যুক্তরাষ্ট্রে জাতীয় নিরাপত্তায় সাংবাদিক ইমরান আনসারীর এম এস ডিগ্রী অর্জন

143

যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত নিউ জার্সি সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ থেকে মাস্টার্স অব সাইন্স ডিগ্রী অর্জন করেছেন বাংলাদেশি লেখক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ইমরান আনসারী।

শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর গ্রাজুয়েশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মাস্টার্সে তাঁর থিসিস ছিল ‘দক্ষিন এশিয়ায় জঙ্গীবাদ ও মানবিক নিরাপত্তায় এর প্রভাব” । কভিড ১৯ এর কারণে এবছর শ্বশরীরে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে বঞ্চিত হন যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো শিক্ষার্থী।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এফিলিয়েট এ গ্রাজুয়েট ডিগ্রী শেষ করার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ইমরান আনসারী জানান, বিডিয়ার হত্যাকান্ড, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থলূট ও হলি আর্টিসানের ঘটনাবলী জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় আন্তর্জাতিকমানের ডিগ্রী নিতে তাঁকে উদ্ধুদ্ধ করেছে। দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পর আবারো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে উৎসাহ ও সহযোগিতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদেও প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরো জানান, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে পলিসি লেভেলে কাজ করবার জন্য নিজেকে তৈরী করার দীপ্ত শপথ নিয়ে পিএইচডি ডিগ্রী করাই হবে তাঁর আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা। ইতোমধ্যে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে পেপার উপস্থাপন করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য ইমরান আনসারী পেশাগত জীবনে বাংলাদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। বৈশাখী টেলিভিশন, একুশে টেলিভিশন, দিগন্ত টেলিভিশন, দৈনিক সমকাল, দৈনিক নয়াদিগন্ত এর মধ্যে অন্যতম। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড ন্যাশনস করসপন্ডেন্টস এসোসিয়েশন, দ্যা নিউ ইয়র্ক প্রেসক্লাব ও ফরেন প্রেস এসোসিয়েশনের সদস্য । এছাড়াও যুক্ত রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সাথে। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক অফিস সম্পাদক ও কুমিল্লা জার্নালিস্ট সোসাইটি অব ঢাকা’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব ছিলেন।পেশাগত কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেন আইসিএফজে ফোলোশীপ (যুক্তরাষ্ট্র), আইআইজে ফেলোশীপ, (জার্মানী), থমসন রয়টার্স ফেলোশীপ (যুক্তারাজ্য) প্রভৃতি।

সাংবাদিক ইমরান আনসারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে যথাক্রমে সম্মান ও মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। প্রতিভাবান এই সাংবাদিক কুমিল্লা জেলার ব্রা²ণপাড়া উপজেলার শশীদল গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। তাঁর শৈশব কাঁটে তাঁর নানার বাড়ি কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার আনন্দপুর ভূইয়া বাড়িতে। তিনি বুড়িচং উপজেলার ফকির বাজার ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বেও সাথে স্টার মার্কস পেয়ে দাখিলে বুড়িচং কেন্দ্রের ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থীও মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পড়ে ভর্তি হন ঢাকার বিখ্যাত তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায়। সেখান থেকে কৃতিত্বেও সাথে আলিম পাশ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়া অবস্থায় তিনি নেতৃত্ব দেন ঢাকাস্থ বুড়িচং উপজেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের যথাক্রমে সভাপতি ও সেক্রেটারি হিসেবে। এছাড়াও ঢাকাস্থ কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের তিনি ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক। এছাড়াও দায়িত্ব পালন করেন বুড়িচং উপজেলা সমিতির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও বুড়িচং ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ঢাকা’র যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও এখনো বুড়িচং ব্রাহ্মপাড়ার আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিয়ে তিনি ভাবেন। এজন্য প্রতিষ্ঠা করছেন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উন্নয়ন গবেষণা পরিষদ। পড়াশুনা শেষে দেশ গঠনে মনোনিবেশ করতে চান এই প্রতিভাবান সূর্যসন্তান।

আরো পড়ুনঃ
error: Content is protected !!