মৃত্যুর দুই দশকেও জনমনে অমলিন দানবীর হাজী আলতাফ আলী

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম প্রতিনিধি।।

59

হাজী আলতাপ আলী। মৃত্যুর দুই দশক পরও কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের কাছে তিনি সার্বজনীন ভালোবাসার অমর পুরুষ। শুধু আজগরা ইউনিয়ন কিংবা লাকসাম উপজেলাতেই নয়; পরোপকারী আলতাপ আলীর গগণচুম্বী জনপ্রিয়তা সমগ্র কুমিল্লা জুড়ে বিস্তৃত। তিনি ছিলেন আজগরা ইউনিয়নের আলোকবর্তিকা।

যখন দু’মুঠো ভাত খেতে আজগরার মানুষ সদা উদগ্রীব ছিলো, শিক্ষা কি বা তার কি প্রয়োজনীয়তা তা বুঝার এত দরকার মনে করতো না তারা। সবাই নিজ নিজ ভাবনায় বিভোর ছিলো। তখনও এই অমর পুরুষ ভাবতেন নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিয়ে। তিনি লাকসাম উপজেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং আজগরা ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। প্রায় ২৭ বছর যাবৎ সততার সাথে জনপ্রতিনিধিত্ব করেন।

হাজী আলতাপ আলী ছিলেন আজগরার আপামর জনতার আশ্রয়স্থল, প্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু। আমরণ তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছেন পরকল্যাণে। নিজ এলাকার বাসিন্দাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৭ সালে তিনি ‘‘আজগরা হাজী আলতাপ আলী হাইস্কুল” প্রতিষ্ঠা করেন। যা পরবর্তীতে (১৯৯৯ সালে) কলেজে রুপান্তরিত হয়। শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়নেও তিনি নিরলস ভাবে কাজ করেছিলেন।

শিক্ষানুরাগী হাজী আলতাপ আলী অসাধারণ মানুষ ছিলেন। তার কাছে গিয়ে কেউ খালি হাতে ফিরতো না৷ বিশেষ করে পড়াশুনার ব্যাপারে কেউ গেলে সাহায্যের পাশাপাশি তাদেরকে পরামর্শও দিতেন৷ শুধু স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেই তিনি ক্ষান্ত হননি; নিজের টাকায় অনেক ছাত্রের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি আমাদের এ অঞ্চলে আপামর জনতার দানবীর, শিক্ষারতœ হিসেবে পরিচিত। ৭ এপ্রিল বুধবার আজগরাবাসীর সার্বজনীন ভালোবাসার অমর পুরুষ আলতাপ আলীর ২৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৯৮ সালে ৮৭ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!