ এসিসট্যান্ট এসোসিয়েশন নামে সংগঠনটি গত ২০ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মবিরতীতে যাওয়ার ঘোষনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় দাবি পুরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কর্মবিরতী অব্যাহত থাকবে বলে জানায়।

উপজেলা দাবি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক কৃষ্ণপদ দেব বলেন, তাদের দাবি হলো নিয়োগ বিধি সংশোধনসহ ক্রামানুসারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরির্দশক ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন গ্রেড ১৬তম থেকে যথাক্রমে ১১, ১২ ও ১৩তম গ্রেডে উন্নীতকরণ।

দাবি বাস্তবায়ন কমিটির উপজেলা সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য সহকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা বহু কষ্ট করে দূর্গম এলাকায় গিয়ে বসন্ত, ম্যালেরিয়া, শিশুদের যক্ষা, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি, ডিপথেরিয়া, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলস ইনফুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও হাম-রুবেলাসহ ১০টি মারতœাক সংক্রামিত রোগের কাজ করে আসছি। তিনি আরো বলেন, প্রজাতন্ত্রের পদোন্নতি বিধি অনুযাযী একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ৩ থেকে ৭ বছর পরপর পদোন্নতি পান। কিন্তু একজন স্বাস্থ্য সহকারী ২০/২৫ বছর যাবত পদোন্নতি পেয়ে সহকারী স্বাস্থ্য পরির্দশক হতে পারেনা। এ ছাড়া তাদের বদলী করা হয় অন্য জেলা থেকে উপজেলায়।

সাইদুল ইসলাম আরো বলেন, বিদেশ ফেরতদের বাড়িতে, বাড়িতে গিয়ে হোম কোয়ারান্টাইনে থাকার নির্দেশ ও ফলোআপ করতে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্মীরা ঝুকি নিয়ে ৮ শতাধিক সহকারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। স¤প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাদের বেতন বৈষম্য নিরসনে ঘোষনা দিলে আজো বাস্তবায়ন হয়নি বলে উল্লেখ করেন। উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মীরা সকাল ১০টা হতে বেলা ২টা পযন্ত দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতী পালন করে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!