মোবাইল ফোন চার্জের বিল ৩০ টাকা

53

অনলাইন ডেস্ক।। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবের পর সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় মোবাইল ফোন ও টর্চলাইটে প্রতিবার চার্জের জন্য ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও এলাকায় বিদ্যুৎ না আসায় বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্র চার্জ দিতে জেনারেটরের দোকানে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে ২০ মে থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছে। আম্পানের পর সরকারি অফিসে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও বাড়িঘর ও বেসরকারি প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এখনও বিদ্যুৎবিহীন। এই পরিস্থিতিতে ডিজেলচালিত জেনারেটর দিয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রিক যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ইঞ্জিনভ্যানযোগে জেনারেটর এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ পদ্ধতিতেও চার্জ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলার কাকডাঙ্গা বাজারের মকলেছুর রহমান জানান, প্রতিটি মোবাইল ফোন ও টর্চলাইট চার্জ দিতে ৩০ টাকা করে নিচ্ছে। এই দুর্যোগের সময় ৩০ টাকা অনেক। যদি ১০ টাকা করে চার্জ দিতে নিতো তাহলে সবার সুবিধা হতো।

বাগাডাঙ্গা গ্রামের শামিম আহমেদ বলেন, দোকানে যারা মোবাইল ফোন বা টর্চলাইট চার্জ করতে দিয়ে যাচ্ছেন তাদের প্রতিটা ফোন ও লাইটে নাম ও নম্বর লিখে রেখে দেওয়া হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজন থাকায় ৩০ টাকা দিয়েই মোবাইল চার্জ করে নিচ্ছেন অনেকে।

স্থানীয়রা আরো জানান, বর্তমান অবস্থায় কলারোয়ার বিভিন্ন বাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অনেকেই এখন ফোনের ব্যাটারি চার্জ দেয়ার সাময়িক ব্যবসায় নেমেছেন। উপজেলার কাকডাঙ্গা মোড়, বোয়ালিয়া, ফকিরপাড়ার মোড়, শাকদাহ, যুগিখালী, বুইতা, মাদরা, গয়ড়া, বুঝতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে লম্বা লাইন ধরেছে মানুষ।

সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম (কারিগরী) প্রকৌশলী মাসুম আহম্মেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে সাতক্ষীরায় ১ হাজার ৭৮২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে। তার ছিঁড়েছে বহু স্থানে। সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলায় লাইন সংস্কারের কাজ চলছে। কলারোয়া উপজেলায় সব থেকে বেশি বিদ্যুৎ লাইনে ক্ষতি হয়েছে। আমাদের কর্মীরা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করি দুই এক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাবে।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!