মুরাদনগরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক শরিফকে পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে

119

মো. হাবিবুর রহমান, মুরাদনগর।। ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার সন্ত্রাস বাহিনীর হামলার শিকার কুমিল্লার মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরী তাকে রাখা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত এবং হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার কারণে তার অবস্থা অবনতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শরীফের স্ত্রী রোমানা চৌধুরী। হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার নামীয় আসামী নাছির মিয়া ও কবির হোসেন মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার ভার্চুয়াল আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে উভয়কে কারাগারে প্রেরণ করেছে। এ দিকে দুপুরে ওই হাসপাতালে ছেলেকে দেখতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন একই হামলায় আহত শরীফের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন চৌধুরী।

হাসপাতাল থেকে বেড়িয়ে ছেলের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে শরীফের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে মুঠো ফোনে জানান, ‘আমার ছেলের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর ওরা ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলেছে, চোখের সামনে ছেলেকে এমন নির্দয়ভাবে মারতে দেখেও তাকে রক্ষা করতে পারিনি। শরীরে তীব্র যন্ত্রনা নিয়ে সে এখন হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। অর্থের অভাবে এখন ভাল চিকিৎসাও হচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন বর্বরতা ৭১ সালে দেখেছি, আমার ছেলেকে ওরা গুলি করে মেরে ফেললে হয়তো আরও ভাল হতো, তার এমন যন্ত্রনা আর দেখতে হতো না।’ তিনি বলেন, ‘এলাকা থেকে খবর পেয়েছি চেয়ারম্যান শাহজাহান ঘটনা ধামাচাপা দিতে আমার ছেলের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধন করেছে, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায় বিচার চাচ্ছি। কারণ বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছিল আমি তখন একই ইউনিটে থেকে বিরোধিতা করায় আমাকে চাকুরী থেকে বাধ্যতামূলক ভাবে অবসরে পাঠানো হয়।

এরপর এ বিষয়ে স্বাক্ষী দিতে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা ইউনিটে অনেকবার তলব করেছে। আমার উপর অনেক হুমকী এসেছে, তখন আল্লাহর অশেষ কৃপায় বেঁচে গেলেও এখন এলাকার নব্য হাইব্রিট আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান শাহজাহান মিয়া আমাকে ও আমার ছেলেকে মনে হয় আর বাঁচতে দিবে না।’

শরীফের স্ত্রী রোমানা চৌধুরী জানান, চিকিৎসকরা এখনো তাকে ওয়ার্ডে বেড দেয়নি, জরুরী বিভাগে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে, হাত-পায়ের ভেঙ্গে যাওয়া অংশে বড় ধরনের অপারেশন লাগবে, এখন প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এ দিকে মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বিকালে জানান, যারা সাংবাদিক শরীফের উপর হামলা চালিয়েছে, ঘটনার মদদ দিয়েছে তারাই আজ উল্টো এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানবন্ধন করেছে।

তিনি আরও জানান, ওই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার নামীয় আসামী নাছির মিয়া ও কবির হোসেন সকালে কুমিল্লার ভার্চুয়াল আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে উভয়কে কারাগারে প্রেরণ করেছে। দুপুরে আহত সাংবাদিক শরীফকে দেখতে হাসপাতালে যান আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুমায়ুন কবীর ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি নুরুজ্জামান ভুট্টো। এ সময় নেতৃবৃন্দ শরীফের উপর হামলাকারী ও নির্দেশদাতারা এলাকায় প্রকাশ্যে সমাবেশ করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সকল আসামীর গ্রেফতারের দাবি জানান।

এর আগে মুরাদনগর উপজেলার দারোরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ওই চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত শনিবার দুপুরে শরিফুল আলম চৌধুরীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় চেয়ারম্যান বাহিনী। এ সময় হাতুরি ও লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তার দুই হাত-পা ভেঙ্গে ফেলা হয়। মাথায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা আবদুল মতিন চৌধুরী ও বৃদ্ধ মা আহত হন। একমাত্র বোনকেও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে।

সাংবাদিক শরিফ চৌধুরীর অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় মঙ্গলবার সকালে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেয়া হয়। এ ঘটনায় ওইদিন বিকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে শরীফের বাবা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান গ্রেফতার হলেও পরদিন সে ভার্চুয়াল আদালত থেকে জামিন লাভ করে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!